)
পার্থ চৌধুরী: নকল ডিমের (Artificial Egg) কথা তো শুনেছেন। নকল মধু (Honey),ঘি-ও নাকি বাজারে ছেয়ে গিয়েছে। কিন্তু, এটা কি শুনেছেন, এবার চালও (Rice Grain) নকল? হ্যাঁ। খবর অন্তত তেমনই। পপুলার ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে যা-তা কোয়ালিটির চাল বিক্রির গুরুতর অভিযোগ আবার উঠল শস্যগোলা বর্ধমানে (Purba Bardhaman)।
চালে বেচাল
দাবি যে, 'নকল' বলে বোঝাই যাবে না। বস্তার রঙ এক, ব্র্যান্ডের নামও এক। এমনকি বস্তায় দেওয়া ফোন নাম্বারও এক। শুধুমাত্র কৌশল করা হয়েছে মিলের নামে। সেখানে পুরো নামের জায়গায় আদ্যক্ষরগুলি দিয়ে রাইসমিলের নাম লেখা আছে।
পূর্ব বর্ধমান থেকে পশ্চিম বর্ধমান হয়ে ঝাড়খণ্ড
অভিযোগ, এই নকল চাল বর্ধমানেই কোথাও তৈরি হচ্ছে। আর এর নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে আছে পূর্ব বর্ধমান থেকে পশ্চিম বর্ধমান হয়ে ঝাড়খণ্ডের বেশ কিছু এলাকায়। এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অনুমোদন পাওয়া ব্যবসায়ীরা। তাঁরা এবারে ঝাড়খণ্ডে গিয়ে হাতেনাতে দেখে এসেছেন এই কান্ড-- রমরম করে অরিজিনাল আর ডুপ্লিকেট পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে সেখানে। এবারে পূর্ব বর্ধমানের দক্ষিণ দামোদরে ফের চালের ব্র্যান্ড নকলের অভিযোগ উঠল।
রাইসমিলের আঁতুড়ঘর
দক্ষিণ দামোদর মানেই রাইসমিলের আঁতুড়ঘর। আর সেই রাইস মিল-শিল্পেই আজকাল হামেশাই নকলের কারবার বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ। বিভিন্ন মিলের জনপ্রিয় চালের ব্র্যান্ড নকল করে সেই চাল বাজারে চালান করার অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। তবে এবার ফের সেই ঘটনাই সামনে এল পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার গোপালপুর এলাকায় অবস্থিত নামী এক ব্র্যান্ডের রাইসমিলের ক্ষেত্রে।
আসল-নকল
মা... রাইস মিলের জনপ্রিয় ব্যান্ড খুব চালু। বহু বছর ধরে ওই নামেই ব্যবসা চালিয়ে আসছে তারা। মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ব্র্যান্ডের ট্রেডমার্ক তাদের নামে রেজিস্টার্ড রয়েছে। কিন্তু গত এক বছর ধরেই এই নামে নকল চালের বস্তা বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি বড়সড় সাফল্য পেলেন রাইস মিল কর্তৃপক্ষ। তারা হানা দেন ঝাড়খন্ডে। ঝাড়খণ্ডের চাষথানা এলাকার চাষ মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, একই সঙ্গে আসল ও নকল দুই ধরনের চালই বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টি দেখে মিল কর্তৃপক্ষ নকল চাল বিক্রেতাদের চাপে ফেলেন। মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই বিক্রেতারা নাকি পরে স্থানীয় থানায় গিয়ে লিখিত বিবৃতি দেন-- আর নকল চাল বিক্রি করবেন না!
চালের ব্র্যান্ড নকল করে
এছাড়া, ওই রাইসমিল কর্তৃপক্ষ বর্ধমান জেলা রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনেও লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাদের আরও অভিযোগ, স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীই চালের ব্র্যান্ড নকল করে বিভিন্ন রাজ্যে পাঠাচ্ছে। মিলের ম্যানেজার বলেন, 'আমাদের চালের বস্তায় রাইস মিলের নাম, ফোন নম্বর ও ট্রেডমার্ক উল্লেখ থাকে। fssai অনুমোদন আছে। কিন্তু নকল বস্তায় লেখা থাকে শুধুমাত্র প্রথম অক্ষর আর রাইস মিল, সেখানে ফোন নম্বর আর ঠিকানাও আমাদেরটাই দেওয়া থাকে। আমরা বিষয়টি অ্যাসোসিয়েশনকে জানিয়েছি। এখন দেখার বিষয়, তারা কী ব্যবস্থা নেন।'
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)