বিধান সরকার: ২০১১ সালের পর ফের ভারতে আর্জেন্টিনার (Argentina) বরপুত্র। ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে কলকাতায় পা রাখেন লিওনেল মেসি (Messi In Kolkata)। ১৩ ডিসেম্বরের সকাল থেকেই যুবভারতীতে মেসি (Messi in Yubabharati) দর্শনে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা। কিন্তু দর্শকদের সেই প্রত্যাশা একেবারেই ভেস্তে যায়।
Add Zee News as a Preferred Source
যুবভারতীতে পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যেই পালটে যায়। রণক্ষেত্রের রূপ নেয় যুবভারতী। মেসি স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পরই ভিড় বাড়তে শুরু করে। মেসি সকাল ১১:১৫ টায় ভেন্যুতে পৌঁছেছিলেন। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়টি স্টেডিয়ামের পুরো রাউন্ড নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তিনি তা করেননি। স্টেডিয়ামের আশেপাশের রাস্তা ভক্তদের ভিড়ে বন্ধ হয়ে যায়। পুলিস ও নিরাপত্তা বাহিনী চেষ্টা করলেও যানজট ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। অনেক ভক্ত আগে থেকে স্টেডিয়ামে ঢুকতে চেষ্টা করেন। কিছু জায়গায় উত্তেজনা ও চাপে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
যার ফলে মেসি নির্ধারিত সময়ের আগেই যুবভারতী ছেড়ে সোজা বিমানবন্দরের উদ্দেশ্য রওনা দেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে G.O.A.T. ট্যুরের আয়োজক শতদ্রু দত্ত এবং নিরাপত্তা কর্মীদের মেসিকে সল্টলেক স্টেডিয়াম থেকে সরিয়ে নিতে হয়।
এরপরই হায়দ্রাবাদ যাওয়ার পথে কলকাতা বিমান বন্দর থেকে বিপর্যয়ের দায়ে গ্রেফতার হন আয়োজক শতদ্রু দত্ত। ১৪দিনের পুলিস হেফাজত হয়েছে শতদ্রু দত্তের। আজও পুলিস পিকেট তাঁর বাড়ির সামনে।
আয়োজক শতদ্রুর ইতিহাস:
শতদ্রুর রিষড়ার বাঙুর পার্কের বাড়িতে থাকেন তাঁর মা স্ত্রী আর ছেলে। আজ সেখানে কাউকেই দেখা যায়নি। তবে মৌসুমি দাস নামে এক যুবতী ওই বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় বলেন, আমি বৌদির (শতদ্রুর স্ত্রীর) মেকআপ আর্টিস্ট। এই ঘটনা সবার কাছেই দুঃখের। দাদা তিন বছর ধরে এই ইভেন্টের পিছনে পরেছিল। দাদা তাঁর ছেলে দিয়াগোকে বাড়িতেই প্যাকটিসের জন্য মাঠ করেছে। অনেক স্বপ্ন ছিল, দাদার স্বপ্নটা মাটি হয়ে গেল
রিষড়া আর ফুটবল সমার্থক। এক সময় কলকাতা ময়দান কাঁপিয়ে তিন প্রধানে খেলা ফুটবলারের অভাব নেই। যার মধ্যে আছেন, শিশির ঘোষ, সুধীর কর্মকার, সমীর চৌধুরীরা। সেই রিষড়ার শতদ্রু দত্ত ফুটবল না খেললেও ফুটবল সংগঠক হিসাবে নাম করেছেন গত কয়েক বছরে। বিশ্ব ফুটবলের অনেক দিকপাল খেলোয়াড়কে কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন শতদ্রু। বিপর্যয় ঘটে গেলো মেসি শোয়ে।
প্রাক্তন ফুটবলার শতদ্রুর প্রতিবেশি সমীর চৌধুরী বলছেন,তাকে নিয়ে একবার ব্রাজিল গিয়েছিলেন শতদ্রু। ভালো ব্যবস্থা ছিলো।এর আগেও অনেক খেলোয়ারকে নিয়ে এসেছে এরকম হয়নি।
আমরা ভিআইপি বক্সে বসেছিলাম, সেখান থেকেও মেসিকে দেখতে পাইনি। ফুটবলের ভগবান মেসি যে মাঠে নিঃশ্বাস নিয়েছে সেই মাঠে আমরাও নিয়েছি এটাই পাওয়া।
ফুটবলারের স্ত্রী সোমা চৌধুরী বলেন,এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চেয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।কিন্তু ইংরেজিতে একটা কথা আছে সরি।কোন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর যদি বলা হয় সরি তার কোনো মূল্য থাকে কি?যে জিনিসটা হলো সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।একজন ফুটবলের আইকন মেসি।আমরা ভীষন মর্মাহত।এই রকম একটা ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইলাম।ইতিহাসে একটা কালো দিন হয়ে রইল।
মেসি ভক্ত সৌরিশা চৌধুরী বলেন,
আর্জেন্তিনা আর মেসি ভক্ত হিসাবে গিয়েছিলাম মেসিকে দেখতে।আমরা একটা ভালো জায়গায় বসে ছিলাম তাও মেসিকে দেখতে পাইনি।আর এত মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করা হয়েছে।হায়দ্রাবাদে সবকিছু গুছিয়ে করা হয়েছে তাই সব ঠিক আছে। এখানে কোনও পরিকল্পনাই ছিলো না।স্বার্থপরের মত আচরন করা হয়েছে।গরীব যারা তারা টাকা দিয়েছে বড় লোকরা তার ফায়দা নিয়েছে।
আমি বলব মেসিকে দূর থেকে ভালোবাসা উচিত।কারন এখানে ভালোবাসা দেওয়ার মত পরিকাঠামো নেই।যে রকম নিরাপত্তা দেওয়ার কথা সেটা দেওয়া হয়নি।যাদের সেই কাজ ছিলো তারাও সেলফি তুলতে ব্যাস্ত ছিলেন।এক সময় মনে হচ্ছিল কী করে জীবন বাঁচিয়ে বের হতে পারব।
কলকাতার আক্ষেপ-
মেসিকে দূর থেকেই ভালোবাসা উচিত,বলছেন আশাহত মেসি ভক্তরা। হায়দ্রাবাদ যেটা পারল কলকাতা কেন পারল না প্রশ্ন ফুটবল ভক্তদের। বারবার বিশ্ব ফুটবলের নক্ষত্রদের এনে বাংলার ফুটবলের কোনও লাভ হচ্ছে কি সে প্রশ্নও উঠছে যুবভারতী কান্ডের পর।