)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চলতি বছর ১৭ বছরের প্রতীক্ষার শেষে, আইপিএল চ্যাম্পিয়ন (IPL 2025) হয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (Royal Challengers Bengaluru)! আর এই ঐতিহাসিক জয়ের উদযাপনই রাতারাতি বদলে গিয়েছিল মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিলে।
বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে আরসিবি-র (RCB) বিজয় উৎসবে যোগ দিতে এসেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। আচমকাই রটে যায় স্টেডিয়ামে ঢুকে বিরাট কোহলিদের (Virat Kohli) সেলিব্রেশন দেখার জন্য ফ্রি টিকিট দেওয়া হচ্ছে। সেই টিকিট পাওয়ার জন্য শুরু হয়ে যায় হুড়োহুড়ি।
কয়েক মিনিটের মধ্যে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের মেইন গেটে তাণ্ডব শুরু হয়ে যায় আরসিবি সমর্থকদের। পুলিসের হাতের বাইরে চলে যায় বিশৃঙ্খল জনতা। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায় বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বৃষ্টি শুরু হওয়ায়। আর এই ঘটনায় পদপিষ্ট হয়ে ১১জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহতের সংখ্যা ছিল ৫০-এর উপর।
কী বললেন বিরাট কোহলি
আরসিবি বেঙ্গালুরুর ঘটনা নিয়ে ছ'দফা ইস্তেহার ঘোষণার পরেই বিরাট কোহলি এবার নীরবতা ভাঙলেন। আরসিবি এক্স হ্যান্ডেলে তাদের প্রাক্তন অধিনায়কের বিবৃতি পোস্ট করেছে। সেখানে বিরাট বলেছেন, '৪ জুনের মতো হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্য জীবনে প্রস্তুত ছিলাম না। যা আমাদের ফ্র্যাঞ্চাইজির ইতিহাসে সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত হতে পারত, তা বদলে গেল মর্মান্তিক পরিণতিতে। আমরা যাঁদের হারিয়েছি তাঁদের পরিবারের জন্য এবং আমাদের আহত ভক্তদের জন্যই ভাবছি, তাঁদের জন্য প্রার্থনা করছি। আপনাদের ক্ষতি এখন আমাদের গল্পেরও অংশ। একসঙ্গে আমরা যত্ন, শ্রদ্ধা এবং দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যাব।' চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সেদিন কোহলিই সেলিব্রেশনের নেতৃত্বে ছিলেন। বাইরে তখন মৃত্যুমিছিল, ভিতরে কোহলিদের বিরাট সেলিব্রশেন চলছিল! আরসিবি জানতে পেরেই তাঁদের উৎসব ছোট করে দিয়েছিল। বেঙ্গালুরুর পুলিস অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও, হুড খোলা বাস প্যারেডের ঘোষণার ফলেই এই ঘটনা ঘটেছিল। হাজার হাজার ভক্ত এই প্যারেডের প্রত্যাশায় জড়ো হয়েছিলেন সেদিন। আর যে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতই হয়নি।
গত ৩০ অগস্ট আরসিবি নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের সাহায্যের ঘোষণা করেছিল। আরসিবি প্রথমে ১০ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছিল, কিন্তু 'আরসিবি কেয়ার্স' ঘোষণা করার পর তারা ক্ষতিপূরণ বাড়িয়ে দেয়। আরসিবি বেঙ্গালুরুর ঘটনা নিয়ে ছ'দফা ইস্তেহারও ঘোষণা করেছেন।
আরসিবি-র ছ'দফা ইস্তেহার
আর্থিক সাহায্যের বাইরেও: ক্ষতিগ্রস্ত ভক্ত এবং পরিবারের জন্য দ্রুত, স্বচ্ছ এবং মানবিক সহায়তা।
নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থান: ভিড় ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে কর্তৃপক্ষ এবং অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করুন।
সম্প্রদায়গুলিকে ক্ষমতা দেওয়া: কর্ণাটকের সিদ্দি সম্প্রদায় থেকে শুরু হবে সামাজিক কর্মসূচি।
নিরাপত্তায় বিনিয়োগ করা: বার্ষিক ভক্ত-নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং অন-গ্রাউন্ড অংশীদারদের জন্য প্রশিক্ষণ।
ভক্তদের সম্মান করা: আরসিবির সবচেয়ে উৎসাহী সমর্থকদের স্মরণে বেঙ্গালুরুতে নিবেদিত স্থান।
ভবিষ্যত তৈরি: স্টেডিয়ামে চাকরি তৈরি করা, স্থানীয় প্রতিভা লালন, ভবিষ্যতের ক্রীড়া পেশাদারিত্বের সমর্থন
চিন্নাস্বামী 'নিষিদ্ধ'!
এই ঘটনার তদন্ত করেছিল বেঙ্গালুরু সরকারের গঠিত এক প্যানেল। তারা জানিয়ে দেয় যে, চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামকে বড় ইভেন্ট আয়োজনের জন্য পরিকাঠামোগত ভাবে নিরাপদ নয়। যার জেরে স্থানীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বেঙ্গালুরু থেকে মহীশূরে স্থানান্তরিত হয়। এমনকী মহিলা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলিও ভেন্যু থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)