)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালাল বলে অভিযোগ গুজরাট পুলিস। শনিবার আহমেদাবাদ ও সুরাট থেকে ১,০০০-র বেশি বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে। আহমেদাবাদ থেকে অন্তত ৮৯০ জন এবং সুরাট থেকে ১৩৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। সুরাট শহরে এই অভিযান শনিবার ভোরবেলায় চালানো হয়।
বিভিন্ন থানার পুলিস, স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG) এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চ (DCB)-এর যৌথ দল এই অভিযানে অংশ নেয়। আটকদের যাচাইয়ের জন্য সিটি পুলিস হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। এক সিনিয়র পুলিস আধিকারিক বলেন, "তাদের নথিপত্র যাচাইয়ের পর বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। এদের পরিবারের সদস্যদেরও দেশে ফেরত পাঠানো হবে।" অনেকেরই পশ্চিমবঙ্গের বৈধ ভোটার কার্ড, আধার কার্ড আছে, কিন্তু তাও সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। হঠাৎ করে বেআইনি অনুপ্রবেশকারী তকমা লাগিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ কাজের জায়গায় যেতে ভয় পাচ্ছেন, কেউ বা আবার রাতে ঘুমোতে পারছেন না।
এরপরই এ বিষয়ের সরব হয় তৃণমূল। এদিন ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'আমরা যারা বাংলা ভাষায় কথা বলি তারা ভারতীয় কি ভারতীয় নয় এটা আগে মোদীবাবু বলুক, অমিত শাহ বলুক, ডবল ইঞ্জিন সরকার যেখানে আছে সেখানে বাংলা বললেই বাংলাদেশি? এনারা বলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি বাংলাদেশি? দয়া করে ভারতকে ভাঙার চেষ্টা করবেন না, বাংলা না থাকলে স্বাধীনতা আসত না, বাংলাভাষা আমার মাতৃভাষা। সেই ভাষা বলতে বলতে প্রাণ গেলেও চড়ব না, ভারত আমার দেশ, দিল্লি পুলিসের বাপের ক্ষমতা নেই, কি অত্যাচার করছে আমি এই পরিবারটা সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম।'
এমনকী হরিয়ানার গুরুগ্রামে বাঙালিদের উপর বর্বরতা, তৃণমূলের মারাত্মক অভিযোগ। হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর ৬১ ও ৬৪-র বাঙালি বস্তি এলাকা পরিদর্শন করে এসে পুলিশের বিরুদ্ধে চরম অমানবিকতার অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের দুই সাংসদদের দাবি, রাতে নম্বরবিহীন গাড়িতে আসা পুলিসকর্মীরা বস্তির বহু বাসিন্দাকে মারধর করে, তাদের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। এমনকী, বেশ কয়েকজন বাঙালিকে উলঙ্গ করে জিজ্ঞাসা করা হয় —তুমি হিন্দু না মুসলিম? আরও জানতে চাওয়া হয়, কাকে ভোট দাও? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে? যাও, বাংলাদেশ ফিরে যাও!
তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল ঘুরে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে। বুধবার তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে পুরো রিপোর্ট জমা দেবে। প্রতিনিধি দলের সদস্যা প্রতিমা মণ্ডল ও মমতাবালা ঠাকুর জানান, অন্তত তিনজন এখনও নিখোঁজ। স্থানীয়দের সন্দেহ, তাদের খুন করে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে গুরুগ্রাম পুলিস এবং হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য—“বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের হরিয়ানায় কোনো জায়গা নেই।” এই ঘটনায় রাজনৈতিক পারদ চড়ছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)