Operation Mahadev: সূত্রের খবর, সুলেমান এবং হামজ়ার দেহ থেকে দু’টি ল্যামিনেট করা ভোটার আইডি স্লিপ মিলেছে। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন সেগুলি ইস্যু করেছে। পরিচয়পত্রে যে সিরিয়াল নম্বর রয়েছে, তার একটি (এনএ-১২৫) লাহোরের। অন্যটি (এনএ-৭৯) পাকিস্তানেরই গুজরানওয়ালার।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গত ২৮ জুলাই জম্মু ও কাশ্মীরের দাচিগামে ‘অপারেশন মহাদেব’-এর ((Operatiom Mahadev) সময়ে নিহত হয়েছিল তিন জঙ্গি। তারা পহেলগাঁও হামলায় জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। অভিযানের পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পুলিস এবং সেনা যে তথ্য পেয়েছে, তা থেকে প্রমাণিত যে ওই তিন জন পাকিস্তানের নাগরিক। তারা লসকর-ই-তইবার সদস্য ছিল বলেও প্রমাণ মিলেছে। ওই তিন জনের কাছ থেকে পাকিস্তানের ভোটার পরিচয়পত্র, করাচিতে তৈরি চকোলেট এবং একটি মেমারি কার্ড মিলেছে, যাতে তাদের আঙুলের বায়োমেট্রিক ছাপ রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
‘অপারেশন মহাদেব’-এ (Operatiom Mahadev) নিহত হয় তিন জঙ্গি। তারা হল সুলেমান শাহ ওরফে ফয়জ়ল জাট, আবু হামজ়া ওরফে আফগান এবং ইয়াসির ওরফে জিবরান। সুলেমান লশকরের এক জন এ প্লাস প্লাস কমান্ডার ছিল। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সুলেমানই পহেলগাঁও হামলার মূলচক্রী। হামলার অন্যতম প্রধান বন্দুকবাজও ছিল। হামজ়া এবং ইয়াসির এ-গ্রেড লশকর কমান্ডার ছিল। পহেলগাঁওয়ের হামলায় হামজ়া দ্বিতীয় এবং ইয়াসির তৃতীয় বন্দুকবাজ ছিল।
ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ:
কাশ্মীরের দাচিগামে তিন জঙ্গিকে এনকাউন্টারের পরে ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ হিসেবে কী কী মিলেছে, তা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে যৌথ অভিযানকারী সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিস এবং সিআরপিএফ। সূত্রের খবর, সুলেমান এবং হামজ়ার দেহ থেকে দু’টি ল্যামিনেট করা ভোটার আইডি স্লিপ মিলেছে। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন সেগুলি ইস্যু করেছে। পরিচয়পত্রে যে সিরিয়াল নম্বর রয়েছে, তার একটি (এনএ-১২৫) লাহোরের। অন্যটি (এনএ-৭৯) পাকিস্তানেরই গুজরানওয়ালার। অর্থাৎ এক জন লাহোরের ভোটার, দ্বিতীয় জন গুজরানওয়ালার।
মেমরি কার্ড:
জঙ্গিদের স্যাটেলাইট ফোন থেকে একটি মেমরি কার্ড মিলেছে। ফোনটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ওই মেমরি কার্ডে রয়েছে এনএডিআরএ-র (ন্যাশনাল ডেটাবেস অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটি) তথ্য। তা থেকে তিন জঙ্গির বায়োমেট্রিক তথ্যও মিলেছে। কী রয়েছে সেখানে? জঙ্গিদের আঙুলের ছাপ, মুখের অবয়ব, পরিবারের বিষয়ে তথ্য, যা থেকে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে যে, তিন জনেই পাকিস্তানের বাসিন্দা। দু’টি ঠিকানাও মিলেছে সেই মেমারি কার্ড থেকে। একটি ঠিকানা কাসুর জেলার চাঙ্গা মাঙ্গার, দ্বিতীয়টি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটের কোইয়ান গ্রামের।
যেসব প্রমাণ পাওয়া গেছে তার মধ্যে রয়েছে:
ভোটার স্লিপ: পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন দ্বারা জারি করা ভোটার স্লিপ পাওয়া গেছে।
স্যাটেলাইট ফোন ও জিপিএস ঘড়ি: জঙ্গিদের কাছ থেকে একটি জিপিএস ঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘড়ির জিপিএস স্থানাঙ্ক এবং হামলায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ মিলে গেছে।
চকোলেট ও অন্যান্য জিনিসপত্র: পাকিস্তানের জনপ্রিয় ক্যান্ডিল্যান্ড চকোলেট ও অন্যান্য কিছু সামগ্রী পাওয়া গেছে।
ডিজিটাল প্রমাণ: তাদের ডিজিটাল ডিভাইস থেকে মুজফফরাবাদ এবং করাচিতে অবস্থিত নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ মিলেছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তদন্তে আরও জানতে পেরেছে যে জঙ্গিরা ২০২২ সালের মে মাসে নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি পাকিস্তানি পক্ষ থেকে তাদের প্রথম রেডিও চেক-ইন-এর তথ্যও পেয়েছে।
এই হামলা এবং তার পরবর্তী তদন্তের ফলে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে পহেলগাঁওয়ের হামলার পিছনে পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গিদের হাত ছিল এবং তাদের পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI সমর্থন যুগিয়েছিল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)