NYC Covered In Snow: আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-এর এই তুষারঝড় আমেরিকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে কার্যত এক রূপালী মরুভূমিতে পরিণত করেছে। নিউ ইয়র্ক সিটি (NYC), বোস্টন, শিকাগো এবং উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে কয়েক ফুট উঁচু তুষারের স্তর জমেছে। প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার কারণে দৃশ্যমানতা (Visibility) শূন্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২০২৬ সালের শুরুতেই এক নজিরবিহীন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক দশকের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে আমেরিকার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে আছড়ে পড়েছে ভয়াবহ তুষারঝড় বা 'ব্লিজার্ড'। আকাশচুম্বী তুষারস্তূপ, হাড়কাঁপানো শীতল হাওয়া এবং বিরল 'থান্ডারস্নো' বা বজ্র-তুষারপাতে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম এই দেশ। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে, প্রশাসন একে 'জীবনদায়ী সংকট' হিসেবে বর্ণনা করে কোটি কোটি মানুষকে ঘরবন্দি থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
1/22পরিবেশবিদদের মতে, এই আকস্মিক বিপর্যয়ের মূল কারণ হলো 'আর্টিক ব্লাস্ট' বা সুমেরু অঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা অত্যন্ত শীতল হাওয়া। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই ধরনের চরম আবহাওয়ার পৌনঃপুনিকতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। হিমাঙ্কের অনেক নিচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রা এবং ঝোড়ো হাওয়া সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
2/22তুষারঝড়ের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমেরিকার আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায়। রানওয়েগুলো পুরু বরফে ঢেকে যাওয়ায় এবং প্রবল বাতাসের কারণে কয়েক হাজার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল করা হয়েছে।
3/22বিমান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিষেবা চালু করা অসম্ভব। এই গণ-বাতিলের ফলে পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
4/22শুধুমাত্র আকাশপথ নয়, সড়ক ও রেলপথের অবস্থাও শোচনীয়। ভারী তুষারপাতের ফলে আন্তঃরাজ্য হাইওয়েগুলোতে যাতায়াত কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বরফে পিছলে গিয়ে অসংখ্য সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে।
5/22বরফের কবলে: নিউ ইয়র্ক সিটি, বোস্টন, শিকাগো এবং সমগ্র উত্তর-পূর্ব আমেরিকা।
বিপর্যয়: হাজার হাজার ফ্লাইট ও ট্রেন বাতিল, ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট, সড়ক যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা।
বিরল ঘটনা: ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে থান্ডারস্নো বা বজ্র-তুষারপাত।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ: জরুরি অবস্থা জারি, ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন এবং ঘরবন্দি থাকার নির্দেশ।
পূর্বাভাস: আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
6/22প্রশাসন বেশ কিছু রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং 'ট্রাভেল ব্যান' বা যাতায়াতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
7/22রেললাইন বরফে ঢেকে যাওয়ায় অ্যামট্র্যাক-সহ (Amtrak) প্রধান ট্রেন পরিষেবাগুলো বাতিল করা হয়েছে।
8/22সিটি সাবওয়ে বা পাতাল রেল পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ায় অফিসযাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
9/22পুলিস ও উদ্ধারকারী দলগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করলেও পিচ্ছিল রাস্তা এবং প্রবল তুষারপাতের কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
10/22এবারের শীতকালীন ঝড়ের (Winter Storm) সবচেয়ে অদ্ভুত এবং রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে নিউ ইয়র্কের আকাশচুম্বী স্থাপত্য ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ওপর। সেখানে দেখা গিয়েছে বিরল 'থান্ডারস্নো' (Thundersnow) বা বজ্র-তুষারপাত।
11/22আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। সাধারণত গ্রীষ্মকালে বজ্রবিদ্যুৎ দেখা গেলেও শীতকালে তুষারপাতের সময় বজ্রপাত হওয়া অস্বাভাবিক। বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতার কারণে তুষারমেঘের ভেতরেই ঘর্ষণ তৈরি হয় এবং বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গ ঘটে।
12/22সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, ঘন তুষারপাতের মাঝেই আকাশ চিরে বিদ্যুতের ঝলকানি আর কানফাটানো মেঘের গর্জন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের চূড়ায় আছড়ে পড়ছে। এই ঘটনাটি নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাত্রা যোগ করেছে।
13/22সরকারের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন বাড়ির বাইরে পা না রাখেন। কিন্তু ঘরের ভেতরেও পরিস্থিতি সুখকর নয়।
14/22তুষারের ভারে এবং প্রবল বাতাসে বহু জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়েছে। ফলে নিউ ইয়র্ক ও বোস্টনের লক্ষ লক্ষ মানুষ অন্ধকারে রয়েছেন।
15/22বিদ্যুৎ না থাকায় হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে হিটিং সিস্টেম বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যা বাসিন্দাদের জীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
16/22স্থানীয় দোকান ও সুপারমার্কেটগুলোতে তুষারপাতের আগেই মানুষের ভিড় উপচে পড়েছিল। বর্তমানে অনেক জায়গায় খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের চরম সংকট দেখা দিচ্ছে।
17/22প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে নিয়মিত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বেশ কিছু রাজ্যে জরুরি অবস্থা (State of Emergency) জারি করা হয়েছে।
18/22উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ তৎপরতা চালানোর জন্য ন্যাশনাল গার্ডকে (National Guard) নামানো হয়েছে।
19/22রাস্তায় জমে থাকা বরফ সরাতে কয়েক হাজার 'স্নো প্লাউ' (Snow Plow) গাড়ি নামানো হয়েছে। পিচ্ছিল রাস্তায় লবণের ছিটা দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
20/22আশ্রয়হীন মানুষদের জন্য বিশেষ শেল্টার হোম বা অস্থায়ী আশ্রয় শিবির খোলা হয়েছে। স্থানীয় মেয়ররা বারবার মাইকিং করে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তার বিষয়ে বাড়তি নজর দিতে বলছেন।
21/22২০২৬ সালের এই ব্লিজার্ড বা তুষারঝড় আবারও প্রমাণ করে দিল যে, প্রকৃতির রুদ্রমূর্তির সামনে আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত পরিকাঠামোও কতটা অসহায় হয়ে পড়তে পারে।
22/22আমেরিকার পরিকাঠামো কী ভাবে এই ধরনের চরম পরিস্থিতি আরও দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আপাতত মার্কিন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হলো এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডা ও তুষারের হাত থেকে মানুষের প্রাণ বাঁচানো।