SIR in Bengal: রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এই ১০৬ জন ভোটারের পক্ষে রাজু ঘোষ সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদন পেশ করেছেন। এই মামলার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা এবং ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

রাজীব চক্রবর্তী: ভোটাধিকার রক্ষায় এবার সরাসরি দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন পশ্চিমবঙ্গের ১০৬ জন ভোটার। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে ভোটদানের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি নতুন জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের মূল প্রশ্ন— 'যদি ভোটই দিতে না পারি, তবে ভোটের মুখে ট্রাইব্যুনাল বসিয়ে লাভ কী?'
রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এই ১০৬ জন ভোটারের পক্ষে রাজু ঘোষ সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদন পেশ করেছেন। এই মামলার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা এবং ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আবেদনের প্রেক্ষাপট ঠিক কী?
আবেদনকারীদের দাবি, কোনও কারণ ছাড়াই বা যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই নাম সংশোধনের জন্য যে ট্রাইব্যুনাল বা আইনি ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে, তা অত্যন্ত মন্থর এবং সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এই প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের কাছে তারা নিম্নলিখিত আবেদনগুলো জানিয়েছেন:
জেলা সদরে ট্রাইব্যুনাল গঠন: বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম মূলত কেন্দ্রীয়ভাবে বা বড় শহর কেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামীণ এলাকার মানুষের পক্ষে সেখানে উপস্থিত হওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই প্রতিটি জেলার সদর দপ্তরে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুনানি সম্পন্ন: ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া আবেদনের নিষ্পত্তি হতে মাসের পর মাস সময় লেগে যায়। আবেদনকারীদের দাবি, রিট পিটিশনের মতো নির্দিষ্ট সময়সীমা অর্থাৎ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুনানি শেষ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ভোট গ্রহণের শেষ দিন পর্যন্ত ভোটাধিকার: নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যারা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন, তাদের প্রত্যেককে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
পুরনো তালিকার সঙ্গে যাচাই: মামলার নিষ্পত্তির পর পুরনো ভোটার তালিকা মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভোটদানের বিশেষ ব্যবস্থা করার আর্জি জানানো হয়েছে।
গ্রামীণ সমস্যা
আবেদনকারীদের পক্ষে জানানো হয়েছে, বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন শুনানির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাংলার গ্রামীণ এলাকার সাধারণ ভোটারদের পক্ষে অনলাইন শুনানিতে অংশ নেওয়া বা কারিগরি জটিলতা বোঝা সম্ভব নয়।
আবার কাজের ক্ষতি করে বা যাতায়াতের বিপুল খরচ বহন করে কলকাতায় এসে শুনানি করাও অনেকের সাধ্যের অতীত। তাই ‘ন্যায়বিচার যেন দোরগোড়ায় পৌঁছায়’, সেই লক্ষ্যেই জেলাভিত্তিক ট্রাইব্যুনালের দাবি তোলা হয়েছে।
আইনি লড়াই
আগামী ১৩ এপ্রিল বাংলার এস আই আর (SIR) মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। সেই দিনই এই ১০৬ জন ভোটারের পৃথক আবেদনটি আলোচিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুক্রবার সকালেই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের বক্তব্য, যদি মামলার রায় হতে হতে ভোট পর্ব মিটে যায়, তবে সেই রায়ের কোনো গণতান্ত্রিক মূল্য থাকবে না। তাই মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার বজায় রাখা প্রয়োজন।
গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন
জনস্বার্থ মামলায় আবেদনকারীরা সাফ জানিয়েছেন, ভোটাধিকার কোনো দান নয়, এটি একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। যদি সেই অধিকার প্রয়োগের সুযোগই না থাকে, তবে নির্বাচনের নামে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ট্রাইব্যুনালের শুনানি যেন কেবল একটি আইনি আনুষ্ঠানিকতা হয়ে না দাঁড়ায়, বরং তা যেন প্রকৃত অর্থেই ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়—শীর্ষ আদালতের কাছে এটাই এখন ১০৬ জন ভোটারের প্রধান প্রত্যাশা।
১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়, তার ওপর নির্ভর করছে রাজ্যের হাজার হাজার বাদ পড়া ভোটারের ভাগ্য। আদালতের রায় যদি আবেদনকারীদের পক্ষে যায়, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি ঐতিহাসিক নজির তৈরি হতে পারে।