Dharmasthala mass-burial case: 'গাছে দোপাট্টা দিয়ে বাঁধা মেয়ের দে*হ, কোনও কাপড় নেই, শরীরে... পেরে উঠিনি দোদ্দাভারুর সঙ্গে লড়াইয়ে...' ধর্মস্থল গণকবর-ধ*র্ষ*ণ-খু*নের একের পর এক হাড়হিম সত্যি ফাঁস...

Written BySUDESHNA PAUL
Published: Jul 21, 2025, 01:04 PM IST|Updated: Jul 21, 2025, 01:04 PM IST

Dharmasthala mass-burial case the horrifying accounts of victims family: ধর্ষণ-খুন থেকে জীবন্ত পুড়িয়ে খুন! পবিত্র তীর্থস্থান আসলে কতটা 'অপবিত্র' এবার সেই মুখোশ খোলার পালা। ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা মুখ ফুটে জানিয়েছেন ২০০৩ সালে ধর্মস্থলে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া অনন্যা ভাটের মা। গায়ে কাটা দিয়ে ওঠা মেয়ের নারকীয় খুনের কথা বলেছেন ২০১২ সালে ওই ধর্মস্থল থেকেই নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ২ বোনের মা। এরা কেউ-ই পেরে ওঠেননি 'দোদ্দাভারু'র সঙ্গে লড়াইয়ে! কে এই 'দোদ্দাভারু'? 

DhaDharmasthala mass-burial case1/15

ধর্মস্থল গণকবর, শয়ে শয়ে নারীর কংকাল, ধর্ষণ ও খুনের হাড়হিম সত্যি....

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দশকেরও বেশি সময় ধরে চলেছে ধর্ষণ, খুন, কবর ও দেহ লোপাটের পালা। সামনে এসেছে কর্নাটকের ধর্মস্থলের গণকবরের হাড়হিম সত্যি। আর তারপরই নেত্রাবতী নদীর তীরে অবস্থিত ধর্মস্থলকে ঘিরে তোলপাড় সারা দেশ।

Dharmasthala mass-burial case2/15

ধর্মস্থল গণকবর, শয়ে শয়ে নারীর কংকাল, ধর্ষণ ও খুনের হাড়হিম সত্যি....

ধর্মস্থল মন্দির, কর্নাটকের একটি বিখ্যাত তীর্থস্থান। কর্নাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলায় নেত্রাবতী নদী ও পশ্চিমঘাট পর্বতমালার ঘন জঙ্গলের উপকণ্ঠে অবস্থিত এই ধর্মস্থল মন্দির সারা দেশের মধ্যে অন্যতম পবিত্র হিন্দু তীর্থস্থান বলে পরিচিত। এখানেই আছে স্বামী মঞ্জুনাথের মন্দির। বহু পুণ্যার্থী এখানে পুণ্যলাভের আশায় সারা বছর ছুটে আসেন। র্তীর্থস্থান দর্শনের টানে আসেন ভ্রমণার্থীরাও।

Dharmasthala mass-burial case3/15

ধর্মস্থল গণকবর, শয়ে শয়ে নারীর কংকাল, ধর্ষণ ও খুনের হাড়হিম সত্যি....

সেই পবিত্র ধর্মস্থলেই মিলেছে ১০০-রও বেশি গণকবর। উদ্ধার হয়েছে নারীদেহের কংকাল। মন্দিরের প্রাক্তন সাফাইকর্মীর অভিযোগের পরই ধর্মস্থলকে ঘিরে মাথাচাড়া দিয়েছে দশকেরও বেশি সময় ধরে ধামাচাপা দিয়ে রাখা ভয়ংকর সব কাহিনী। ওই সাফাইকর্মী, কবর খুঁড়ে বের করে এনেছেন কংকাল। তাঁর দাবি, ৫০০-রও বেশি বডি তিনি সরিয়েছেন। হয় কবর দিয়েছেন, নয়তো নেত্রাবতী নদীর জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে সেই বডি। মৃতদেহগুলির শরীরে অন্তর্বাসটুকুও ছিল না। শরীরে হিংস্র যৌন নির্যাতনের চিহ্ন ছিল স্পষ্ট। 
Dharmasthala mass-burial case4/15

ধর্মস্থল গণকবর, শয়ে শয়ে নারীর কংকাল, ধর্ষণ ও খুনের হাড়হিম সত্যি....

