)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নামা, আর প্রতিপক্ষ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, কাজটা যে কতটা কঠিন তা জানা ছিল সবারই। কিন্তু ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওয়ের জন্য এভাবে দুঃস্বপ্নের রূপ নেবে, তা হয়তো ভাবেনি ফুটবল বিশ্ব। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে ভয়ংকর এক বার্তা দিল জার্মানি। সেইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৩ পয়েন্ট তারা নিজেদের দখলে নিতে পেরেছে।
মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও। তাদের ফুটবল ইতিহাসে আজকের দিনটি ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দেশের মানুষ বুকভরা আশা নিয়ে টিভির সামনে বসেছিল বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচ দেখার জন্য। শুরুতে সবাই ভেবেছিল জার্মানি সহজেই এগিয়ে যাবে, এবং তারা এগিয়েও গিয়েছিল। কিন্তু ২১ মিনিটে ঘটে চমক — লিভানো কোমেনেন্সিয়া দুর্দান্ত ফিনিশে জার্মান ডিফেন্স ভেঙে সমতা আনেন। এটাই ছিল কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোল, এবং মুহূর্তের জন্য হিউস্টন স্তব্ধ হয়ে যায়।
কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের অধীনে এটিই ছিল জার্মানির প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশেলে গড়া দলটিতে যেমন ছিল অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারের প্রত্যাবর্তন, তেমনই ছিল জামাল মুসিয়ালা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টজের মতো তরুণদের দারুণ ছন্দ।
তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। জার্মান মেশিন দ্রুতই খেলায় ফেরে। নিকো শ্লটারবেক গোল করে জার্মানিকে আবার এগিয়ে নেন। এরপর ফেলিক্স এনমেচা এবং কাই হাভার্টজ গোল করলে প্রথমার্ধেই ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১। এর মধ্যে হাভার্টজের প্রথম গোলটি ছিল পেনাল্টি থেকে আর দ্বিতীয়টি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক দুর্দান্ত বাঁ-পায়ের শট।
দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানি আরও বেশি আক্রমণাত্মক। কুরাসাওয়ের ডিফেন্স ক্লান্ত হয়ে পড়লে একের পর এক গোল পেতে থাকে তারা। মাঝমাঠ থেকে একাই বল টেনে নিয়ে দলের চতুর্থ গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। এরপর ন্যাথানিয়েল ব্রাউন পঞ্চম গোল করেন হেড দিয়ে। শেষ দিকে ডেনিজ উন্দাভ পরপর দুটি গোল করলে জার্মানির ৭-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয়। ম্যাচে কাই হাভার্টজ ও ডেনিজ উন্দাভ দুজনেই জোড়া গোল করেন।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে থাকা জার্মানি এই বিধ্বংসী পারফরম্যান্স দিয়ে অন্য দলগুলোকে কড়া দেয়। অন্যদিকে, বড় ব্যবধানে হারলেও কুরাসাওয়ের লড়াই ছিল প্রশংসনীয়। বিশ্বমঞ্চে প্রথম গোল করার ঐতিহাসিক আনন্দ নিয়ে মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছে তারা। আগামী ২০ জুন কানসাস সিটিতে ইকুয়েডরের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে কুরাসাও।
ম্যাচ শেষে মাঠের এক আবেগঘন দৃশ্য নাড়া দিয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ, অথচ এমন বিশাল ব্যবধানে হার—যা সহ্য করতে পারেননি কুরাসাওয়ের কোচ। মাঠের মধ্যেই আবেগ ধরে রাখতে না পেরে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় তাকে। ফুটবলাররা যখন হতাশায় মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন কোচের এই কান্না যেন সাড়ে তিন লাখ মানুষের স্বপ্নভঙ্গের প্রতীকী রূপ হয়ে উঠেছিল।
অন্যদিকে, এই বিধ্বংসী জয়ের পর জার্মানি প্রমাণ করল কেন তারা বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার। কুরাসাওয়ের ফুটবলারদের জন্য এই ম্যাচ বড় শিক্ষা হলেও, ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে তাদের এই লড়াই ও কোচের আবেগ ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অনেকদিন স্মরনীয় হয়ে থাকবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)