)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২১ নভেম্বর, দুবাইয়ে এয়ার শোয়ের মহড়া চলাকালীন ভেঙে পড়ে ভারতীয় বায়ুসেনার 'উড়ন্ত ছোরা' তেজস (Tejas Crashed at Dubai Air Show)। প্রাণ হারান উইং কমান্ডার নামাংশ সিয়াল। যদিও গত ২৪ বছরে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ভেঙে পড়ল তেজস, কিন্তু দুবাইয়ের ঘটনার পরই সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার পিছনে সামনে আসা নানাবিধ তত্ত্ব। যার খানিক মনগড়া, খানিক ভিত্তিহীন। প্রসঙ্গত, ভেঙে পড়ার আগের দিনই তেজস থেকে তেল লিকের গুজব ছড়ায় (Tejas Oil Leak Rumour)। আর তারপর দিনই এই দুর্ঘটনা যেন গুজবে আরও ঘি ঢালে। তবে এবার সামরিক বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায় উঠে এল তেজসের ভেঙে পড়ার আসল কারণ (Why Tejas Crashed Explained)।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুবাই এয়ার শো-তে তেজসের পড়া এমন একটি ট্র্যাজেডি যা মুহূর্তের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। শুরু হয়ে যায় তাকে ঘিরে রাজনীতি। সবাই আগুনের গোলা দেখেছে, মরুভূমির আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখেছে, কিন্তু দুর্ঘটনার আসল প্রেক্ষাপটটাই মানুষের অজানা (Why Tejas crashed at Dubai Air Show)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এয়ার শো-তে উড়ান এমনিতেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সেখানে যুদ্ধবিমানগুলির সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়। যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধবিমানগুলির কদর বাড়ে। মানুষ মুগ্ধ হয়। কিন্তু এই সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রদর্শন-ই ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে পাইলটদের জীবন (Demonstration routines are pushed to their extremes)।
এক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই ঘটেছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত তেজসটি নেগেটিভ-জি উড়ানে (negative-G manoeuvre) ছিল। কিন্তু সেই ম্যানুভারটি অত্যন্ত কম উচ্চতায় করা হয়েছিল (flown too low)। যার ফলে নেগেটিভ-জি উড়ান থেকে 'রোল আউট'(jet rolls out) করে নেমে এসে, যুদ্ধবিমানটি আবার উঠে আসার মতো পর্যাপ্ত উচ্চতা পায়নি। আর তার জেরেই মাটিতে আছড়ে পড়ে ও দুর্ঘটনা ঘটে (aircraft never had the altitude to recover)। এটাই হলো কঠোর বাস্তব। উচ্চতার হিসেবের সামান্য ভুলচুকেই যে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম উচ্চতায় নেগেটিভ-জি ম্যানুভারের (negative-G manoeuvres) ক্ষেত্রে কখনওই কোনও ভুল সংশোধনের কোনও সুযোগ নেই। কারণ যখনই যুদ্ধবিমানটি রোল-আউট (jet rolls out) নীচের দিকে নামতে থাকে, তখন তার উল্লম্ব অবতরণের হার অত্যন্ত বেশি থাকে। সেই মুহূর্তে পৃথিবীর তাবড় পাইলটদেরও হাতে থাকে মাত্র কয়েক সেকেন্ড, বা কখনও কখনও সেকেন্ডের ভগ্নাংশ। তাই তেজস মাটিতে আঘাত করে ফেলে, আর ইজেকশন প্রক্রিয়া শুরুর কোনও সুযোগ-ই পায় না।
বিশেষজ্ঞদের সাফ ও স্পষ্ট বক্তব্য, তেজসের দুর্ঘটনা না তো কোনও সিস্টেম ব্যর্থতা ছিল, না তেজসের নকশা সংক্রান্ত কোনও ত্রুটির কারণে। কোনও কাঠামোগত সমস্যাও ছিল না। এয়ার শোয়ে কম উচ্চতায় নেগেটিভ-জি ম্যানুভার-ই (negative-G manoeuvres) ডেকে আনে বিপদ ও মর্মান্তিক পরিণতি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)