)
প্রদ্যুত্ দাস: রাজগঞ্জে ভূমিদপ্তর থেকে প্রায় ৫ হাজার ফাইল উধাও। আদালতের নির্দেশে তদন্তে পুলিসের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট। শনিবারের পর রবিবারেও সিটের সদস্যরা রাজগঞ্জ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অফিসের পাশাপাশি মাঝিয়ালি রেভিনিউ ইনসপেক্টর বা রাজস্ব আধিকারিকের অফিসে হানা দেন। ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে সিট সদস্যদের আরও কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালানোর কথা রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সবটা বলতে নারাজ তাঁরা।
রাজগঞ্জের বর্তমান বিএলআরও গোপাল বিশ্বাস জানান,যে ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না, সেগুলো ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে। সেই সময় বিএলআরও ছিলেন সুখেন রায়। বিএলআরও অফিসে সংস্কার কাজ চলায় ফাইল আরও অফিসে রাখা হয়। সেখানে এখন ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না।
সিট সূত্রে খবর, ২০২১-২৪ সালের মধ্যে রাজগঞ্জ বিএলআরও অফিসের প্রায় ৫ হাজার মিউটেশন ফাইল মিসিং। এনিয়ে দায়ের হওয়া মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ সিট গঠনের নির্দেশ দেয়। সেইমতো গত জানুয়ারি মাসে ৬ সদস্যের সিট গঠন হয়। এরপরই তদন্ত শুরু হলেও রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন চলে আসায় ওই কাজে কিছুটা ভাটা পড়ে বলে অভিযোগ। ভোট মিটতেই ফের ফাইল খোঁজার কাজে গতি বাড়াল স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। জলপাইগুড়ি জেলা পুলিস সুপার অমরনাথ কে এদিন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে সিট গঠন হয়েছে। সেই টিম ভূমিদপ্তরের মিসিং ফাইলের খোঁজ চালাচ্ছে।’
রাজগঞ্জে ভূমিদপ্তরের অফিস থেকে যেসমস্ত ফাইল মিসিং, সেগুলির বেশিরভাগই মিউটেশন ফাইল বলে পুলিস সূত্রে খবর। তবে গত ৫ বছরের মধ্যে সরকারি নথির প্রায় পাঁচ হাজার ফাইল কোথায় গেল, তা নিয়ে আলোড়ন ছড়িয়েছে। সরকারি দপ্তর থেকে এত বিপুল সংখ্যক ফাইল কোথাও কি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও।
সূত্রের খবর, শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ভক্তিনগর থানা এলাকায় জমি সংক্রান্ত মামলায় ফাইল লোপাটের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। এরপরই দায়ের হওয়া মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ ফাইল মিসিংয়ের ঘটনায় সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেয় পুলিসকে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)