Heatwave alert in India: আবহাওয়া বিভাগ (IMD) গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় ‘অরেঞ্জ’ এবং ‘রেড’ অ্যালার্ট জারি করেছে। দুপুরের রোদে বাইরে বের হওয়া বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। লু-হাওয়া এবং আর্দ্রতার কারণে হিট স্ট্রোক ও শরীরে জলের অভাবে (ডিহাইড্রেশন) ঝুঁকি বাড়ছে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের তুলনায় কম হওয়ায় তাদের ওপর এই গরমের প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই শিক্ষা বিভাগ জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সারা ভারত জুড়েই অস্বাভাবিক আবহাওয়া। গ্রীষ্মের শুরুতেই ভারতের অনেক রাজ্যে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ বা ‘হিটওয়েভ’-এর কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে স্কুলগামী শিশুদের ওপর। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসন স্কুলের সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। অনেক জায়গায় স্কুলের সময় কমিয়ে আনা হয়েছে, আবার কোথাও পঠন-পাঠন কেবল সকালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
1/26তীব্র গরমের কবলে পড়া রাজ্যগুলোর মধ্যে ওড়িশা অন্যতম। এখানে তাপমাত্রা অনেক জেলায় ৪৩-৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
2/26পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর ওড়িশা সরকার ঘোষণা করেছে যে, রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুল এখন থেকে সকালের শিফটে চলবে।
3/26সাধারণত সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বেলা ১০টা বা সাড়ে ১০টার মধ্যে স্কুলের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা দুপুরের কড়া রোদ ওঠার আগেই বাড়ি ফিরতে পারছে।
4/26পশ্চিমবঙ্গেও আবহাওয়া চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
5/26শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা ভেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অনেক আগেই এগিয়ে এসেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষা দফতর স্কুলগুলোতে গরমের ছুটি এগিয়ে আনার কথা বিবেচনা করছে।
6/26অনেক বেসরকারি স্কুল ইতিমধ্যেই অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করেছে অথবা সকাল ১১টার মধ্যে স্কুল ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
7/26শিক্ষার্থীদের টিফিনের সময় কমানো হয়েছে এবং বেশি করে জল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
8/26ঝাড়খণ্ড সরকার রাজ্যের স্কুলগুলোর জন্য নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কিন্ডারগার্টেন থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাসগুলো সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলবে। আর নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাসগুলো বেলা ১২টা পর্যন্ত চলতে পারে।
9/26তবে রোদের তীব্রতা বাড়লে এই সময় আরও কমিয়ে আনার ক্ষমতা জেলা স্কুল পরিদর্শকদের দেওয়া হয়েছে।
10/26স্কুল চলাকালীন ছাত্রছাত্রীদের খোলা মাঠে রোদে কোনও শারীরিক কসরত বা প্রার্থনা সভা না করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
11/26ছত্তিশগড়েও তাপমাত্রার পারদ চড়ছে। সেখানে স্কুলগুলোর সময় পরিবর্তন করে সকাল ৭টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত করা হয়েছে। রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনওভাবেই যেন শিক্ষার্থীদের দুপুরের রোদে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকতে না হয়।
12/26মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ এবং উত্তর ভারতের কিছু অংশেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন স্কুলগুলোকে তাদের সুবিধামতো সময় পরিবর্তন করার অনুমতি দিয়েছে। অধিকাংশ স্কুলে মর্নিং সেশন বা সকালের অধিবেশন চালু করা হয়েছে।
13/26পর্যাপ্ত পানীয় জল: স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য ঠান্ডা ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
14/26ওআরএস (ORS) কিট: প্রতিটি স্কুলে ওআরএস এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যাতে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
15/26পোশাক: শিক্ষার্থীদের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে গরমে তাদের অস্বস্তি কম হয়।
16/26বাইরের খেলাধুলা বন্ধ: দুপুরের কড়া রোদে পিটি বা কোনো ধরণের খেলাধুলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
17/26অসময়ে এই তীব্র গরম শিক্ষা ক্যালেন্ডারকেও প্রভাবিত করছে। সিলেবাস শেষ করা নিয়ে শিক্ষকরা চিন্তিত।
18/26স্কুলের সময় কমে যাওয়ায় পড়ার সময়ও কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের যাতায়াত নিয়ে চিন্তিত।
19/26স্কুল বাস বা অটোতে করে ফেরার সময় অনেক শিশুকে দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকতে হয়, যা তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাতে পারে।
20/26আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভারতে গ্রীষ্মকাল দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ছে।
21/26ভবিষ্যতে শিক্ষাবর্ষ এবং ছুটির তালিকা তৈরির সময় এই জলবায়ু পরিবর্তনকে মাথায় রাখতে হবে বলে তারা মনে করেন।
22/26চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, স্কুল থেকে ফেরার পর শিশুদের লেবুর জল বা ডাবের জল দেওয়া উচিত এবং সরাসরি এসিতে না বসিয়ে আগে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে দেওয়া উচিত।
23/26প্রকৃতির রুদ্ররূপের সামনে আমরা অসহায় হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও সতর্কতা অনেক বিপদ এড়াতে পারে।
24/26ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সরকার যেভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে স্কুলের সময় পরিবর্তন করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
25/26তবে শুধু সময় পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, শিশুদের এই গরমে কীভাবে সুস্থ রাখা যায় সে বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
26/26জলবায়ুর এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাতেও হয়তো দীর্ঘমেয়াদী কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে। আপাতত শিক্ষার্থীদের সুস্থ রাখাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।