)
শুভপম সাহা: গতবছর ৯ জুলাই আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতীয় দলের হেডকোচ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। দেশকে টি-২০ বিশ্বকাপ জেতানো রাহুল দ্রাবিড় (Rahul Dravid) শত অনুরোধেও আর কোচ হিসেবে থাকতে রাজি হননি। অগত্যা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বেছে নেয় গৌতিকে।
একমঞ্চে কপিল-মিতালি
এবার কলকাতায় বসে শুভমন গিলদের (Shubman Gill) হেডস্যরের পোস্টমর্টেম করলেন দেশের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী কোচ কপিল দেব (Kapil Dev)। 'হরিয়ানা হারিকেন' সাফ জানিয়ে দিলেন 'গম্ভীর কোচ হতে পারে না'। একেবারে পয়েন্ট দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) শহরের এক পাঁচতারা হোটেলে ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কর্মাসের (Indian Chamber of Commerce, ICC) শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে কপিলের সঙ্গে ছিলেন মহিলা ক্রিকেটের কিংবদন্তি মিতালি রাজও (Mithali Raj)
কী বললেন কপিল?
'হালে কোচ নামের এক শব্দের আমদানি হয়েছে। কোচ শব্দটি এখন খুবই কমন। গৌতম গম্ভীর কোচ হতে পারে না। ও বড়জোর দলের ম্যানেজার হতে পারে। ক্রিকেটে কোচ বলতে সেই মানুষটিকে বোঝায় যে, স্কুল বা কলেজে আমাদের কোচিং করিয়েছেন। তারাই আমাদের কোচ। তাঁরা আমাকে পরিচালনা করতে পারতেন।' কপিল তাঁর বক্তব্যে প্রেক্ষিতে জলের মতো বুঝিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন যে, একজন ব্যক্তি কীভাবে টেকনিক্যালি বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন? কপিলের সংযোজন, 'গম্ভীর কীভাবে একজন লেগ স্পিনার বা উইকেটকিপারের কোচ হতে পারে? আপনাকে ম্যানেজ করতে হবে। এটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন ম্যানেজার অনুপ্রাণিত করতে পারে। যখন কেউ ম্যানেজার হয়, তখন তরুণরা তার দিকে তাকিয়ে থাকে।'

অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা
অধিনায়কত্ব নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে কপিল বলেছেন, 'আমার মনে হয়, যারা ভালো খেলছে না, তাদের মানসিক শক্তি জোগানো উচিত। একজন অধিনায়ক হিসেবে, আমি পারফর্ম করতে না পারা খেলোয়াড়দের সঙ্গে ড্রিংক করব বা ডিনার সারব। যে সেঞ্চুরি করেছে, তার সঙ্গে অনেকেই আছে। যে পারছে না, তাকেই আত্মবিশ্বাস জোগাতে হবে। আর এটাই অধিনয়াকের কাজ হওয়া উচিত। আমার মনে হয় অধিনায়ক হিসেবে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনার ভূমিকা শুধু নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে নয়, বরং পুরো দলকে একত্রিত করে রাখার ব্যাপারেও। আর দলের চেয়ে বড় কোনও অধিনায়ক নয়।
আরও পড়ুন: 'আর কোনও ম্যাচ নয়'! চূড়ান্ত রায় জানিয়ে দিল বিসিসিআই, কেঁপে গেল ভারতীয় ক্রিকেট...
এখনও পর্যন্ত গম্ভীরের বায়োডেটা
ক্রিকেটার হিসেবে গম্ভীর রীতিমতো সফল ছিলেন। কুড়ি এবং পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বজয়ী এমএস ধোনির (MS Dhoni) ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য় ছিলেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে গম্ভীর কলকাতা নাইট রাইডার্সকে দু'বার (২০১২, ২০১৪) আইপিএল জিতিয়েছেন। মেন্টর হিসেবেও আবার ২০২৪ সালে কেকেআরকে আইপিএল জেতানোয় অবদান রেখেছিলেন। তবে কখনই গম্ভীর কোচিং করাননি, তবুও বিসিসিআই গম্ভীরের উপর ভরসা রাখে। কোচ হিসেবে এখনও পর্যন্ত গম্ভীর সাদা বলের ক্রিকেটে কিছুটা সাফল্য পেয়েছেন। চলতি বছর ভারত এশিয়া কাপ ও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছে। তবে টেস্টে গম্ভীরের পারফরম্যান্স জঘন্য। গম্ভীরের কোচিংয়ে ভারত তপ্রথম ১৯টি টেস্টের মধ্যে ১০টিতেই হেরেছে এবং মাত্র ৭টি জিতেছে। গম্ভীরের কোচিংয়েই ভারত ঘরের মাঠে বিরল হোয়াইটওয়াশের শিকার হয়েছে। তাও আবার দু'বার। ২০২৪ সালে নিউ জিল্যান্ডের কাছে ০-৩ ব্যবধানে হার এবং গত নভেম্বরেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ০-২ ব্যবধানে হার।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)