Nepal Unrest: নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন নয়। কাঠমান্ডু জ্বলছে। ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভে সোমবারের পর মঙ্গলবারও উত্তাল নেপাল। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নেপাল সরকার। তা ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। কিন্তু এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশের গণতন্ত্র ও প্রগতির নামে যে আন্দোলন চলছে, তাতে স্কুলছাত্রী ও তরুণীরা ভয়ংকর শিকার হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ছবি ও ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিস স্কুল ইউনিফর্ম পরা মেয়েদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে যে তরুণীদের ধর্ষণের শিকারও হতে হয়েছে।
1/10নেপালের আরেক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার রুথ খড়গা অভিযোগ করেন যে, "শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের, যাদের বেশিরভাগই স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থী, তাদের হত্যা করা হয়েছে। নারীরা এবং মেয়েদের তাদের নিজেদের বাড়িতে ধর্ষণ করা হচ্ছে, কারণ তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছে।"
2/10নেপালের একজন টিকটকার, দৃষ্টি অধিকারী, বলেন যে বেশিরভাগ বিক্ষোভকারী নিরস্ত্র এবং শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু "সরকার আমাদের টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট এবং এরপর সরাসরি গুলি দিয়ে জবাব দিয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন, নিহতদের মধ্যে একজন স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থী ছিল, যাকে রাস্তায় মৃত অবস্থায় দেখা যায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার মতে, মারণাস্ত্র কেবলমাত্র জীবনের নিরাপত্তার জন্য শেষ উপায় হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, কোনো নিরস্ত্র জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য নয়, বিশেষ করে যখন সেখানে শিশু থাকে।
3/10নেপালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অস্থিরতা চলছে। দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ক্রমাগত ব্যর্থ হচ্ছে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে। এই ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে চীন, পাকিস্তান ও বিভিন্ন মিশনারি সংস্থা নেপালে তাদের প্রভাব বিস্তার করছে। এর ফলে দেশের হিন্দু সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের যুবসমাজ এখন বুঝতে পারছে যে গণতন্ত্রের নামে তারা একটি চোরাবালিতে আটকা পড়েছে।
4/10নেপালের জনগণ এখন রাজতন্ত্র ও 'হিন্দু রাষ্ট্র' ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছে। তাদের মতে, রাজতন্ত্রের সময় দেশটিতে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি ছিল। কিন্তু গণতন্ত্র আসার পর থেকেই দুর্নীতি, অস্থিরতা ও বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপ বেড়েছে। তারা মনে করে, নেপালকে আবারও তার হিন্দু সত্তায় ফিরিয়ে আনলে এসব সমস্যার সমাধান হবে।
5/10বিক্ষোভের সময় পুলিস ও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্কুল ইউনিফর্ম পরা ছাত্রছাত্রীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনা জনগণের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করেছে।
6/10বিক্ষোভের সময় পুলিস ও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্কুল ইউনিফর্ম পরা ছাত্রছাত্রীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনা জনগণের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করেছে।
7/10সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই গণবিক্ষোভ দ্রুত রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ ও অসন্তোষে পরিণত হয়। বিক্ষোভকারীরা দুর্নীতির জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়ী করে।
8/10স্থানীয় গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা কাঠমান্ডু এবং এর আশেপাশে নেপালের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করছে। কারফিউ জারি করা হয়েছিল এবং স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
9/10যাদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছে তাদের মধ্যে নেপালি কংগ্রেসের নেতা শের বাহাদুর দেউবা, রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পাউডেল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখাক এবং নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির নেতা পুষ্প কমল দাহাল অন্যতম। দেউবার স্ত্রী, যিনি বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তার মালিকানাধীন একটি বেসরকারি স্কুলেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
10/10নেপালের চলমান অস্থিরতার পেছনে বিদেশী শক্তির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খ্রিস্টান মিশনারিরা নেপালে ধর্মান্তরকরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। অন্যদিকে, চীন ও পাকিস্তান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে নেপালের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন।