জানেন কী ভারতের ভুতুরে জায়গাগুলির নাম? ১০টি ভুতুড়ে জায়গা যা এখনও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। বিভিন্ন ভৌতিক কারণে ভারতের এই স্থানগুলি খুবই বিখ্য়াত।
1/12ভারতের প্রাচীন দূর্গ গোড়া থেকেই পর্যটকদেরই আকর্শণ করে আসছে। অনেকে আবার এই সব দূর্গ ভুতুড়ে বলেও মনে করেন। এবং মানুষ বিশ্বাসও করেন। শুধু কেল্লা বা দূর্গই নয় ভারতে এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে ভূত আছে বলে মানুষ মনে করেন। এখানে এমন দশটি জায়গার তালিকা রইল,যেখানে আপনি যেতে পারেন। অথবা এড়িয়েও চলতে পারেন।
2/12১. ভানগড় দূর্গ, রাজস্থান- রাজস্থানের আলওয়ারে অবস্থিত ভানগড় দূর্গকে ভারতের অন্য়তম ভৌতিক স্থান হিসবে ধরা হয়। কথায় আছে সিংঘিয়া নামক এক তান্ত্রিক এই দূর্গকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। স্থানীয়দের দাবি সন্ধ্য়ার পর এখান থেকে চিত্কার শোনা যায়। এমনকি ছায়াও নাকি দেখা যায়। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সূর্যাস্তের পর এই কেল্লায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। তবে দিনের বেলায় এখানে পর্যটকদের আনাগোনা দেখা যায়।
3/12২.কুলধারা গ্রাম,রাজস্থান- জয়সলমিরের কাছে অবস্থিত পরিত্য়ক্ত গ্রাম, কুলধারা। এই গ্রামকে ঘিরে অনেক গল্পই শোনা যায়। কথায় আছে, একসময় এখানে পালিওয়াল ব্রাহ্মণরা বসবাস করতেন। তবে এক রাতেই হঠাত্ গ্রাম ছেড়ে চলে যান তাঁরা। শোনা যায়, গ্রামের প্রধানের কন্য়াকে এক অত্য়াচারী মন্ত্রীর হাত থেকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ। তবে যাওয়ার আগে এই গ্রামকে অভাশাপ দিয়ে যান, যাতে আর কখনো কেউ এখানে বসবাস না করতে পারে। তবে এই স্থান পর্যটকের জন্য় সারাদিন খোলা থাকে। অনেক পর্যটকরা এখানে পায়ের আওয়াজ, এছাড়া অনেক অস্বাভাবিক ঘটনার সামনাসামনি হন। রাজস্থান সরকার দ্বারা এই জায়গা রাতে প্রবেশে নিষেধ।
4/12৩.ডুমাস বিচ, গুজরাট- সুরাট শহরের উপকন্ঠে অবস্থিত ডুমাস বিচ কালো বালি এবং ভুতুড়ে পরিবেশের জন্য় পরিচিত। এক সময় এই জায়গা শ্মশানভূমি হিসেবে ব্য়বহৃত হতো। এই সমুদ্রতটে ফিসফিস শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। এমনকি মানুষ রহস্য়জনকভাবে উধাও হয়ে যায়। দিনের বেলা এই ডুমাস বিচ জনপ্রিয় হলেও, সূর্যাস্তের পর এখানে স্থানীয়দের মতে না যাওয়াই ভালো। অনেকেই বলেন সমুদ্র তটে হাঁটার সময় মনে হয় কেউ যেন নজর রাখছে। ফলে এই রহস্য়ময় সমুদ্রতট পর্যটকের অন্য়তম পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
5/12৪. অগ্রসেন কি বাওলি, দিল্লি- এটি একটি সিঁড়ি-ঘাট যা দিল্লির অন্য়তম পর্যটনকেন্দ্র। এই অসাধারণ স্থাপত্য়ে রয়েছে ১০৮টি সিঁড়ি। এই সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে যাওয়া যায়। এই যায়গাটিও অভিশপ্ত বলে মনে করা হয়। অনেকে বলেন নিচে নামার সময় কালো জলে ঝাঁপ দেওয়ার অদ্ভুত তাগিদ লক্ষ্য় করা যায়। ফিসফিস আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন পর্যটকরা।
