বিশ্বজিত্ মিত্র: নদীয়ার শান্তিপুর থানার গবার চর এলাকায় বিজেপি নেতার তাঁতঘরে আগুন ধরানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। আগুনে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। ক্ষতিগ্রস্ত পবিত্র বিশ্বাস পেশায় একজন তাঁত ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি বেলঘড়িয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা।
Add Zee News as a Preferred Source
মঙ্গলবার ভোররাতে কে বা কারা তাঁর তাঁতঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। অভিযোগ,কয়েকদিন আগেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়েছিল। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই পেট্রোল ঢেলে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন পবিত্র বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার খবর পেয়ে আজ দুপুরে ঘটনাস্থলে আসেন রানাঘাট লোকসভার সাংসদ জগন্নাথ সরকার। তিনি বলেন, বিজেপির কাজ দাঙ্গা বা আগুন লাগানো নয়। বিজেপি কোনো হুমকিতে ভয় পায় না। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই ঘটনার পিছনে শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বৃন্দাবন প্রামাণিকের ভূমিকা রয়েছে এবং তাঁকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বৃন্দাবন প্রামাণিক। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনার সঙ্গে আমার বা তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো যোগ নেই।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে। শান্তিপুর থানার পুলিস তদন্ত শুরু করেছে,আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও দোষীদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। রাজনৈতিক তরজা ও পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে গবার চর এলাকায়।
আরও পড়ুন-কুয়াশার আড়ালে উষ্ণতার আগমন! ধীরে ধীরে বাড়ছে তাপমাত্রা, আগামীকাল থেকে আরও...
আরও পড়ুন-নরেন্দ্র মোদীর নতুন বস নিতিন, কে এই ৪৫ বছরের তরুণ..
ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, পরিকল্পনা করে বিজেপির প্রতিবাদী মুখ পবিত্রর উপরে প্রাণঘাতী হামলা করা হয়েছে। কারণ এখানে তৃণমূল কংগ্রেস জমি হারাচ্ছে। চার দিন আগেও ওর বাড়িতে হামলা হয়েছে। তৃণণূল আগে হামলা করে। আবার তারাই গিয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ করে। এখানেও একই ঘটনা ঘটেছে। প্ল্যান করে পেট্রোল ঢেলে ওকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগুনে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা তাঁতের সাজসরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে।
বৃন্দাবন প্রামাণিক ও শান্তিপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বলেন, জগন্নাথবাবুর উচিত ওঁর যারা দলের লোক আছেন তাদের কাছ থেকে জেনে বলা উচিত। গরাবর চর গ্রাম আমার ওয়ার্ডের পাশের গ্রাম। অতীতে এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা ছিল। সিপিএমের আমলে ওখানে এমন কোনও দিন নেই যখন ঝামেলা হতো না। রোজ বোমার আওয়াজ শুনে ঘুমাতে যেতাম। সেরকম এক পরিস্থিতিতে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে প্রশাসনের উপস্থিতিতে আপাতত শান্তি ফিরে এসেছিল। সেই জায়গায় ফের উত্তাপ সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। আমরা বলব ঘটনা সম্পর্কে সঠিক জেনে মন্তব্য করা উচিত। এলাকার মানুষ জানে তৃণমূল বা বৃন্দাবন প্রমাণিক ওই ঘটনবার সঙ্গে জড়িত নন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)