)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: খবরের শিরোনামে এখন সাঁতারু বুলা চৌধুরী (Bula Choudhury)। সম্প্রতি তাঁর হিন্দমোটরের বাড়ি থেকে চুরি গিয়েছে বহু পদক, বাড়ির ব্যবহার করা জিনিস, এমনকী তাঁর পদ্মশ্রীও। কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন বাংলার নক্ষত্র সাঁতারু। তবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুরির অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি, বুলার অধিকাংশ মেডেলই উদ্ধার করেছে চন্দননগর পুলিস। যদিও তাঁর পদ্মশ্রী পদকটি এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিস। তবে পুলিসের কাজে আপাতত হাসি ফুটেছে বুলার মুখে।
'সমুদ্রের রানি'
ভারতের অন্যতম বিখ্যাত সাঁতারুই কিন্তু বুলা। ২৯৫টি পদক চুরির ঘটনায় শিরোনামে আসা ৫৪ বছরের বঙ্গের ভূমিকন্যা পার করেছেন ইংলিশ চ্যানেল। বুলা এমন সময়ে জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক সাঁতারুতে পরিণত হয়েছিলেন, যখন দেশের বেশিরভাগ মানুষই সাঁতারকে খেলা হিসেবে বেছে নিতেন না। 'সমুদ্রের রানি' নামেও পরিচিত বুলা। প্রাক্তন সাফ গেমস চ্যাম্পিয়ন বর্তমানে কলকাতার কসবা এলাকায় থাকেন। ১৯৭০ সালে জন্মানো বুলা মাত্র ন'বছর বয়সে জাতীয় খেতাব জিতেছিলেন সাঁতারে।
আরও পড়ুন: ধোনির জন্যই ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন! বীরুর পর বিস্ফোরক ভারতের বিশ্বকাপ হিরোও
ভূরি ভূরি পদক
সাউথ এশিয়ান ফেডারেশনে (এসএএফ) একাধিক স্বর্ণপদক জিতেছেন বুলা। ১৯৯০ সালে অর্জুনজয়ী বুলা ২০০৯ সালে পদ্মশ্রীতে ভূষিত হয়েছিলেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের হাত থেকে তেনজিং নোরগে জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার জীবনকৃতী পুরস্কার পেয়েছিলেন। অনেকেই জানেন না যে তাঁর বাড়িতে সাম্প্রতিক চুরি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো তাঁর বাড়িতে এমন চুরির ঘটনা ঘটল। ২০১৪ সালে বুলার বাড়িতেও একই রকম চুরির ঘটনা ঘটেছিল। যখন তাঁর গয়না এবং কয়েকটি গ্যাজেট চুরি গিয়েছিল।
বুলার কেরিয়ার
আগেই বলা হয়েছে যে, মাত্র ন'বছর বয়সে তার প্রথম জাতীয় প্রতিযোগিতা জিতেছিলেন বুলা। তিনি ছ'টি ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতে তাঁর বয়সের দলে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। বিভিন্ন জুনিয়র এবং জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছিলেন বুলা। পাশাপাশি ১৯৯১ সালের দক্ষিণ এশিয়ান ফেডারেশন গেমসে ছ'টি সোনা জিতেছিলেন। তিনি ১২ বছর বয়সে তাঁর প্রথম জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন, যা সর্বকালীন রেকর্ড। এর ফলে বুলা ব্রিসবেন কমনওয়েলথ গেমসের রিলে কোয়ার্টেটে যেমন স্থান পেয়েছিলেন, তেমনই এশিয়াড সম্ভাব্যদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছিলেন।
১৯৮৪ সালে তিনি ১০০ মিটার বাটারফ্লাই ১:০৬.১৯ সেকেন্ডে শেষ করে জাতীয় রেকর্ড করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে সিওল এশিয়াডে বুলা ১০০ মিটার বাটারফ্লাই ১:০৫.২৭ সেকেন্ড শেষ করেছিলেন। ২০০ মিটার বাটারফ্লাই ২:১৯.৬০ সেকেন্ডে শেষ করে আরেকটি রেকর্ড করেনছিলেন। বুলা ১৯৮৯ সালে লং-ডিসটান্স সাঁতার শুরু করেছিলেন এবং সেই বছরই ইংলিশ চ্যানেল পার করেছিলেন। ১৯৯৬ সালে তিনি ৮১ কিলোমিটার (৫০ মাইল) মুর্শিদাবাদ লং-ডিসটান্স সাঁতার প্রতিযোগিতা জিতেছিলেন। ১৯৯৯ সালে আবার ইংলিশ চ্যানেল পার করেছিলেন। ২০০৪ সালের অগস্টে বুলা শ্রীলঙ্কার তালাইমান্নার থেকে তামিলনাড়ুর ধনুষকোডি পর্যন্ত প্রায় ১৪ ঘন্টার পাক প্রণালী পেরিয়েও রেকর্ড করেছেন।
২০০৫ সালে বুলা প্রথম মহিলা হিসেবে পাঁচটি মহাদেশের সমুদ্রপথ সাঁতার কেটে পার হয়েছিলেন — যার মধ্যে ছিল জিব্রাল্টার প্রণালী, টাইরেনিয়ান সাগর, কুক প্রণালী, গ্রিসের টোরোনিওস উপসাগর (কাসান্দ্রা উপসাগর), ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে ক্যাটালিনা চ্যানেল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনের কাছে থ্রি অ্যাঙ্কর বে থেকে রবেন দ্বীপ পর্যন্ত। তিনি ৩ ঘন্টা ২৬ মিনিটে ৩০ কিলোমিটার ট্র্যাক সাঁতার কেটেও রেকর্ড তৈরি করেছিলেন।
রাজনীতিতেও বুলা!
২০০৫ সালে লং-ডিসটান্স সাঁতার থেকে অবসর নেওয়ার পর, বুলা রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন। বাংলার তৎকালীন শাসক দল সিপিএমের পতাকা ধরেছিলেন হাতে। তবে ২০০৬ সালে নন্দনপুর বিধানসভা আসন থেকে জয়ী হন এবং বিধায়ক হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ছিল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)