ED Arrested I-PAC Co-Founder Vinesh Chandel: প্রায় ৫০ কোটি টাকা পাচারের হদিস মিলেছে। তল্লাশিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার ইডির। কে এই ভিনেশ চান্ডেল আইপ্যাকের কো-ফাউন্ডার এবং ডিরেক্টর?

রাজীব চক্রবর্তী: অর্থ তছরুপ মামলায় সোমবার রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে আইপ্যাক-এর ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলকে। রাতেই আইপ্যাক কর্তা বিনেশ চান্ডেলকে দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্টে পেশ করা হয়। রাতভর শুনানির পর বিচারক শেফালি বারনালা ট্যান্ডন ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সূত্রে খবর, সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ৩৩ শতাংশ শেয়ারহোল্ডারও তিনি।
দিল্লি পুলিসের এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে ইডি। তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগ, হিসাব বহির্ভূত ও অঘোষিত অর্থের লেনদেন, ব্যবসায়িক কারণ দেখিয়ে অসুরক্ষিত ঋণ নেওয়া, ভুয়ো বিল তৈরি, হাওয়ালার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন এবং দেশ-বিদেশে হাওলা চক্রের কার্যকলাপ চালিয়েছে সংস্থাটি। ইডির দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি টাকা পাচারের হদিস মিলেছে। এই মামলায় অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং তল্লাশিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে।
কে এই ভিনেশ চান্ডেল?
ভিনেশ চান্ডেল আইপ্যাকের কো-ফাউন্ডার এবং ডিরেক্টর। প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরে তৈরি হওয়া পলিটিক্যাল কনসালটেন্সি ফার্ম 'আই-প্যাক'-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি।
ভিনেশ ভোপালের এনএলআইইউ (NLIU) থেকে আইনের স্নাতক। সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছেন এবং সুপ্রিম কোর্টে ওকালতি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। গত ১১ বছর ধরে মোদী থেকে মমতা— একাধিক হাই-প্রোফাইল নির্বাচনী প্রচারের নেপথ্যে কৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে তৃণমূলের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি তৈরির অন্যতম কারিগর ধরা হয় তাঁকে।
সরব অভিষেক:
অন্যদিকে, ভিনেশের গ্রেফতারিতে সরব হয়েছেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, 'বাংলার ভোটের ঠিক ১০ দিন আগে আই-প্যাক কর্তা ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারি মোটেও স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এটা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে।'
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) April 13, 2026
প্রসঙ্গত, ইডির তরফে বলা হয়েছে প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্টে(PMLA) গ্রেফতার করা হয়েছে আইপ্যাক কর্তাকে। চান্ডেলের বাড়ি, শাপাশি আই-প্যাকের আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ঋষি রাজ সিংয়ের বেঙ্গালুরুর বাড়ি এবং প্রাক্তন আম আদমি পার্টির (AAP) যোগাযোগ প্রধান বিজয় নায়ারের মুম্বইয়ের বাড়িতে ২ এপ্রিল ইডি (ED) তল্লাশি চালায়। সেই তল্লাশিতে বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৮ জানুয়ারি এই মামলার তদন্তে কলকাতায় আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম পরিচালক প্রতীক জৈনের কলকাতার বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এর পরেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খোদ ছুটে যান আইপ্যাকের অফিসে। সেখান থেকে কিছু ফাইল তুলে আনেন। এনিয়ে মামলাও হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)