এমনই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা মুখ ফুটে জানিয়েছেন ২০০৩ সালে ধর্মস্থলে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া অনন্যা ভাটের মা। জানিয়েছেন ২০১২ সালে ওই ধর্মস্থল থেকেই নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ২ বোনের মা। ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরী যখন নিখোঁজ হয়ে যায়, তখন সে শ্রী ধর্মস্থল মঞ্জুনাথেশ্বর কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল।

Dharmasthala mass-burial case5/15

ধর্মস্থল গণকবর, শয়ে শয়ে নারীর কংকাল, ধর্ষণ ও খুনের হাড়হিম সত্যি....

২০১২-র অভিশপ্ত ৯ অক্টোবরের কথা মনে করে শিউরে ওঠেন ওই কিশোরীর মা। জানান, তাঁর ৫ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান ছিল ওই কিশোরী। দেরি হয়ে যাওয়ায় কিছু না খেয়েই তাড়াতাড়ি কলেজের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল মেয়ে। সেদিন ছিল হোসা-আক্কি উৎসব- প্রথম ফসল কাটার উৎসব উদযাপনের দিন। যেখানে নতুন চাল, নারকেলের দুধ এবং গুড় দিয়ে একটি খাবার তৈরি করা হত। 

Dharmasthala mass-burial case6/15

ধর্মস্থল গণকবর, শয়ে শয়ে নারীর কংকাল, ধর্ষণ ও খুনের হাড়হিম সত্যি....

বাড়িতে বলে গিয়েছিল যে বাইরে খাবে না, বাড়িতে খেতে আসবে। এমনকি বন্ধুদেরও তাই বলেছিল ওই কিশোরী। কিন্তু মেয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন দোপাট্টা ও কলেজের পরিচয়পত্রের ফিতে দিয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল ওই কিশোরীর দেহ। দেহের উপরের অংশে কোনও কাপড় ছিল না। পাঁজরের হাড় ছিল ভাঙা। শরীরে একাধিক কাটা দাগ।

Dharmasthala mass-burial case7/15

ধর্মস্থল গণকবর, শয়ে শয়ে নারীর কংকাল, ধর্ষণ ও খুনের হাড়হিম সত্যি....

এই ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন অত্যন্ত ক্ষমতাশালী হেগাড়ে পরিবারের সদস্য নিশ্চল জৈনের দিকে। ওদিকে এই হেগাড়ের পরিবারেরই সদস্য বীরেন্দ্র হেগাড়ে রাজ্যসভার সাংসদ। তাঁকে বলা হয় 'দোদ্দাভারু' মানে 'বড় মানুষ' ও 'ধানিগালু' মানে 'মালিক'। প্রবল ভয় থেকেই সাধারণ লোকেরা তাঁকে এই উপাধি দিয়েছেন বলে জানা যায়। অভিযোগ, নিশ্চল জৈন বীরেন্দ্র হেগাড়ের-ই ভাগ্নে। এই নিশ্চল জৈন, মল্লিক জৈন, উদয় জৈন এবং ধীরজ জৈন মিলে কিশোরীকে গণধর্ষণ ও খুন করে। মল্লিক জৈন, উদয় জৈন এবং ধীরজ জৈন মন্দির প্রশাসনের সঙ্গেই যুক্ত। 
Dharmasthala mass-burial case8/15

ধর্মস্থল গণকবর, শয়ে শয়ে নারীর কংকাল, ধর্ষণ ও খুনের হাড়হিম সত্যি....

