Kolkata hit by cloudburst: গত প্রায় চার দশকে সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতায় এত বৃষ্টি হয়নি! রেকর্ড বৃষ্টির নিরিখে তৃতীয় এবারের বৃষ্টি...
1/7অয়ন ঘোষাল: কলকাতায় রেকর্ড বৃষ্টি। ৬ ঘণ্টায় ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত! কলকাতায় অতি প্রবল এই বৃষ্টি কি আসলে ক্লাউড বার্স্ট? যাকে আমরা বলি, মেঘ ভাঙা বৃষ্টি! কী বলছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা?
2/7কলকাতা আবহাওয়া দফতর বলছে, আবহাওয়া বিজ্ঞানের পরিভাষায় ক্লাউড বার্স্ট বলে কোনও শব্দ নেই। সাধারণত, কোনও একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ১ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টি হলে, সেটাকে ক্লাউড বার্স্ট বলা হয়ে থাকে। আসলে এটা হল মেঘের ব্লকিং বা একই জায়গায় আটকে যাওয়া এবং আর সামনে এগোতে না পারা।
3/7অত্যন্ত শক্তিশালী বজ্রগর্ভ কিউমুলোনিম্বাস মেঘ নিম্নচাপের হাত ধরে দক্ষিণবঙ্গের উপর কাল দুপুরের পর থেকে জমা হচ্ছিল। তবে আনুষঙ্গিক বেশ কিছু কারণে সেগুলি আর হাওড়া জেলা ছাড়িয়ে উত্তরের দিকে যেতে পারেনি। ফলে বেশি সংখ্যক মেঘের ব্লকিং উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মেঘপুঞ্জ তৈরি করে সন্ধে নাগাদ। যে কারণেই রাতে এই পরিমাণ সর্বকালীন রেকর্ড বৃষ্টি হয় কলকাতায়।
4/7শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরেও রেকর্ড বৃষ্টি হয়। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সোনাপুর এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে প্রায় ২৪৭ মিলিমিটার। প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত জনজীবন। এত বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির জলে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জল নামানোর জন্য একাধিক জায়গায় পাম্প চালানো হলেও, জল নামতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে।
5/7রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে- বালিগঞ্জে ৩০০ মিলিমিটার, মুকুন্দপুরে ২৮০ মিলিমিটার, গড়িয়াহাটে ২৬২ মিলিমিটার, যাদবপুরে ২৫৮ মিলিমিটার, কসবায় ২৪৬ মিলিমিটার, আলিপুরে ২৪৭ মিলিমিটার, ভবানীপুরে ২৪৩ মিলিমিটার, সন্তোষপুরে ২২৭ মিলিমিটার, বেহালায় ২১৫ মিলিমিটার, মানিকতলায় ২১৩ মিলিমিটার, কাঁকুড়গাছিতে ২৫৬ মিলিমিটার, সল্টলেকে ২৭৮ মিলিমিটার, নিউটাউনে ২৩৪ মিলিমিটার।
6/7পরিসংখ্যান বলছে, গত প্রায় চার দশকে সেপ্টেম্বর মাসে আলিপুরে একদিনে এত বৃষ্টি হয়নি। এত বৃষ্টি সেপ্টেম্বরের কলকাতা দেখেছিল, ৭৮ এবং ৮৬ সালে। ১৯৭৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ৩৭০ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল আলিপুরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ বৃষ্টি হয়েছিল ২৬০ মিমি। আর এবার গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টি ২৫১.৪ মিলিমিটার।
7/7প্রবল বৃষ্টির জেরে কলকাতার ৮০টি রাস্তা এখনও জলমগ্ন। ইতিমধ্যেই কলকাতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮। ৭ জন বিদুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছে। একজনের দেহ জলে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। বেহালা ১, হরিদেবপুর ১, গরফা ১, গড়িয়াহাট ১, বেনিয়াপুকুর ১, শেক্সপিয়র সরণি ১, একবালপুর ১ এবং নেতাজিনগরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।