6/12৫. রামোজি ফিল্ম সিটি,হয়দরাবাদ- এই ফিল্ম সিটি নিজামের যুদ্ধক্ষেত্রের উপর নির্মিত। হয়দরাবাদের এই ফিল্ম সিটি বিশ্বের অন্য়তম বৃহত্ স্টুডিও কমপ্লেক্স। এই স্টুডিও অনেকের মতে ভুতুড়েও। শুটিংয়ের লাইট পড়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতির অকারণে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া, বিভিন্ন অদ্ভুত কান্ড শোনা যায়। এছাড়া আয়নার উপর উর্দুতে লেখা ভেসে ওঠা, মেকআপ রুমের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পোশাক অকারণে ছিঁড়ে যাওয়া, অনেক ঘটনাই শোনা যায়। তবে এই ফিল্ম সিটিতে এখনও শুটিং চলে।
7/12৬. ডি'সুজা চাউল, মুম্বাই- মাহিমে অবস্থিত এই ডি সুজা চাওল। লোকোকথা অনুযায়ী এই এলাকায় এক মহিলার আত্মা ঘোরাফেরা করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাতের বেলায় এই আত্মা ঘোরাফেরা করে এবং ভোরের আগেই অদৃশ্য় হয়ে যায়। এই জায়গাটি মানুষের কাছে অন্য়তম রহস্য়ময় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
8/12৭. শনিবারওয়াড়া কেল্লা, পুনে- এই কেল্লাতে রাজপুত্র নারায়ণরাওয়ের নির্মম হত্য়া করা হয়েছিল। এই কারণেই এই কেল্লা এখন ভুতুড়ে বলে পরিচিত। মৃত্য়ুর আগে তিনি 'কাকা মালা বাচওয়া'(কাকা আমাকে বাঁচান) বলে চিত্কার করেছিলেন। এই চিত্কার পূর্ণিমার রাতে এখনও কেল্লায় শোনা যায়।
9/12৮. ডাউ হিল, কার্সিয়াং- জঙ্গল ও কুয়াশায় ঘেরা কার্সিয়াংয়ের ডাউ হিলকে ভারতের অন্য়তম ভৌতিক স্থান বলে মনে করা হয়। শোনা যায়, ভিক্টোরিয়া বয়েস স্কুলের আশেপাশে এক মস্তকহীন ছেলের আত্মা ঘোরা ফেরা করে। স্কুলের ফাঁকা করিডরে পায়ের শব্দ শোনা যায়। স্কুলটি সচল থাকলেও, চারিপাশটি পর্যটকদের জন্য় উন্মুক্ত। পর্যটকরা এখান থেকে ফেরার পথে অজানা শঙ্কা নিয়ে ফেরেন।
10/12৯. জাতিংগা, অসম- অন্য়ান্য় ভুতুড়ে জায়গা গুলির মতো নয় অসমের জাতিংগা। এই স্থানটি কোনও আত্মার কারনে ভৌতিক নয়। প্রাকৃতিক ভাবেই রহস্য়ময় এই জায়গাটি। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর, অক্টোবর মাসের চাঁদহীন রাতগুলোতে শত শত পাখি হঠাত্ নিচে পড়ে গিয়ে মৃত্য়ু বড়ণ করে। বহু গবেষণার পরেও এই রহস্য়ের কিনাড়া এখনও মেলেনি। এই অস্বাভাবিক ঘটনাই এই জায়গাটিকে বিখ্য়াত করে তুলেছে।
11/12১০. লাম্বি দেহার খনি, মুসৌরি- মুসৌরির কাছে পরিত্য়ক্ত খনিগুলি এক করুণ ইতিহাস বহন করে। ১৯৯০-র দশকে, খারাপ খনন পরিবেশের কারণে হাজার হাজার শ্রমিক শ্বাসকষ্টে মারা যান। স্থানীয়দের মতে সেই শ্রমিকদের আত্মাই এখনও এই জায়গায় ঘোরাফেরা করে। মাঝেমাঝেই আর্তনাদ শোনা যায় এই খনি থেকে। তবে এখানে যে কেউ যেতে পারে। তবে সূর্যাস্তের পর না যাওয়ারই পরামর্শ দেন স্থানীয়রা।
12/12এই স্থানগুলি লোককথা ও রহস্য়ে ভরপুর। এখনও ভ্রমণপিপাসুদের আকর্শন করে এই ভৌতিক কাহিনি। তবে এই জায়গাগুলিতে যাওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।