লটারির নেশাতেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মেয়েকে খুন, বাদ গেলেন না স্ত্রীও!

মেয়েক নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল তাঁর। প্রতিবেশীদের কথাতেই বারবার উঠে এসেছে সেবিষয়। কিন্তু কেন এভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীনই এই চরম পথ বেছে নিলেন শেখর? কেন এভাবে তাঁর সখের বলি হতে হল স্ত্রী-মেয়েকে?

Updated By: Mar 20, 2018, 03:47 PM IST
লটারির নেশাতেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মেয়েকে খুন, বাদ গেলেন না স্ত্রীও!

নিজস্ব প্রতিবেদন:   ভীষণভাবে লটারির নেশায় আসক্ত ছিলেন। বাজারেও ছিল প্রচুর ধারদেনা। তা নিয়েই কিছুটা সাংসারিক অশান্তি। কিন্তু সেটাই কি একমাত্র কারণ?  মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীনই কেন মেয়ে-স্ত্রীকে খুন করতে গেলেন আপাত নিরীহ শেখর দেবনাথ?  হাবড়ায় মা-মেয়ের জোড়া দেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরতে পরতে রহস্য।

আরও পড়ুন: মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মেয়ে ও তার মায়ের দেহ উদ্ধার হাবড়ায়

শনিবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে আসার পর থেকেই আর দেখতে পাওয়া যায়নি  ভূদেব স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়েরর ছাত্রী পূজা ও তার মা মিঠু দেবনাথকে। সোমবারও পরীক্ষা দিতে যায়নি পূজা।  মঙ্গলবার পূজার কয়েকজন বন্ধুর তার সঙ্গে দেখা করতে যায়। সেখানেই বাধে গোল। পূজার বাবা অর্থাত্ শেখর দেবনাথের অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করে তারা। বিষয়টি নজর এড়ায়নি প্রতিবেশীদেরও।

আরও পড়ুন: খাটে স্ত্রীর দেহ, মাথার পাশে স্বামীর গলার নলি কাটা শরীর

আপাত নিরীহ মানুষ বলেই এলাকায় পরিচিত শেখর। তবে লটারির অতিরিক্ত নেশা ছিল তাঁর। ইদানীং মদ্যপানেরও আসক্তি বাড়ে। লটারির জন্যই বাজারে শেখরের দেনা বাড়তে থাকে। কিন্তু তা থেকেই যে তিনি চরম পথ বেছে নেবেন, তা ভাবতে পারেননি কেউ। স্ত্রী-মেয়েকে খুন করেই আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন শেখর। কিন্তু স্থানীয়দের তত্পরতায় তা আর হয়নি।

শেখরের বড় বাড়ি। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, কতটা আর্থিক কষ্ট ছিল এই পরিবারে? সিঁড়ির নিচে এখনও দাঁড় করানো পুজার সাইকেল। পাশে স্কুল ব্যাগ, জুতো। সিঁড়ি দিয়ে উপরে যেতেই চোখে পড়ল মাস্টার বেডরুম। সেই ঘরেই খাটের নিচে প্লাস্টিকে মোড়া অবস্থায় পড়ে ছিল পূজা ও তার মায়ের দেহ। শেখর এখন হাসপাতালে। মেয়েক নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল তাঁর। প্রতিবেশীদের কথাতেই বারবার উঠে এসেছে সেবিষয়। কিন্তু কেন এভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীনই এই চরম পথ বেছে নিলেন শেখর? কেন এভাবে তাঁর সখের বলি হতে হল স্ত্রী-মেয়েকে?

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক চলাকালীন আগুন, চাঞ্চল্য

 শুধুই কি দেনা, নাকি অন্য কারণ? যে মানুষটা পাড়ার কোনও ঝামেলায় থাকত না, এত বড় পদক্ষেপ করতে কি একবার হাত কাঁপল না তাঁর? কীভাবে খুন করলেন তিনি? কেনই বা দুটি খুন হয়ে যাওয়ার দুদিন পরও টের পেলেন না প্রতিবেশীরা? হাবরার এই ঘটনার তদন্তে নেমে উত্তর হাতরাচ্ছে পুলিস। প্রতিবেশীদের কৌতুহলী চোখে ঘোরাফেরা করছে এই বাড়িতেই।