)
রাজীব চক্রবর্তী: জাতীয় গানে কাঁচি! সংসদে নিষিদ্ধ 'জয় হিন্দ', 'বন্দেমাতরম' স্লোগান। রাজ্যসভার সচিবালয়ের বিবৃতিতে বিতর্ক তুঙ্গে। 'বাংলার পরিচয় নষ্ট করে দিতে চায়', কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। সংসদে সাংসদদের কেমন আচরণ হবে? কোন কোন শব্দ ব্যবহার করা যাবে? কোনদিকে তাকিয়ে বক্তব্য পেশ করতে হবে? এসব খুঁটিনাটি বিষয়ে প্রতিবারই বুলেটিন প্রকাশ করে রাজ্যসভা ও লোকসভা সচিবালয়। ব্যতিক্রম ঘটেনি এবারও।
রাজ্যসভার চেয়ারম্যান চেয়ারে বসবেন নতুন উপরাষ্ট্র সিপি রাধাকৃষ্ণণ। রাজ্যসভার সচিবালয়ের তরফে বিবৃতি জানানো হয়েছে, এবার অধিবেশনে 'ধন্যবাদ','আপনাকে ধন্যবাদে'র মতো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। এমকী, বক্তব্যের শুরুতে বা শেষে বলা যাবে না 'জয় হিন্দ', 'বন্দেমাতরম'! যদি কোনও সাংসদ এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে তা নাও যেতে পারে।
এদিকে চলতি বছরেই সারা দেশজুড়ে সাড়ম্বরে বন্দেমাতরমে'র সার্ধশতবর্ষ বা দেড়শো বছর পূর্তি পালন করছে কেন্দ্র। রাজ্য়সভার সচিবালয়ের সাফাই, এটা কোনও নতুন বিষয় নয়। কোনও সাংসদ তাঁর কোন সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় যদি অহেতুক 'জয় হিন্দ' বা 'বন্দেমাতরমে'র মতো স্লোগান ব্যবহার করেন, তাহলে সংসদের সময় নষ্ট হয়। স্লোগানটির মহাত্ম্যও ক্ষুন্ন হয়।
রাজ্য়সভার সচিবালয়ের বিবৃতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'জয় হিন্দ বলা যাবে না সংসদে। বন্দে মাতরম বলা যাবে না। বন্দে মাতরম তো জাতীয় সংগীত। যাঁরা স্বাধীনতা আন্দোলন করেছিলেন, তাঁদের স্লোগান ছিল বন্দেমাতরম। কী করে ভুলে যাচ্ছেন? তার মানে কী বাংলার পরিচয় নষ্ট করতে চায়। ভুলে যাচ্ছে বাংলার ভারতের বাইরে নয়, ভারতেরই অংশ'।
বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষের কটাক্ষ, ' আমরা দেখেছি, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল দল, তারা বিভিন্ন জায়গায় চুরি করে কলার উঁচিয়ে বন্দেমাতরম, বা জয় হিন্দ বলে চলে যায়। জুতো চুরি, চাল চুরি করে তারা এই স্লোগান দেয়। তাতে তো এই কথাটির অমর্যাদা হয়। জানি না, সেই বিষয়ে তেমন কোনও আশঙ্কার কথা ভাবা হয়েছে কিনা'
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)