1/7প্রেমের সমাধি ঘিরে যে এত অ-প্রেমের বাতাবরণ তৈরি হতে পারে, কেউ কি ঘুণাক্ষরেও আঁচ করেছিল? এটা অবশ্য আজকের নয়। খুব পুরনো একটা বিতর্ক। এক শ্রেণির ইতিহাসবিদদের দাবি, আজকে যা তাজমহল, একদা সেটা নাকি ছিল এক শিবমন্দির। এরপর আরটিআই-এর দাবিও এতে ঢুকে পড়ে। আসুন, ইতিহাস- আরটিআই- ইতিহাসবিদ- সুপ্রিম কোর্ট- এএসআই-সহ পুরনো এই বিতর্কটিকে আর একবার ফিরে দেখি আমরা।
2/7কেন এই দাবি? এর ভিত্তিটা কী? মোটামুটি এরকম একটা বয়ান মেলে: তাজমহল তৈরির আগে শাহজাহান নাকি যমুনার তীরে নয়নাভিরাম এক সম্পত্তি অধিগ্রহণ করেছিলেন। এর মালিক ছিলেন আকবরের সেনাপতি মানসিংহের পৌত্র জয়সিংহ। তাঁর সম্পত্তি নেওয়ার ক্ষতিপূরণ বাবদ শাহজাহান তৎকালীন আকবরাবাদে (এখনকার আগ্রায়) চারটি হাভেলি জয়সিংহকে দিয়েও দিয়েছিলেন।
3/7দাবি, এই সম্পত্তি হস্তান্তরের যাবতীয় দলিল, রাজকীয় ফরমান ইত্যাদির কথা হামিদ লাহোরির 'বাদশাহনামা' গ্রন্থে এবং আরও অন্য অন্য কয়েকটি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে।
4/7দাবি, জয়সিংহের এই সম্পত্তি-এলাকায় ছিল একটি শিবমন্দির। সেই মন্দিরের নাম ছিল 'তেজোমহালয়', বা 'তেজোমহাল'।
5/7১৯৭০-এর দশকে হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসচর্চার অন্যতম পুরোধা পি এন ওক তথা পুরুষোত্তম নাগেশ ওক এই তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন। ১৯৮৯ সালে তাঁর একটি বই প্রকাশিত হয়। বইটির নাম ছিল 'তাজ মহল: দ্য ট্রু হিস্টরি'। তারপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এ নিয়ে টানা পোড়েন চলে।
6/7ওক সুপ্রিম কোর্টের কাছে বিষয়টির নিষ্পত্তির জন্য আবেদন করেছিলেন। ২০০০ সালে সুপ্রিম কোর্ট ওকের দাবি নস্যাৎ করে দেয়।
7/7২০১৭ সালে আগ্রা কোর্টে এএসআই পরিষ্কার করে বলে যে, তারা এমন কোনও দৃষ্টান্ত, নজির বা প্রমাণ পায়নি, যার ভিত্তিতে বলা চলে যে, অতীতে কোনও সময় আজ যেখানে তাজমহল, একদিন সেখানে কোনও ভাবে কোনও শিবমন্দির ছিল! তাজমহল একটি সৌধ, আবেদনকারীদলের যেমন দাবিমতো কোনও মন্দির নয়। এখানে কোনও একদিন তেজোমহালয় নামের এক শিবমন্দির থাকার যে দাবি জানানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মনগড়া, কাল্পনিক।