Health Budget 2026 For Cancer Medicine: ভারতের স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট। মারণরোগ ক্যানসার এবং অন্যান্য বিরল রোগের চিকিৎসায় সাধারণ মানুষের আর্থিক বোঝা কমাতে বড়সড় ধামাকা ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। রবিবার বাজেট বক্তৃতায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে ১৭টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্যানসার বিরোধী ওষুধের ওপর আর কোনও ‘বেসিক কাস্টমস ডিউটি’ বা আমদানি শুল্ক দিতে হবে না। এই ঘোষণার ফলে ক্যানসারের ওষুধ সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে এবং চিকিৎসার বিশাল খরচ অনেকটাই কমে যাবে।
1/19ভারতে ক্যানসার চিকিৎসার অন্যতম প্রধান অন্তরায় হলো ওষুধের আকাশচুম্বী দাম। উন্নত মানের থেরাপি বা ইমিউনোথেরাপির অনেক ওষুধই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার ওপর চড়া শুল্ক বসত।
2/19ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৭টি জীবনদায়ী ওষুধের ওপর আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ মকুব করা হয়েছে।
3/19ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা অন্যান্য ওষুধের শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
4/19এর ফলে উন্নত চিকিৎসার খরচ সরাসরি কমবে এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো আধুনিক থেরাপির সুযোগ নিতে পারবে।
5/19শুধুমাত্র ক্যানসার নয়, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সাতটি বিরল রোগ (Rare Diseases) এবং অটোইমিউন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের ক্ষেত্রেও বড় ছাড় দিয়েছেন।
6/19অটোইমিউন রোগ এমন এক অবস্থা যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলবশত নিজের সুস্থ কোষগুলোকে আক্রমণ করে (যেমন—লুপাস, সোরিয়াসিস বা টাইপ ১ ডায়াবেটিস)।
7/19বিরল রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ পথ্য বা ওষুধ এখন থেকে শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা যাবে।
8/19ডায়াবেটিস এবং সাতটি গুরুতর রোগের চিকিৎসার খরচ কমানোর লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।
9/19সরকারের লক্ষ্য কেবল বিদেশ থেকে সস্তায় ওষুধ আনা নয়, বরং ভারতকে ওষুধের উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা। অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় ভারতকে একটি "গ্লোবাল বায়ো-ফার্মাসিউটিক্যাল হাব" হিসেবে গড়ে তোলার ১০ বছরের রূপরেখা পেশ করেছেন।
10/19এই মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার আগামী ১০ বছরে ১০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।
11/19তিনটি জাতীয় স্তরের শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ওষুধ, শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র) সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
12/19এই বিনিয়োগের ফলে ওষুধ আবিষ্কারের গতি বাড়বে এবং বিদেশের ওপর ভারতের নির্ভরতা কমবে।
13/19চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মতো দেশে যেখানে বিশাল সংখ্যক মানুষের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিমা নেই, সেখানে ওষুধের দাম কমানো সরাসরি জীবন বাঁচানোর সমতুল্য।
14/19ক্যানসারের মতো রোগে একটি ইনজেকশন বা এক মাসের ওষুধের দাম অনেক সময় লক্ষাধিক টাকা ছাড়িয়ে যায়। শুল্ক মকুবের ফলে খুচরো বাজারে এই ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
15/19এটি কেবল একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কয়েক লক্ষ পরিবারের কান্নাকাটি বন্ধ করার একটি উদ্যোগ।
16/19বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অসংক্রামক রোগের সহজলভ্য চিকিৎসার ওপর। ১০,০০০ কোটি টাকার তহবিলটি উদ্ভাবন ও গবেষণায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে।
17/19এর ফলে জটিল রোগের জন্য প্রয়োজনীয় বায়োলজিক্যাল ইনজেকশন বা হাই-টেক ওষুধগুলো দেশেই তৈরি করা সম্ভব হবে। এটি যেমন ওষুধের মান নিশ্চিত করবে, তেমনি ভারতকে জৈব-ওষুধ উৎপাদনে বিশ্ব নেতার আসনে বসাবে।
18/19২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এই বাজেট স্বাস্থ্যসেবা খাতের জন্য একটি রক্ষাকবচ। ক্যানসারের মতো মারণরোগের সাথে লড়াই করা সাধারণ মানুষের জন্য এটি এক বিশাল জয়। অর্থমন্ত্রীর এই পদক্ষেপগুলো কার্যকর হলে ভারতকে আর ‘বিদেশের ওষুধের বাজার’ হয়ে থাকতে হবে না,
19/19বরং ভারত নিজেই বিশ্বকে সাশ্রয়ী ও উন্নত চিকিৎসা সমাধান উপহার দেবে। সস্তা ওষুধ এবং উন্নত গবেষণার এই মেলবন্ধন কোটি কোটি মানুষের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করবে।