)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে IAS বা IPS অফিসার হওয়া হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন। তাদের মধ্যেই একজন বাংলার পরমিতা মালাকার। ২০২৩ সালে UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা উত্তীর্ণ হন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমে, তিনি দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করার পাশাপাশি UPSC-র প্রস্তুতি চালিয়ে অবশেষে নিজের ষষ্ঠ চেষ্টায় সফল্য।
UPSC পরীক্ষায় ২০২৩-এ তিনি অল ইন্ডিয়া ৮১২ র্যাঙ্ক করেন। পরমিতা মালাকার ২০১২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স-সহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার জন্য বিপিও-তে চাকরি নেন। কিছু মাস বিপিও-তে কাজ করার পর টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এ কর্পোরেট জগতে পা রাখেন।
টানা ৭ বছর সেখানে কাজ করার পর সেই চাকরি ছেড়ে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াতে যোগ দেন। পরে, ২০২০ সালে তিনি সরকারি চাকরিতে সফল হন এবং একজন সাব-ডিভিশনাল ইনফরমেশন অ্যান্ড কালচারাল অফিসার (SDICO) হিসেবে নিযুক্ত হন।
২০১৮ সালে পরমিতা মালাকার TCS-এ কাজ করার সময় থেকেই UPSC-এর প্রস্তুতি শুরু করেন। দিনে ১২ ঘণ্টার কাজের চাপের মধ্যেও তিনি পড়াশোনার সময় বের করার চেষ্টা করেন। তবে, সময়ের অভাবের কারণে তাঁর প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, যা তাঁকে ভীষণভাবে মনঃক্ষুণ্ণ করে তোলে এবং নিজের ক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান করে তোলে। তবে এই আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থেকেই তিনি বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসতে শুরু করেন, যা ধীরে ধীরে তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
৩০ বছর বয়সে পরমিতা মালাকার বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় বসতে শুরু করেন—যেমন LIC, ব্যাঙ্ক PO, রেলওয়ে, এবং পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা। ২০২২ সালে তাঁর জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। শুধুমাত্র SDICO পদে নিয়োগপ্রাপ্তই হন না, পাশাপাশি UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রিলিমস ও মেইনসেও সফল হন। এর ফলস্বরূপ, ২০২৩ সালে তাঁর UPSC-তে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়া নিশ্চিত হয়।
পরমিতা মালাকারের মতে, পরিকল্পনামাফিক পড়াশোনার অভাব ও ঘন ঘন চাকরি পরিবর্তনের কারণে তাঁর পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট সময় বের করাটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। UPSC 2022-এর প্রস্তুতির সময় তিনি পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নপত্রগুলি সমাধানের উপর জোর দেন, যার ফলে তিনি প্রথমবারের জন্য প্রিলিমস পরীক্ষায় সফল হন। তাঁর মতে, মক টেস্টই ছিল এই সাফল্যের গেম চেঞ্জার।
UPSC মেইনসের শুরুতে তিনি একাই পড়াশোনা করতেন, তবে সে সময় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। এরপর ২০২৩ সালের মেইনস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তিনি কলকাতার একটি কোচিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন এবং মোট ২৮টি মক টেস্ট দেন, যা তাঁর পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটায়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)