Cyclone Horacio: হোরাসিও-র বিশেষত্ব হল এটি কত দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সমুদ্রের জলের উপরিভাগের উচ্চ তাপমাত্রার কারণে এই ঝড়টি অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে শক্তি সঞ্চয় করে
1/6গতিই বলে দিচ্ছে কতটা ভয়ংকর হতে পারে ভারত মহাসাগরে তৈরি হওয়া সাইক্লোন হোরাসিও। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই ঘূর্ণিঝড়ের গতি গিয়ে পৌঁছেছে ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটারে। সিম্পসন স্কেল অনুযায়ী কোনও ঝড়ের গতি ২৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে তাকে বলা হয় ক্যাটিগোরি ৫ সাইক্লোন। ফলে হোরাসিওকে বলা হচ্ছে ক্যাটিগোরি ৫ সাইক্লোন।
2/6ঘূর্ণিঝড় হোরাসিও (Horacio) তৈরি হয়েছে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের গভীরে। জনবসতি বা বড় ভূখণ্ড থেকে অনেকটাই দূরে হওয়ার কারণে বিরাট ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আপাতত অনেকটাই কম। অন্যান্য ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের মতোই এটিও উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপর একটি নিম্নচাপ বলয় হিসেবে দানা বেঁধেছিল। তবে দ্রুত তা নিজের মূর্তি ধারণ করেছে।
3/6হোরাসিও-র বিশেষত্ব হল এটি কত দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সমুদ্রের জলের উপরিভাগের উচ্চ তাপমাত্রার কারণে এই ঝড়টি অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে শক্তি সঞ্চয় করে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় 'র্যাপিড ইনটেনসিফিকেশন'। জলবায়ু বিজ্ঞানীদের কাছে এটি বর্তমানে বেশ মাথাব্যথার কারণ।
4/6এই ঝড়টি ভারত মহাসাগরের অনেক দক্ষিণে বর্তমানে অবস্থান করছে। ভারতের উপকূলরেখা থেকে এটি অনেকটাই দূরে। সাধারণত ভারত সেইসব ঘূর্ণিঝড় দ্বারা প্রভাবিত হয় যেগুলো বঙ্গোপসাগর বা আরব সাগরে তৈরি হয়। দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের ঝড়গুলো ভারতের ওপর প্রভাব ফেলে না।
5/6এছাড়া, ঘূর্ণিঝড় সাধারণত এক গোলার্ধ থেকে অন্য গোলার্ধে যায় না। বিশ্বের বায়ুপ্রবাহের ধরন এবং তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে এই ঝড়গুলো সাধারণত নির্দিষ্ট অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকে। এই কারণেই হোরাসিও-র ভারতের সমুদ্রসীমায় ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা তেমন নেই বললেই চলে।
6/6যদিও 'হোরাসিও' অনেক দূরে, তবুও ভারত এই ধরনের বড় ঘূর্ণিঝড়গুলোর ওপর কড়া নজর রাখে। কারণ, ভারত বিশ্বের অন্যতম ঘূর্ণিঝড়প্রবণ দেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত বেশ কিছু শক্তিশালী ঝড়ের কবলে পড়েছে। ২০১৯ সালে ঘূর্ণিঝড় ফণী (Fani) ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার শক্তি নিয়ে ওড়িশায় ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল। এছাড়া গুজরাটসহ বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর সংলগ্ন উপকূলীয় রাজ্যগুলো সবসময়ই এমন তীব্র ঝড়ের ঝুঁকিতে থাকে। বিশ্বের অন্য প্রান্তের শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলো নিয়ে পড়াশোনা করলে ভারতীয় সংস্থাগুলোর জন্য সুবিধা হয়। এতে ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া, দ্রুত সতর্কবার্তা পাঠানো এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষমতা আরও উন্নত হয়।