)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল (India's Women's Cricket Team) ইতিমধ্যেই ইতিহাস লিখে ফেলেছে। চলতি আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপের (ICC Women's World Cup 2025) সেমিফাইনালে, সাতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারত ৩৩৯ রান তাড়া করে রেকর্ড জয়লাভ করেছে। ২ নভেম্বর, রবিবার নবী মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্পোর্টস অ্যাকাডেমিতে মহাযুদ্ধে হরমনপ্রীত কৌরের ভারত ও লরা উলভার্টের দক্ষিণ আফ্রিকা। কাপযুদ্ধের ফাইনালে (India vs South Africa, ICC Women’s World Cup Final 2025) যে জিতবে সেই হবে প্রথমবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন। এমন আবহে স্মৃতিচারণা করলেন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের প্রথম ক্যাপ্টেন শান্তা রঙ্গস্বামী (Shantha Rangaswamy)।
বিস্ফোরক শান্তা রঙ্গস্বামী
সেমিতে ভারতীয় দলকে কেবল মাঠেই শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ান চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে লড়তে হয়নি, বরং মাঠের বাইরেও তাদের লিঙ্গবৈষম্য এবং নারীবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। গ্রুপ-পর্বের লড়াইয়ে টানা তিন ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর ভারতীয় খেলোয়াড়দের প্রচুর কটু কথা শুনতে হয়েছিল। যেমন 'মেয়েদের বাড়িতে রান্না করাই ভালো'! এমন তীব্র অপমান সহ্য করেও টিম একসঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়েছে। ফাইনালের আগে কথা বলতে গিয়ে রঙ্গস্বামী, তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারের দিনগুলি ফিরে দেখেছেন। যখন মহিলা ক্রিকেটাররা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের থেকে সে অর্থে কোনও সমর্থনই পায়নি। ১৯৭৬ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত খেলা রঙ্গস্বামী পিটিআই-কে বলছেন, 'অসংরক্ষিত ট্রেনের কোচে যাওয়া-আসা থেকে শুরু করে ডরমিটরির মেঝতে ঘুমানো পর্যন্ত, এমনকী আমাদের নিজস্ব বিছানা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সঙ্গে নিয়ে যেতে হত। আমরা ক্রিকেট কিট পিঠে ব্যাকপ্যাকের মতো বেঁধে রাখতাম আর এক হাতে স্যুটকেসও থাকত!'
আরও পড়ুন: বাজিগর শাহরুখের বাজিমাত, রাজধানী থেকে রাহুলকে ছিনিয়ে নিলেন! কেএল এবার কেকেআরে?
আজ রঙ্গস্বামী খুশি
হরমনপ্রীতদের দেখে আজ খুশি রঙ্গস্বামী। তিনি বলেন, 'তবে আজ আমরা খুবই খুশি যে বর্তমান দলটি তাদের প্রাপ্য সকল সুযোগ-সুবিধা পায়। পুডিংয়ের প্রমাণ খাবারের মধ্যেই রয়েছে। এবং ফলাফল এখন দেখা যাচ্ছে। মেয়েদের, বিসিসিআই এবং রাজ্য সমিতিগুলির সমস্ত প্রচেষ্টা মহিলা ক্রিকেটের সাফল্যে ব্যাপক অবদান রেখেছে।' প্রায় ৫০ বছর আগে আমরা যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলাম, তা এখন ফল দিচ্ছে।' আজ দেশে মেয়েদের ক্রিকেট সত্যিই অনেক দূর এগিয়েছে। সম্প্রতি বিসিসিআই পুরুষ এবং মহিলা ক্রিকেটারদের সমান ম্যাচ ফি দিচ্ছে। যার ফলে লিঙ্গ ভেদে মর্যাদা ভিন্ন হচ্ছে না। যদিও বার্ষিক চুক্তিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। তবুও আজকের খেলোয়াড়রা আগের তুলনায় অনেক বেশি সমর্থন এবং যত্ন পাচ্ছে।
জয়ের প্রশংসায় রঙ্গস্বামী
রঙ্গস্বামীর মতে যদি হরমনপ্রীতরা রবিবার কাপ জিততে পারেন, তাহলে ভারতীয় ক্রিকেটে মেয়েদের সংখ্যা দুই বা তিনগুণ বেড়ে যেতে পারে। প্রাক্তন অধিনায়ক বিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সচিব এবং বর্তমান আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের প্রশংসা করেছেন মহিলাদের ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার জন্য, যার মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালে মহিলা প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউপিএল) চালু করা। রঙ্গস্বামী বলেছেন, 'জয় শাহ যখন বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন, তখন তিনি বেশ কয়েকটি সংস্কার প্রবর্তন করেছিলেন। যা মহিলাদের ক্রিকেটকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করেছিল। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে এটি বলছি, কারণ আমি মহিলাদের ক্রিকেটকে সমর্থনকারী শীর্ষ কাউন্সিলের অংশ ছিলাম এবং সেই উদ্যোগগুলি প্রচুর লাভজনক ফলাফল দিয়েছে।'
দেশের মহিলা ক্রিকেট দল এর আগে দু'বার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছে। প্রথমবার ২০০৫ সালে এবং তারপর ২০১৭ সালে। দু'বারই মিতালি রাজের নেতৃত্বে। রবিবার যদি ভারত ওডিআই বিশ্বকাপে জেতে তাহলে এটি দেশের মহিলা ক্রীড়ার জন্য একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)