ওই কিশোরীর পরিবারের পুরুষরা ৪ প্রজন্ম ধরে ধর্মস্থল মন্দিরেরই মাহুতের কাজ করে আসছিলেন। কিন্তু ওই কিশোরীর বাবা তাঁদের ৪০০ বছরের পুরনো বাড়িটি যে জমির উপর, সেই জমি মন্দিরকে দিতে অস্বীকার করাতেই, ১৭ বছরের ওই কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের পর খুন করা হয়। এমনকি এরপর ওই কিশোরীর বাবা ও বোনকেও হত্যা করা হয়। সেই খুনের ঘটনায় ওই কিশোরীর মা পুলিসের কাছে অভিযোগ করলে, বাড়িতে গিয়ে তাঁদের হুমকি দিয়ে আসেন বীরেন্দ্র হেগড়ের ভাই হর্ষেন্দ্র।

Dharmasthala mass-burial case9/15

ধর্মস্থল গণকবর, শয়ে শয়ে নারীর কংকাল, ধর্ষণ ও খুনের হাড়হিম সত্যি....

৭৬ বছর বয়সী বাবু গৌড়া, ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নেত্রাবতী নদীর তীরে যাঁর দোকান, তিনি স্মৃতি হাতড়ে বলছেন ধর্মস্থলের চারপাশে গণকবর দেওয়ার ভয়ংকর কাহিনী। বলছেন, জঙ্গলে গ্রামবাসীরা যখন মলত্যাগ করতে যেত তখন মাঝে মাঝেই মৃতদেহ পাওয়া যেত। কোনও কোনও মৃতদেহ বন্য শূয়োর, গোসাপ অর্ধেক খেয়েও ফেলত। মৃতদেহগুলি কেবল মাটির ঢিবি দিয়ে ঢাকা থাকত। এলোমেলোভাবে দেওয়া সেই কবরের মাটি হালকা বৃষ্টিতেই ধুয়ে যেত। তখনই বেরিয়ে আসত মাটির নীচে চাপা দেওয়া ভয়ংকর সত্যি। এমনকি তাঁর দোকানে আসা মন্দিরের সাফাইকর্মীদের কথোপকথনেও মৃতদেহ কবর দেওয়ার কথা শুনতে পেতেন।

Dharmasthala mass-burial case10/15

ধর্মস্থল গণকবর, শয়ে শয়ে নারীর কংকাল, ধর্ষণ ও খুনের হাড়হিম সত্যি....

ওদিকে ২০০৩ সালে বন্ধুদের সঙ্গে ধর্মস্থলে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মণিপাল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ছাত্রী, অনন্যা ভাটের মা সুজাটা ভাট কান্নাভেজা চোখে  জানাচ্ছেন,'দোদ্দাভারু'র সঙ্গে লড়াইয়ে কীভাবে তিনি আর পেরে ওঠেননি সেকথা। সুজাতা ভাট কলকাতায় সিবিআইয়ের স্টেনোগ্রাফার ছিলেন। মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর ট্রেনে ধর্মস্থলে পৌঁছাতে ২ দিন সময় লেগেছিল।
Dharmasthala mass-burial case11/15

ধর্মস্থল গণকবর, শয়ে শয়ে নারীর কংকাল, ধর্ষণ ও খুনের হাড়হিম সত্যি....

তিনি বলেন, এরপর পুলিসে বার বার অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তাঁকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। বলা হয়, তাঁর মেয়ে অনন্যা পালিয়ে গিয়েছে! তিনি 'দোদ্দাভারু'রও সাহায্য চান। তিনিও প্রত্যাখান করেন। বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী মন্দিরে আসছেন। সবার খোঁজ তিনি রাখতে পারেন না। এমনকি এও বলেন যে তাঁর মেয়ে হয়তো পালিয়ে গিয়েছে। এরপরই সুজাতা জানাচ্ছেন মেয়ের খোঁজে গিয়ে তাঁর সেই হাড়হিম অভিজ্ঞতার কথা।

Dharmasthala mass-burial case12/15

ধর্মস্থল গণকবর, শয়ে শয়ে নারীর কংকাল, ধর্ষণ ও খুনের হাড়হিম সত্যি....

