Hooghly Fish Fair News: তারপরেই অবাক কাণ্ড, জলাশয় থেকে মেলে মাছের পর মাছ... কী সেই অলৌকিক ঘটনা?
1/7বিধান সরকার: হাজার হাজার কেজি মাছ ফুরিয়ে যায় চোখের নিমেষে। রাঘব বোয়াল থেকে টুনা লালমোহন, শংকর থেকে পোনা মাছ কিনতে ঘুম থেকে উঠেই সেই মেলায় ভিড় জমান ক্রেতারা।
2/7নানা ধরনের মাছের সম্ভারে জমজমাট কেষ্টপুরের মাছের মেলা। আনুমানিক ৫১৯ বছরের পুরনো এই মাছের মেলা। প্রতিবছর ১লা মাঘ এই মেলা হয়। রঘুনাথ দাস গোস্বামীর বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় বসে মেলা। মেলায় মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসেন অন্য দোকানিরাও। জিলিপি, বাদাম, ঝুড়ি, পিঁড়ি, কুলো থেকে মনোহারী সবই পাওয়া যায় মেলায়।
3/7মেলায় ৫০ কেজি ওজনের শংকর থেকে ৩৫ কেজি ওজনের কাতলা! ৪০ কেজির ভোলা, ৫ ফুটের বান! বিভিন্ন ওজনের রুই, আড়, ইলিশ, ভেটকি, বোয়াল... মাছের এলাহি সম্ভার। নানা ধরনের কাঁকড়াও বিক্রি হয়।
4/7জানা যায়, মেলা শুরু হয়েছিল গোবর্ধন গোস্বামীর ছেলে রঘুনাথ দাস গোস্বামী বাড়িতে ফিরে আসার খুশিতে। সে সময় কেষ্টপুরের জমিদার ছিলেন গোবর্ধন গোস্বামী। তাঁর ছেলে রঘুনাথ দাস সন্ন্যাস নেওয়ার কারণে সংসার ত্যাগ করেছিলেন। তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর শিষ্য ছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভুর পারিষদ নিত্যানন্দের কাছে দীক্ষা নেবেন বলে পানিহাটিতে যান রঘুনাথ।
5/7তখন তার বয়স মাত্র ১৫ হওয়ায় তাকে তখন দীক্ষা দেননি নিত্যানন্দ। দীর্ঘ ৯ মাস পর বাড়ি ফিরে আসেন রঘুনাথ। সেই আনন্দে বাবা গোবর্ধন গোস্বামী গ্রামের মানুষকে খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। গ্রামের মানুষ তাঁর ভক্তির পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কাঁচা আমের ঝোল ও ইলিশ মাছ খাওয়ার আবদার করে।
6/7তিনি ভক্তদের বলেন, বাড়ির পাশে আম গাছ থেকে জোড়া আম পেড়ে আনতে। মাছের জন্য পাশের জলাশয়ে জাল ফেলার নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী জাল ফেলা হয়। তার পরেই অবাক কাণ্ড, জলাশয় থেকে মেলে মাছের পর মাছ। সেই থেকে প্রতি বছর ভক্তরা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে পুজো দিতে ভিড় জমান এই দিনে। পাশাপাশি মাছের মেলার আয়োজন হয়।
7/7দূর দূরান্ত থেকে বহু মাছ ব্যবসায়ী মাছের পসরা নিয়ে বসেন। হুগলি ছাড়াও মেলায় আসেন বর্ধমান, হাওড়া, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া থেকে বহু মাছ বিক্রেতা। অনেকে আবার শীতের আমেজে মেলা থেকে মাছ কিনে পাশের আম বাগানে বন ভোজনের আয়োজন করে থাকেন। সব মিলিয়ে একদিনের মেলায় জমজমাট হয়ে ওঠে কেষ্টপুর।