)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court) সম্প্রতি স্ত্রীর খোরপোশ মামলা (Maintenance Case) খারিজ করে দিয়েছে এবং জানিয়েছে যে, একজন শিক্ষিতা এবং আর্থিকভাবে সক্ষম মহিলার আইনত নিজের ভরণপোষণ করতে সক্ষম হওয়া উচিত, এবং 'আর্থিক স্বাধীনতা' কেবল একটি বিকল্প হতে পারে না। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত এই নীতিকে সমর্থন করেছে যে, CrPC ধারার ১২৫-এর অধীনে রক্ষণাবেক্ষণ কেবল তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারে না, যারা ইচ্ছা করে কর্মহীন থাকেন তাদের জন্য নয়।
স্ত্রীর রক্ষণাবেক্ষণ দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টের রায় দিয়েছে, আয় প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় স্ত্রীর আবেদন খারিজ।
এক মহিলা তাঁর স্বামীর কাছ থেকে ৩০,০০০ রক্ষণাবেক্ষণ দাবি করেন — ২০,০০০ নিজের জন্য এবং ১০,০০০ তাঁদের নাবালিকা সন্তানের জন্য। স্বামী ভারতীয় রেলওয়েতে কর্মরত এবং মাসিক আয় ৫৫,০০০ বলে দাবি করা হয়।
বৈবাহিক ইতিহাস:
বিয়ে: ২৭ নভেম্বর ২০০৯ (হিন্দু রীতিতে)
সন্তান জন্ম: ২৮ আগস্ট ২০১০
স্ত্রীর অভিযোগ: বিয়ের পর থেকেই শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের শিকার, যার ফলে তিনি শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে মায়ের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হন।
আদালতে আবেদন:
CrPC-এর ১২৫ ধারায় রক্ষণাবেক্ষণ চেয়ে আবেদন। স্ত্রী জানান, তিনি উত্তরপ্রদেশের একটি সরকারি স্কুলে অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে ₹১০,০০০ আয় করেন, যদিও ITR-এ ₹৪,০০,০০০ বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে।
ফ্যামিলি কোর্টের রায়:
সন্তানের জন্য ১৬,০০০ মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ মঞ্জুর। স্ত্রীর জন্য রক্ষণাবেক্ষণ খারিজ।
দিল্লি হাইকোর্টে আপিল:
স্ত্রী দাবি করেন, তাঁর মাসিক আয় ১০,০০০, যার মধ্যে ৫,০০০ ভাড়া দিতে হয়। স্বামীর আয় ৬০,০০০–৭০,০০০ এবং তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। স্বামী পাল্টা বলেন, স্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ি ছেড়েছেন এবং প্রকৃত আয় গোপন করেছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ:
বিচারপতি স্বর্ণ কান্ত শর্মা বলেন, স্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি শিক্ষা বিভাগে অস্থায়ীভাবে কর্মরত। ২০১৬ সালের বেতনপত্রে ৩৩,০৫২ এবং ২০১৭–১৮ সালের ITR-এ ৪,০০,৭২৪ বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে।তিনি বর্তমান আয় ১০,০০০ বললেও কোনো সাম্প্রতিক বেতনপত্র বা Form-16 জমা দেননি। আদালত মনে করে, এই তথ্য গোপন এবং প্রমাণ না দেওয়ার ফলে তাঁর দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
রায়:
'স্ত্রীর রক্ষণাবেক্ষণ দাবি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ তিনি নিজেকে রক্ষণাবেক্ষণ করতে অক্ষম — এই মূল উপাদানটি সন্তোষজনকভাবে প্রমাণ করতে পারেননি।'
সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে আদালতের মতামত:
সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণ অধিকার পিতামাতার বিবাদের বাইরে। স্বামী Northern Railways-এ কর্মরত, মাসিক আয় ৫৮,০০০। ১৬,০০০ রক্ষণাবেক্ষণ সন্তানের শিক্ষাগত, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের জন্য যথাযথ।
স্বামীর অন্য কোনও বড় আর্থিক দায় নেই বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
চূড়ান্ত রায়:
'ফ্যামিলি কোর্টের যুক্তিগুলি আইনসঙ্গত ও যথাযথ। তাই, উভয় আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র খারিজ করা হল।'
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)