)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে বড় আপডেট। মোট ৩ রাউন্ড গুলি চলে। পুলিসের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে এক রাউন্ড গুলি চালায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। পালটা পুলিস গুলি চালায় ২ রাউন্ড। এনকাউন্টারে নিহত প্রভাস মণ্ডলের দেহে পাওয়া গিয়েছে দুটি বুলেট ইনজুরি। একটি ক্ষত ডানদিকে বুকের নীচে। আরেকটি ক্ষতও ডানদিকে কোমরের উপরে পেটের কাছে।
প্রভাস মণ্ডলকে এনকাউন্টার করা ২ পুলিস অফিসার কে কে?
জানা গিয়েছে, সিটের সদস্য রনি সরকারের রিভলবার ছিনিয়ে নেয় প্রভাস। তখন নিজেদের বাঁচাতে গুলি চালায় অর্ঘ্য মন্ডল। রনি সরকার বর্তমানে ক্যানিং থানার পিসি ইনচার্জ। নির্বাচন কমিশন তাঁকে বকুলতলা থানার ওসি করেছিল। তার আগে নরেন্দ্রপুর, বারুইপুর, জয়নগর, বকুলতলা থানা সহ একাধিক জায়গায় ছিলেন রনি সরকার। কনস্টেবল থেকে সাব ইন্সপেক্টর হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে অর্ঘ্য মণ্ডল বারুইপুর থানার পিসি ইনচার্জ। জয়নগর, সোনারপুর, কুলতলি থানায় একাধিক দায়িত্ব সামলেছেন। একসময় বারুইপুরের SOG ইনচার্জ ছিল। ২০১৪ সালের ব্যাচ অর্ঘ্য মন্ডল।
এনকাউন্টারের পর পুলিসি পদক্ষেপ
এনকাউন্টারের পরই তা নিয়ে পুলিসি পর্যায়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। পুলিস সূত্রের খবর, আইজি কঙ্কর প্রসাদ, এসডিপিও নিজেদের মধ্যে এই এনকাউন্টার নিয়ে আলোচনা করেন। যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এনকাউন্টার করা হয়েছে, সেটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেই সময়ের ঘটনার বিবরণ প্রাথমিকভাবে কর্তব্যরত পুলিস অফিসারের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। যার কাছ থেকে অস্ত্র ছিনতাই করা হয় সেই রনি সরকার এবং যিনি এনকাউন্টার করেন সেই অর্ঘ্য মণ্ডল, দুজনকেই এসপি অফিসে তলব করা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, পুলিসি এনকাউন্টারে কারও মৃত্যু হলে অবশ্যই এফআইআর দায়ের করতে হবে। এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করতে হবে। তদন্ত অবশ্যই কোনও একটি স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে করতে হবে। অন্য কোনও থানার পুলিস, সিআইডি বা সিট তদন্ত করতে পারে। ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্ত বাধ্যতামূলক। এনকাউন্টারের ঘটনা দ্রুত কেন্দ্র বা রাজ্য কোনও একটি মানবাধিকার কমিশনে জানাতে হবে। এনকাউন্টে নিহতের ময়নাতদন্ত করতে হবে। অস্ত্র, রক্তের নমুনা, আঙুলের ছাপ-সহ ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত সমস্তরকম প্রমাণ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
কীভাবে ঘটে বারুইপুর এনকাউন্টার?
বারুইপুরের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েই নাটকীয় মোড় নেয় গোটা ঘটনা। মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে সূর্যপুরের ঘটনাস্থলে যায় পুলিস। অপরাধের পুনর্নির্মাণ শুরু করার ঠিক আগে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এক পুলিসকর্মীর হাত থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পুলিসের দিকে তাক করে গুলি চালায় ও ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। তখনই পুলিস পালটা গুলি চালায়। পুলিসের গুলিতে এনকাউন্টারে নিহত হয় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)