)
Puri Rath Yatra 2025: 'রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহা ধুমধাম, ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম'...গত শুক্রবার ছিল পুরীর ঐতিহাসিক রথযাত্রা (Puri Rath Yatra 2025)। ফি-বছরের মতোই ছিল লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড়। রথযাত্রা উপলক্ষে সেজে উঠছে পুরীর জগন্নাথ মন্দির। জগন্নাথদেবের রথ নন্দীঘোষ, বলরামের রথ তালধ্বজ এবং সুভদ্রার রথ দর্পদলন তৈরি ছিল। ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবে শামিল ছিলেন বিশ্বের ২০ জন সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় থাকা এক ভারতীয়ও! তিনি শিল্পপতি গৌতম আদানি (Gautam Adani)। যিনি ৬৮০ কোটি টাকার মালিক।
রথযাত্রায় তাঁর গৌতমের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী প্রীতি আদানি ও পুত্র করণ আদানি। আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান, জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার শোভাযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত যাবতীয় আচার-অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। মন্দিরে পরিবেশিত প্রসাদ তৈরিতেও আদানির পরিবার অংশ নিয়েছিল। ন'দিনের এই উৎসবে আদানি গ্রুপ তীর্থযাত্রী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে। আদানি ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে বিরাট পরিসরে খাবার বিতরণ, পানীয় জলের ব্যবস্থা, কর্মীদের জন্য সুরক্ষা সরঞ্জাম। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আদানি।
এই বছরের শুরুতে প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলার সময়েও একই রকমের কাজ করেছিল আদানির সংস্থা। তীর্থযাত্রীদের খাদ্য বিতরণ এবং পরিষেবা প্রদানে সহায়তা করেছিল। ২৬ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত, আদানি গোষ্ঠী স্বেচ্ছাসেবক এবং ফ্রন্টলাইন কর্মীদের সেবায় দিচ্ছেন আনুমানিক ৪০ লক্ষ মিল। ঠান্ডা পানীয়ও সরবরাহ করা হচ্ছে। পুরী জুড়ে স্থাপিত একাধিক নির্ধারিত কাউন্টারের এগুলি বিতরণ করা হচ্ছে। খাবার এবং জল ছাড়াও পৌর কর্মীদের ফ্লুরোসেন্ট জ্যাকেট, স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য টি-শার্ট দিচ্ছে। এছাড়াও নিরাপত্তা কর্মী এবং ভক্তদের জন্য জ্যাকেট, ক্যাপ এবং ছাতা -সহ বর্ষাতি বিতরণ করেছে। পুরী বিচ লাইফগার্ড মহাসংঘের সঙ্গে যুক্ত লাইফগার্ডরাও লজিস্টিক সহায়তা পাচ্ছেন।
তবে এবার পুরীর রথযাত্রায় ঘটেছে বিপত্তি। লাখ, লাখ ভক্তের সমাগমের কারণেই জগন্নাথদেবের রথ পুরী মন্দিরের চত্বর থেকে বেরোতেই পারেনি। দাঁড়িয়ে থেকেছিল মন্দির চত্বরেই। জানা গিয়েছে, জগন্নাথদেবের রথের রশিতে টান পড়তেই ব্যারিকেডের ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন শ'খানেকেরও বেশি লোকজন। আর তার জেরেই থামিয়ে দেওয়া হয় রথ। রীতি মেনে কয়েক ইঞ্চি শুধু এগোয় জগন্নাথদেবের রথ নন্দীঘোষ। কিন্তু তারপর ভিড়ের কারণে আর এগোতে পারে না জগন্নাথদেবের রথ।
ওদিকে সূর্যাস্তের পর আর রথযাত্রা হয় না। তাই সন্ধে পৌনে ৬টা নাগাদ সূর্যাস্তের পর বলভদ্র ও সুভদ্রার রথ খানিক এগোনো হলেও, জগন্নাথদেবের রথ নন্দীঘোষ একচুলও এগোতে পারেনি। এরপর সন্ধে ৭টা বাজতেই রথযাত্রা স্থগিত করে দেওয়া হয়। সারা রাত মন্দির চত্বরেই দাঁড়িয়ে থাকে জগন্নাথদেবের রথ। এই ঘটনাকে মোটেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না পুরী মন্দিরের সেবাইত থেকে ভক্তরা। এই 'অঘটনে' তাঁরা ঘোর অশনিসংকেত দেখছেন!গতকাল মাসির বাড়ি পৌঁছতে না পারায়, আজ সকালে ফের আরতির মধ্যে দিয়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা শুরু হয়েছে পুরীতে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)