সুজাতা বলেন, "অসহায় অবস্থায় আমি যখন একটি ভবনের পাশে বসে পড়ি, ঠিক তখনই ৩ জন লোক আমার কাছে আসে। বলে, অনন্যা কোথায় আছে তা তারা জানে। এই অজুহাতে তারা আমাকে তাদের সঙ্গে নিয়ে যায়। তারপরই আমাকে হাত-পা বেঁধে আটকে রাখে। পরদিন ভোরে আমায় হুমকি দেওয়া হয় যে, যদি আমি বাঁচতে চাই, তবে যেন ওই জায়গা ছেড়ে চলে যাই। আমি তা অস্বীকার করলে, আমার মাথার পিছনে ভারী কিছু দিয়ে প্রচণ্ড জোরে আঘাত করা হয়। এরপর ৩ মাস পর আমি কোমা থেকে জেগে উঠি। তখন ম্যাঙ্গালুরুর বাড়িতে ফিরে দেখি, বাড়ি ভাঙা। ভিতরে পুরো তছনছ অবস্থা। সব কাগজপত্র ও ছবি কেউ নিয়ে গিয়েছে ও বাড়ির ভিতরে পুড়িয়ে দিয়েছে।"

Dharmasthala mass-burial case13/15

ধর্মস্থল গণকবর, শয়ে শয়ে নারীর কংকাল, ধর্ষণ ও খুনের হাড়হিম সত্যি....

জানা যায়, ধর্মস্থল মন্দিরকে নিয়ে বিতর্ক আজকের নয়। মন্দির কর্তৃপক্ষকে কেউ চ্যালেঞ্জ করলেই তাঁকে নির্মমভাবে খুন করা হত। ১৯৭৯ সালে ধর্মস্থল পরিচালিত একটি কলেজের শিক্ষিকা তাঁকে উপেক্ষার অভিযোগে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন ও জিতে যান। এঘটনাকে মন্দিরের "শক্তিশালী পরিবারের" কর্তৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়। এরপর ওই শিক্ষিকার স্বামী যখন শহরের বাইরে ছিলেন, তখন তাঁকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়।

Dharmasthala mass-burial case14/15

ধর্মস্থল গণকবর, শয়ে শয়ে নারীর কংকাল, ধর্ষণ ও খুনের হাড়হিম সত্যি....

১৯৮৬ সালে ধর্মস্থল পরিচালিত আরেকটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। পরে নেত্রাবতী নদীর তীরে তার নগ্ন দেহ পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রীর বাবা একজন কমিউনিস্ট নেতা ছিলেন। মন্দির কর্তৃপক্ষের "শক্তিশালী পরিবারের অনুমোদন ছাড়াই" তিনি পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যে কারণে ওই ছাত্রীকে হত্যা করা হয়।
Dharmasthala mass-burial case15/15

ধর্মস্থল গণকবর, শয়ে শয়ে নারীর কংকাল, ধর্ষণ ও খুনের হাড়হিম সত্যি....

দশকেরও বেশি সময় ধরে ধামাচাপা দিয়ে রাখা বিতর্ক, বিক্ষোভ, অভিযোগের ঢেউ এবার 'সুনামি'র আকার নিয়েছে। যে 'সুনামি'র ঢেউ আছড়ে পড়েছে সংসদেও। সংসদে চিঠি দিয়ে ধর্মস্থলে নারী নির্যাতন ও উদ্ধার হওয়া গণকবর নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন সাংসদ। ওদিকে কর্নাটক সরকারও ধর্মস্থল গণকবরের তদন্তে প্রণব মোহান্তির নেতৃত্বে গঠন করেছে সিট। পবিত্র তীর্থস্থান আসলে কতটা 'অপবিত্র' এবার সেই মুখোশ খোলার পালা।