)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ১০ মিনিটের মুদিখানা ব্লিংকিট (Blinkit) কি এখন মাল্টিটাস্কিং করছে? একটু বিভ্রান্ত হচ্ছেন তো? মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, একটি অনলাইন গ্রোসারি অ্যাপ আবার কী ভাবে মাল্টিটাস্কিং করতে পারে? তাদের কাজ তো কেবল অনলাইনে অর্ডার করা পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া, তাই না? কিন্তু পুণের (Pune Incident) এই যুবকদের কাণ্ড দেখলে আপনার ধারণা বদলে যাবে। তারা ব্লিংকিটকে এমন এক কাজে ব্যবহার করেছেন যা অদ্ভুত,অভাবনীয়, এবং চরম হাস্যকর। কিন্তু এই ব্লিংকিটের ডেলিভারি বয় না থাকলে এই শীতের রাতে (Blinkit saved Pune Man) দুই যুবকের কী পরিণতি হত?
ঘটনাটি ঠিক কী? সম্প্রতি ইন্টারনেটে একটি ভিডিয়ো ভাইরাল (Pune young man viral VDO) হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, পুণের এক যুবক ও তাঁর বন্ধু রাত ৩টের সময় নিজেদের বাড়ির ব্যালকনিতে আটকে পড়েছেন। কোনক্রমে ব্যালকনির দরজার লক ভিতর থেকে আটকে গিয়েছে। সে সময়, পরিবারের অন্য সদস্যরা তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনও লাভ না হওয়ায় এবং অন্য কোনও উপায় না দেখে তাঁরা এক অভিনব বুদ্ধি বের করেন। তারা ব্লিনকিট অ্যাপ থেকে কিছু একটা অর্ডার করেন এই আশায় যে, ডেলিভারি পার্টনার এলে তাকে দিয়ে ব্যালকনির দরজা খোলানো যাবে!
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যায়, ওই বন্ধুরা অত্যন্ত নিচু স্বরে ডেলিভারি বয়কে পুরো পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলছেন। ডেলিভারি পার্টনারও বিষয়টি বুঝতে পেরে সানন্দে তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। ভিডিয়োর পরের অংশে দেখা যায়, আটকে পড়া যুবকরা ভেতর থেকে ডেলিভারি বয়কে ইশারায় বোঝাচ্ছেন কী ভাবে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকতে হবে, যাতে ঘুমন্ত বাবা-মা টের না পান। শেষ পর্যন্ত ডেলিভারি বয় সফলভাবে তাদের উদ্ধার করেন।
ইন্টারনেটে ভিডিয়োটি শেয়ার হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনরা মজাদার সব মন্তব্যে কমেন্ট সেকশন ভরিয়ে দেন। স্বয়ং ব্লিংকিট কর্তৃপক্ষও এই ভিডিয়ো দেখে চুপ থাকতে পারেনি। তারা রসিকতা করে মন্তব্য করেছে, 'এমন ঘটনা কেবল পুণেতেই ঘটতে পারে।'
ইনস্টাগ্রামে 'মিহির গাহুকার' নামক একটি হ্যান্ডেল থেকে ভিডিয়োটি শেয়ার করা হয়েছে, যার ক্যাপশন ছিল— 'এই সালের প্রথম কাণ্ড'। পোস্টটি শেয়ার করার মাত্র একদিনের মধ্যেই ১ লক্ষ ১৯ হাজারের বেশি ভিউ এবং হাজার হাজার লাইক পড়েছে।
নেটিজেনদের কিছু মজার কমেন্ট:
একজন লিখেছেন, 'ভাবুন তো, ডেলিভারি বয়কে ঘরে ঢুকতে দেখে যদি আপনার বাবা-মা জেগে যেতেন, তবে কী হত?'
জনপ্রিয় একটি মিম রেফারেন্স টেনে আরেকজন লিখেছেন, 'ব্লিনকিট মনে মনে বলছে— আমার শক্তির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে!'
অন্য একজন নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখেছেন, 'একবার আমি আমার স্বামীকে ঘুম থেকে জাগানোর জন্য ব্লিনকিটে অর্ডার করেছিলাম। আমি অফিসে ছিলাম আর ও ফোন ধরছিল না। আমি ডেলিভারি বয়কে বলেছিলাম ও যতক্ষণ না ওঠে ততক্ষণ যেন দরজা নক করতে থাকে!'
আরেকজন আবেগপ্রবণ হয়ে মন্তব্য করেছেন, 'আমি দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি, ব্লিংকিট শুধু পণ্য বহন করে না, আমাদের আবেগও বহন করে। তাদের কাছে সব সমস্যার সমাধান আছে।'
এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার আর উপস্থিত বুদ্ধি থাকলে যেকোনও কঠিন বা অদ্ভুত পরিস্থিতি থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে ডেলিভারি পার্টনারের এই সহমর্মিতা নেটিজেনদের মন জয় করে নিয়েছে।