
রাজীব চক্রবর্তী: এসআইআর (SIR) ইস্যুতে আবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে চলেছে তৃণমূল (TMC in Supreme Court)। বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের ট্রাইবুনাল বৈধ বলে ঘোষণা করলে তাঁদের ভোট দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত-- এই আরজি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নতুন একটি আবেদন জানাতে চলেছে তৃণমূল। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে উল্লেখ করা হল বাংলার এসআইআর (SIR in Bengal) মামলা। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চে উল্লেখ করা হল এই আবেদনের।
অ্যাডজুডিকেশন মনোযোগ দিয়ে করা হয়নি?
সূত্রের খবর, এসআইআর (SIR) ইস্যুতে আবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে চলেছে তৃণমূল। বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের ট্রাইবুনাল বৈধ বলে ঘোষণা করলে তাঁদের ভোট দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত-- এই আরজি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নতুন একটি আবেদন জানাতে চলেছে তৃণমূল। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে উল্লেখ করা হল বাংলার এসআইআর মামলা। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চে উল্লেখ করা হল এই আবেদনের। আবেদনকারীদের আইনজীবী জানান, অনেক আবেদন বাকি আছে, এবং ইসিআই ভোটার তালিকা ৯ এপ্রিলে ফ্রিজ করেছে। এখনও পর্যন্ত দুটি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, সেটাই বলে দেয় যে, অ্যাডজুডিকেশন মনোযোগ দিয়ে করা হয়নি।
আগামী ১৩ এপ্রিল
তৃণমূল দলীয় সূত্রে খবর, আবেদনে জানানো হবে, ভোট গ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যাঁদের নিস্পত্তি করবে, তাঁরা যাতে ভোট দিতে পারেন-- সুপ্রিম কোর্টের কাছে তেমন নির্দেশ প্রার্থনা করবে তৃণমূল। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে আগামী ১৩ এপ্রিল রয়েছে এই মামলার শুনানি। সেদিন নতুন এই আবেদনটির শুনানি চাইবে তৃণমূল। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলাটি।
বৃহত্তর আর্কিটেকচার
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি জানান, আমরা ভোটার তালিকা ফ্রিজ করার বিষয়টি ১৩ এপ্রিল বিবেচনা করব। কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু আদালতে জানান, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার দিন ছিল ৯ তারিখ এবং তার পরে বিবেচনার জায়গা থাকে না। তবে, ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে যায়। বিচারপতি বাগচি জানান, আমরা বৃহত্তর আর্কিটেকচার ভাবছি। নির্বাচনের একটি কাট-অফ তারিখ আছে, এবং তার বাইরেও একটি সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। অধিকারটা হল ভোটার তালিকায় থাকার এবং পরবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার। সেটি অনেক বেশি স্থায়ী এবং বৃহত্তর একটা বিষয়। সিজেআই সূর্য কান্ত জানান, আপনারা তো স্থায়ীভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন না! আবেদনকারীদের আইনজীবী জানান, এই আবেদনকারীরা প্রত্যেকেই পাসপোর্টধারী। সূর্যকান্ত বলেন, আমরা কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে পারছি না, প্রতিদিন ম্যাটার ফাইল হচ্ছে। আবেদনকারীদের আইনজীবী জানান, প্রয়োজন থেকেই আমরা মামলা দায়ের করছি।
সংসদে ঢোকার চেষ্টা
এদিকে এসআইআর (SIR) নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ বাদ-প্রতিবাদ চলছেই। এ নিয়ে হল সংসদে ঢোকার চেষ্টাও। এসআইআর (SIR in Bengal)-এর নামে বাংলার মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে-- এর প্রতিবাদ জানাতে জোর করে দিল্লির সংসদে ঢোকার চেষ্টা। অভিযোগে সৌম্যদীপ গোস্বামী নামে মঙ্গলকোটের তরুণকে পুলিস গ্রেফতার করেছে। বুধবার দুপুরের ঘটনা। সৌম্যদীপের বাবা আলোকতরঙ্গ গোস্বামী এবং মা বুলবুল গোস্বামী দুজনেই মঙ্গলকোটের বিজেপি দলের নেতা। অলোকবাবু বলেন, ঘটনা বুধবার ঘটেছে জেনেছি। এখন আর ছেলের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। ছেলে সাবালক, তাঁর আদর্শ ও চিন্তা নিয়ে আলোকতরঙ্গবাবুর বলার কিছু নেই। সৌম্যদীপ কলকাতার প্রেসিডেন্সি থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর করে একটি বেসরকারি মার্কেটিং কোম্পানির অফিসে কর্মরত। দিল্লি যাওয়ার আগে সৌম্যদীপ সমাজমাধ্যমে বিজেপি সরকারের অনুপ্রবেশকারীদের পুশব্যাক নীতি নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য রেখে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনাও করেন বলে জানা গিয়েছে।
SIR-র বলি
এদিকে রাজ্যে SIR-র বলি আরও এক। ট্রাইবুনালে লাইনে দাঁড়িয়ে বেঘোরে প্রাণ গেল এক বৃদ্ধের। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হল না। ঘটনাটি ঘটেছে নদীয়ার হাঁসখালিতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘক্ষণ ট্রাইবুনালে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন জীবনকৃষ্ণ। এরপর হঠাত্-ই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। শেষে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওই বৃদ্ধকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিত্সকরা। ঘটনায় আকস্মিকতায় রীতিমতো ভেঙে পড়েছেন পরিবারের লোকেরা। এলাকায় শোকের ছায়া। SIR-র খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম। চূড়ান্ত তালিকায় বেরেনোর পরেও 'বিবেচনাধীন' ছিল ৬০ লক্ষ। যাঁদের নাম 'বিবেচনাধীন' তালিকায় ছিল, তাঁদের অনেকের নামই আবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় 'ডিলিটেড'! যেমন এই নদীয়ার হাঁসখালি থানার বগুলা গাড়াপোতা এলাকার বাসিন্দা জীবনকৃষ্ণ বিশ্বাস। অভিযোগ, ভোটার তালিকায় পরিবারের অন্য সদস্যের নাম থাকলেও ষাটোর্ধ্ব ওই বৃদ্ধ ও তাঁর এক মেয়ের নাম বাদ পড়েছে।
ট্রাইবুনালে আবেদনের জন্য
সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী, SIR-য়ে নাম বাদ পড়লে জেলাশাসক ও মহকুমাশাসকের দফতরে গিয়ে ট্রাইবুনালের আবেদন করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ভোটাররা। জীবনকৃষ্ণের পরিবারসূত্রে খবর, ট্রাইবুনালে আবেদন করার জন্য আজ, বৃহস্পতিবার সকালে বগুলা থেকে ট্রেনে রানাঘাটে আসেন জীবনকৃষ্ণ। কিন্তু মহকুমাশাসকের দফতরের বাইরে ততক্ষণে লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছে। সেখানেই হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)