)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'তোমার গায়ের রং কালো'! গর্ভবতী তরুণী তথ্যপ্রযুক্তিকর্মীর উপর অকথ্য মানসিক নির্যাতন। সেইসঙ্গে পণের অত্যাচার। শেষমেশ ঘর থেকে মিলল ২৭ বছর বয়সী গর্ভবতী ওই তরুণী প্রযুক্তিবিদের নিথর দেহ। মৃতার নাম শিল্পা পঞ্চাঙ্গমুথ। হুব্বালির বাসিন্দা শিল্পা বিয়ের আগে ইনফোসিসে কর্মরত ছিলেন।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর সেই চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয় শিল্পাকে। মাত্র আড়াই বছর হয়েছিল বিয়ে হয়েছে শিল্পার। দেড় বছরের একটি ছেলেও আছে শিল্পার। কিন্তু তারপরেও শিল্পার উপর অকথ্য মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন তাঁর স্বামী প্রবীণ। প্রবীণ নিজেও একজন ওরাকল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। বিয়ের আগে একটি ভালো সফ্টওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কিন্তু বিয়ের পর আচমকাই নিজের চাকরিটা ছেড়ে দেন।
চাকরি ছেড়ে স্বামী প্রবীণ ফুচকা বিক্রি করতে শুরু করেন। পানিপুরি ব্যবসায় যোগ দেন। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, ৪ মাস আগে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে। প্রবীণের সঙ্গে ঝগড়ায় শিল্পা বাপের বাড়ি চলে এসেছিলেন। তখন থেকেই শিল্পা গর্ভবতী ছিলেন। তাঁরা বুঝিয়ে শিল্পাকে ফেরত পাঠান। এখন শিল্পার শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জানায় যে, শিল্পা নাকি 'আ*ত্মঘাতী' হয়েছে। কিন্তু মৃতার পরিবারের দাবি, শিল্পাকে খুন করা হয়েছে। কারণ, ফ্যানের নীচে কোনও টুল ছিল না। শিল্পা ফ্যানের কাছেও পৌঁছাতে পারেনি।
শিল্পার বাবা জানান, "আমরা হুব্বালিতে আমাদের ৪০ লক্ষ টাকার বাড়ি বিক্রি করে বিয়ে দিই। সম্প্রতি চিটফান্ডের মাধ্যমে আরও ১০ লাখ টাকা দিই জামাইকে। ২০২২২-র ৫ ডিসেম্বর বিয়ে হয় শিল্পার। বিয়েতে ১৫০ গ্রাম সোনার গয়না ও ঘর-গেরস্থালীর জিনিসও দেওয়া হয়। বিয়ের সময় আমাদের বলা হয়েছিল, ছেলেএকজন ইঞ্জিনিয়ার, কিন্তু বিয়ের পর শুনি জামাই চাকরি ছেড়ে ফুচকা বিক্রি করে!" আর বিয়ের পর থেকেই স্বামী প্রবীণ ও শাশুড়ি শান্তাভা অতিরিক্ত টাকার দাবিতে শিল্পার উপর অত্যাচার করতে শুরু করে।
শিল্পার মা শারদা অভিযোগ করেন, ৬ মাস আগে প্রবীণ তাঁর পানিপুরির ব্যবসা চালানোর জন্য ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। তৎক্ষণাৎ সেই দাবি পূরণ করতে না পারায়, শিল্পাকে বাপের বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। শেষে টাকা জোগাড় করে মেয়েকে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফেরত পাঠাই। কিন্তু মানসিক অত্যাচান, নির্যাতন থামেনি। ৪ মাস আগে, শিল্পার বেবি শাওয়ার নিয়ে ফের শুরু হয় অত্যাচার।
সেইসঙ্গে শিল্পার গায়ের রং নিয়েও তাঁকে নিত্য গঞ্জনা শুনতে হত। অভিযোগ, শিল্পার শাশুড়ি তাঁকে বলেন, "তুমি কালো। আমার ছেলের জন্য উপযুক্ত নও। ওকে ছেড়ে দাও। আমরা ওর জন্য আরও ভালো পাত্রী খুঁজে বের করব।" মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস পণের জন্য নির্যাতন ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)