)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মাদকের নেশা ছাড়ানোর জন্য বাড়ির লোকেরা নেশামুক্তি কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলেন যুবককে। কিন্তু সেখানে গিয়ে নতুন নেশার ফাঁদে পড়লেন তিনি। মদ বা মাদক নয়, খাওয়া শুরু করেন স্টিলের চামচ, দাঁত মাজার ব্রাশ থেকে পেন।
পেটে তীব্র ব্যথা অনুভবের পর হাসপাতালে আনা হয়েছিল হাপুড়ের মাদকাসক্তির চিকিৎসা করাতে আসা এক ব্যক্তিকে। পেট থেকে দুটি পেন, ১৯টি টুথব্রাশ এবং ২৯টি চামচ বের করে তার জীবন বাঁচিয়েছেন ডাক্তাররা। দেবনন্দনী হাসপাতালের ডাক্তাররা জানিয়েছেন যে, বুলন্দশহরের বাসিন্দা সচিন নামের এক রোগীকে সেখানকার একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়।
চিকিৎসকেরা এক্স-রে এবং সিটি স্ক্যান করে দেখতেই চমকে ওঠেন। দেখেন পাকস্থলীতে অদ্ভুত কিছু জিনিস আটকে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রোপচার করতেই পেটের ভিতর থেকে ২৯টি স্টিলের চামচ, দাঁত মাজার ১৯টি ব্রাশ এবং পেন উদ্ধার হয়।
তিনি উত্তরপ্রদেশের গাজ়িয়াবাদের বাসিন্দা। মাদকাসক্ত হওয়ায় তাঁর পরিবারের লোকেরা হাপুরের একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে খাবার খুবই সামান্য পরিমাণে দেওয়া হত বলে অভিযোগ। ফলে যুবকের খিদে মিটত না। বাড়ি থেকে যদিও খাবার আসত, তার বেশির ভাগই সচিনের কাছে পৌঁছোত না বলে দাবি। সচিনের কথায়, ‘‘কখনও কখনও দিনে একটা বিস্কুট খেয়েও কাটাতে হত।’’
খিদে মেটাতে তাই অন্য নেশা শুরু করেন সচিন। নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে স্টিলের চামচ চুরি করা শুরু করেন। তার পর শৌচাগারে গিয়ে সেটি দু’টুকরো করে মুখে পুরে নিতেন। তার পর সেটি গিলে ফেলতেন জল গিয়ে। প্রথম প্রথম কষ্ট হত বলে জানিয়েছেন সচিন। তার পর সেটি অভ্যাসে পরিণত হয়। শুধু চামচই নয়, খিদে পেলে দাঁত মাজার ব্রাশ, এমনকি পেনও খেয়ে ফেলতেন।
জানা গিয়েছে যে, নেশামুক্তি কেন্দ্রে পাঠানোয় সেই রোগী ক্ষুব্ধ ছিল এবং রাগের মাথায় স্টিলের চামচ, টুথব্রাশ ও পেন খেতে শুরু করে।
এই অস্বাভাবিক উদ্ধারের ঘটনায় হাসপাতালের কর্মী এবং স্থানীয় মানুষ উভয়েই হতবাক হয়ে গেছেন। এই ঘটনা সকলকে অবাক করে দিয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)