)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২৩ বছরের প্রেমিককে খুনের অভিযোগ। পুলিসের ধারণা, এটি অনার কিলিং। কিন্তু প্রেমিকা মানতে নারাজ যে, তাঁর ভালোবাসার মানুষ আর নেই। তাই মৃত প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে সারলেন তরুণী।
প্রেমিক সক্ষমের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর প্রেমিকা আঁচল তাঁর বাড়িতে পৌঁছান। শেষকৃত্যের আগে আঁচল বর-কনের কিছু প্রথাগত রীতি পালন করেন। তিনি সক্ষমের গায়ে হলুদ লাগান, তারপর নিজের সিঁথিতেও সিঁদুর পরেন। উপস্থিত লোকজন জানান, আঁচল প্রতিজ্ঞা করেন যে তিনি সারা জীবন সক্ষমের বাড়িতেই থাকবেন—মৃত্যুর পরেও তার সঙ্গেই থাকবেন। এ ঘটনার পর আঁচল হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। জোর গলায় তিনি বলেন, 'সক্ষমের মৃত্যু হলেও আমাদের ভালোবাসা জিতে গেল, আর হেরে গেল আমার বাবা, ভাইরা।'
— Kᴀʙᴇᴇʀ - (@Autokabeer) December 1, 2025
ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের নান্দেড় জেলার ইত্বারা থানার অধীনে মিলিন্দ নগরে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেবেলা ঘটনাটি ঘটে। পুলিস জানায়, সক্ষম টাতে এবং আঁচল তিন বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন। বন্ধুত্ব থেকেই তাদের সম্পর্ক গভীর হয়। সক্ষম আঁচলের বাড়িতে প্রায়শই যেতেন। কিন্তু দুইজন ভিন্ন জাতের হওয়ায় আঁচলের পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তদন্তকারীরা বলছেন, এই আপত্তিই শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় রূপ নেয়।
একাধিকবার সক্ষমকে হুমকিও দিয়েছিল আঁচলের বাবা গজানন মামিদ্বর। গত বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা আঁচলের বাবা, ভাই সাহিল মামিদ্বর এবং হিমেশ মামিদ্বর-সহ আরও বেশ কয়েকজন মিলে সক্ষমকে ইটওয়ারা এলাকার মিলিন্দ নগরের এক জায়গায় ডেকে বেধড়ক মারধর করে। সক্ষমের মা জানিয়েছেন, ঘটনার পর তিনি সেখানে পৌঁছে দেখেন, ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। জানা যায়, সক্ষমকে প্রথমে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাকে গুলি করা হয় এবং আক্রমণের পর পাথর দিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আঁচল স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিজের দাদার মাধ্যমে নয়, ইনস্টাগ্রামে সক্ষমের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি জানান, তার পরিবারের সদস্যরাই সক্ষমের সঙ্গে মিশত। আঁচল বলেন, 'তারা তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করত, একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করত। তাকে বোঝাত যে সব ঠিক আছে। আমরা কেউই ভাবিনি যে এমন কিছু হয়ে যাবে।'
স্পেশাল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসের অন্তর্ভুক্ত আঁচল বলেন, তার পরিবার তাকে বলেছিল যে সক্ষম একজন 'জয় ভীমওয়ালা'—অর্থাৎ এমন একজন দলিত, যিনি একে অপরকে 'জয় ভীম' বলে সম্বোধন জানান। তিনি বলেন, 'একদিন বাবা সক্ষমকে বলেছিলেন, আমাকে বিয়ে করতে চাইলে তাকে আমাদের ধর্ম, হিন্দু ধর্মে আসতে হবে। সক্ষম আমাকে বিয়ে করার জন্য সবকিছু করতে রাজি ছিল। কিন্তু এরপর কী হল, আমি জানি না।'
পুলিসদের উসকানি:
আঁচল আরও অভিযোগ করেছেন যে পুলিস ধীরাজ কোমলওয়ার এবং মাহিত আসারওয়ার তার ভাইদের উসকানি দিয়েছেন। জানা গেছে, আঁচলের পরিবারের সদস্যদের আগেও অপরাধের ইতিহাস আছে। তিনি বলেন, 'সাক্ষমকে যেদিন খুন করা হয় সেদিন সকাল ১১টার দিকে আমার ছোট ভাই আমাকে থানায় নিয়ে যায় এবং বলে সক্ষমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিতে। আমি রাজি হইনি। তখন পুলিস আমার ভাইকে বলে, 'তুমি তো লোক মেরে এখানে আসো। তোমার বোন যার সঙ্গে সম্পর্ক আছে, তাকে কেন মারছ না?' আমার ভাই জবাব দেয়, 'ঠিক আছে, আমি সন্ধ্যের মধ্যে তাকে মেরে এসে আপনাদের দেখাব।'
আঁচল প্রশ্ন করেন, 'যদি পুলিস এমন আচরণ করে, তাহলে মানুষ তাদের ওপর কীভাবে ভরসা করবে?' জানা গেছে, সক্ষমেরও কিছু পূর্ব অপরাধের রেকর্ড ছিল।
বৃহস্পতিবার কী ঘটেছিল?
সেদিন সন্ধ্যেবেলা সক্ষম তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে ছিল। তখন আঁচলের ভাই হিমেশ মামিদওয়ার সেখানে এসে ঝগড়া শুরু করে, যা পরে মারামারিতে রূপ নেয়। অভিযোগ, হিমেশ সক্ষমকে গুলি করে। গুলিটি তার পাঁজরে লাগে। এরপর হিমেশ একটি টাইল তুলে সক্ষমের মাথায় মারে। এতে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পুলিস হিমেশ, তার ভাই সাহিল, তাদের বাবা গজানন মামিদওয়ারসহ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে খুন, বেআইনি ভিড় তৈরি, দাঙ্গা এবং এসসি/এসটি অ্যাট্রোসিটি আইন ও আর্মস অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)