Indian Spy Ravindra Kaushik: পাক গুপ্তচরদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখায়, ভারতীয় ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রাকে নিয়ে যখন দেশ তোলপাড়, ঠিক তখনই অনেকের মনে পড়ে যাচ্ছে রবীন্দ্র কৌশিকের কথা...
1/9পাকিস্তানের গুপ্তচরদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার অভিযোগে গ্রেফতার ভারতীয় ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রা। তাঁর কুকীর্তির তদন্তে এখন এনআইএ ও আইবি। ভারতে থেকে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতায় যখন জ্যোতির খবরে নেটপাড়া সরগরম, ঠিক তখনই অনেকের মনে পড়ে যাচ্ছে রবীন্দ্র কৌশিকের নাম!
2/9RAW-র সবচেয়ে মূল্যবান গোপন সম্পদ ছিলেন রবীন্দ্র। ভুয়ো পরিচয়ে বছরের পর বছর পাকিস্তানে কাজ করেছেন এই ভারতীয় গুপ্তচর। রবীন্দ্রর পাঠানো গোয়েন্দা তথ্যে প্রায় ২০০০০ ভারতীরর জীবন বেঁচেছে! এমনই ছিলেন রবীন্দ্র।
3/9রবীন্দ্র ১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বাবা জেএম. কৌশিক ছিলেন একজন ভারতীয় বিমানবাহিনীর আধিকারিক। গঙ্গানগরের এসডি. বিহানি পিজি কলেজ থেকে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শেষ করে বি.কম পাশ করেন। কৌশিক কলেজে পড়ার সময়ই থিয়েটার অভিনয় এবং বিতর্ক সভার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
4/9২৩ বছর বয়সে কৌশিককে নিয়োগ করে ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা- রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং ওরফে 'র'। অভিনয় দক্ষতা এবং জনসাধারণের সামনে পারফর্ম করার ক্ষমতাই তাঁকে গুপ্তচরবৃত্তির এক আদর্শ প্রার্থী করে তুলেছিল। প্রশিক্ষণের সময়ে তাঁকে ঊর্দু, ইসলামি রীতিনীতি এবং পাকিস্তানি সামাজিক রীতিনীতিও শেখানো হয়েছিল। নতুন ভূমিকায় উজাড় করে দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের ভূগোল এবং সংস্কৃতি নিবিড় অধ্যয়ন করেছিলেন।
5/9'র', রবীন্দ্রকে নবি আহমেদ শাকির নামেই পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল। তাঁর ভারতীয় পরিচয়ের সমস্ত প্রমাণ মুছে ফেলা হয়েছিল। নবি করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা করে পাক সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে মেজর পদেও উন্নীত হয়েছিলেন। আমানত নামের এক স্থানীয় মহিলাকে বিয়ে করেন এবং বাবা হন।
6/9১৯৭৯ থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে, নবি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে গোপন সামরিক তথ্য পাঠিয়ে ছিলেন। তাঁর পাঠানো তথ্যে বেশ কয়েকটি আন্তঃসীমান্ত ঘটনা রুখে দিয়েছিল। নবি হাজার হাজার জীবন বাঁচিয়েছিলেন বলেই মনে করা হয়। তাঁর সেবায় মুগ্ধ হয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাকে 'দ্য ব্ল্যাক টাইগার' কোড নাম দিয়েছিলেন।
7/9১৯৮৩ সালে কৌশিকের পরিচয় সামনে আসার পরেই তাঁর মিশন শেষ হয়ে যায়। 'র'-এর হয়ে ইনায়াত মাসিহাকে পাঠানো হয়েছিল রবীন্দ্রর সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের সময় কৌশিকের আসল পরিচয় বেরিয়ে আসে। পাকিস্তান রবীন্দ্রকে গ্রেফতার করে এবং ১৯৮৫ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। যদিও পরে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।
8/9শিয়ালকোটের এক ইন্টারোগেশন সেন্টারে তিনি দু'বছর টানা নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং আরও ১৬ বছর মিয়ানওয়ালি কারাগারে কাটিয়ে ছিলেন। ২০০১ সালে রবীন্দ্র নিউ সেন্ট্রাল মুলতান কারাগারে ফুসফুসের যক্ষ্মা এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁকে কারাগারের পিছনেই সমাহিত করা হয়েছিল।
9/9ভারতের মাটিতে যখন এক পাকি গুপ্তচরের গ্রেফতারের ঘটনায় ঝড় উঠেছে, তখন রবীন্দ্রর গল্প ঠিক তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে। কোনও স্বীকৃতি ছাড়াই বছরের পর বছর পাকিস্তানে থেকে ভারতের সেবা করেছেন। তাঁর গল্প ইতিহাসে থেকে যাবে...