Awami League Party office in Kolkata: Fact Check: শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ কি কলকাতায় পার্টি অফিস খুলতে চলেছে? জেনে নিন সত্যিটা ...

Published: Aug 11, 2025, 07:46 PM IST|Updated: Aug 11, 2025, 07:46 PM IST

Awami League office in Kolkata: কলকাতা লাগোয়া উপনগরীটাতে শয়ে শয়ে বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স, রাত-দিন লাখ লাখ মানুষের ভিড় সেখানে। ব্যস্ত এই এলাকায় একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে এমন কয়েকজন যাতায়াত করছেন, যাদের কয়েক মাস আগেও সেখানে দেখা যেত না। ওই বাণিজ্যিক পরিসরে যাতায়াত করেন, এমন বেশিরভাগই চেনেন না এই নবাগতদের। চেনার কথাও নয়। তবে এদের অনেকেই মাত্র এক বছর আগেও বাংলাদেশের সবথেকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তারা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলির শীর্ষ এবং মধ্যম স্তরের নেতা। বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটিতে যাতায়াত করছেন কয়েক মাস ধরে, সেখানেই 'দলীয় দফতর' খুলেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই তথ্য কি সত্যি? কলকাতায় আওয়ামী লীগের অফিস রয়েছে মর্মে প্রচারিত মিথ্যা সংবাদ ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগ। 

আওয়ামী লীগ অফিস1/10

আওয়ামী লীগ অফিস

গোপনে কলকাতায় একটি পার্টি অফিস খুলে কাজ চালাচ্ছে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ। বিবিসি বাংলার এই প্রতিবেদন সাড়া ফেলে দিয়েছে দুই বাংলাতেই। এই নিয়ে এবার মুখ খুলল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। 

এই 'পার্টি অফিস'টি নতুন2/10

এই 'পার্টি অফিস'টি নতুন

এর আগে, ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পরের কয়েক মাসে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যারা ভারতে অবস্থান করছেন, তারা নিজেদের মধ্যে ছোটখাটো বৈঠক বা দলীয় দফতরের কাজকর্ম চালাতেন নিজেদের বাসাবাড়িতেই।

বড় বৈঠকগুলি অবশ্য করতে হত কোনো রেস্তরা বা ব্যাঙ্কয়েট হল ভাড়া করে।

সেকারণেই একটা নির্দিষ্ট 'পার্টি অফিস'এর দরকার ছিল বলে জানাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

কর্মীরা দেশে মার খাচ্ছেন, নেতারা কেন ভারতে?3/10

কর্মীরা দেশে মার খাচ্ছেন, নেতারা কেন ভারতে?

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে মাঝে মাঝেই এই প্রশ্ন ওঠে যে আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা যখন দেশে মার খাচ্ছেন, গ্রেফতার হয়ে জেলে যাচ্ছেন, তখন শীর্ষ নেতৃত্বের একটা বড় অংশ কেন ভারতে পালিয়ে আছেন।

কারা যাতায়াত করেন 'পার্টি অফিসে'?4/10

কারা যাতায়াত করেন 'পার্টি অফিসে'?

গত বছরের পাঁচই অগাস্টের পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলির অনেক শীর্ষ নেতা এবং প্রাক্তন মন্ত্রীই কলকাতা বা তার আশপাশের অঞ্চলে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন।

এর বাইরে বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারি কর্মচারী, পুলিশ কর্মকর্তা এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারাও চলে এসেছেন ভারতে। মাস ছয়েক আগে আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানিয়েছিল যে অন্তত ৭০ জন সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জেলার সভাপতি-সম্পাদক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মেয়রসহ শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় দুশো জন কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলে থাকছেন।

এদের কেউ সপরিবারে থাকেন, আবার কোথাও একসঙ্গে কয়েকজন মিলেও একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছেন। কারও পরিবার মাঝে মাঝে বাংলাদেশ থেকে এসেও কিছুদিন কাটিয়ে যান।

কীরকম সেই 'পার্টি অফিস'?5/10

কীরকম সেই 'পার্টি অফিস'?

বাণিজ্যিক পরিসরটির পেছনের দিকের ভবনটির আট তলায় লিফট দিয়ে উঠে বাঁদিকে গেলেই সার দিয়ে বাণিজ্যিক সংস্থার দফতর। করিডোরের দুদিকে হাল্কা বাদামী রঙের একের পর এক দরজা। তারমধ্যেই একটিতে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস।

শুধু বাইরে কেন, পাঁচশো বা ছয়শো স্কোয়ার ফুটের ঘরটিতে উঁকি মারলেও কেউ বুঝতে পারবেন না যে এই ঘরটির সঙ্গে কোনোভাবে আওয়ামী লীগ জড়িত আছে।

কোনো সাইন বোর্ড, শেখ হাসিনা অথবা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ছবি কোথাও নেই ঘরটির বাইরে বা ভেতরে।

আওয়ামী লীগের বিবৃতি6/10

আওয়ামী লীগের বিবৃতি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে যে, দেশি-বিদেশি কিছু সংবাদমাধ্যম ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলেছে মর্মে সংবাদ প্রকাশ করেছে। যা শতভাগ ভিত্তিহীন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচার। এমনকি এ ধরনের সংবাদে সত্যতা নির্মাণে যে ধরনের সূত্র ব্যবহার করতে হয় সেই রকম কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রাথমিক সূত্রের মাধ্যমে যাচাই না করে সম্পূর্ণভাবে গুজবের উপর নির্ভরশীল হয়ে এই সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। 

 

আওয়ামী লীগের বিবৃতি7/10

আওয়ামী লীগের বিবৃতি

আমরা  প্রত্যক্ষ করছি যে,  ভিত্তিহীন এই সংবাদের উপর ভিত্তি করে অবৈধ দখলদার সরকারের পক্ষ থেকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। একদিকে এই অবৈধ দখলদাররা সারা দেশে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর, লুটপাট করেছে, কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবৈধভাবে দখলের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। 

আওয়ামী লীগের বিবৃতি8/10

আওয়ামী লীগের বিবৃতি

আবার অন্যদিকে গুজব ছড়াচ্ছে যে, ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলেছে। ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার প্রশ্নই আসে না। 

আওয়ামী লীগের বিবৃতি9/10

আওয়ামী লীগের বিবৃতি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের জন্য রাজনীতি করে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সবকিছু শতভাগ বাংলাদেশ কেন্দ্রিক। 

আওয়ামী লীগের বিবৃতি10/10

আওয়ামী লীগের বিবৃতি

এই অবৈধ দখলদার সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল অধিকার কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি সমগ্র বাংলাদেশকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। যে কারণে তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগও দিচ্ছে না।