ই.গোপী: পুরী নয়, বাংলাতেই রয়েছে প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির, নেপথ্যে কয়েকশো বছরের ইতিহাস। সামনে বাঙালির শ্রেষ্ঠ পার্বণ রথযাত্রা। তবে পুরী নয়, এই বাংলায় রয়েছে এক প্রাচীন জগন্নাথমন্দির। যা বয়ে চলেছে সুদূর প্রাচীন ইতিহাস।
Add Zee News as a Preferred Source
বাংলার আনাচে-কানাচে রয়েছে নানা স্থাপত্য, একাধিক মন্দির, প্রত্ন নিদর্শন। তারা বিভিন্ন সময়ের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। সেইসব মন্দিরের গঠনশৈলী এবং রীতি ঐতিহ্যের প্রমাণ দেয়। বাংলা-ওড়িশা সীমানা এলাকায় থাকা এরকম একাধিক প্রাচীন মন্দিরও এখনও প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষ্য দিয়ে চলেছে। যেমন, দাঁতন।
আরও পড়ুন: Kullu Cloud Burst WATCH: মুহূর্তের মধ্যেই জলের পাহাড় গ্রাস করল এলাকা, চালাল মারণ ধ্বংসলীলা! তীব্র গতিতে ছুটছে গাছ-পাথর...দেখুন...
আরও পড়ুন: Boeing 747 Crash in Mid-Air: ভয়ংকর! আকাশেই মৃত্যু ৩৫৯ যাত্রীর! হাজার-হাজার ফুট উপরে ভয়াবহ সংঘর্ষ বোয়িং-৭৪৭ ও কেজেডএ ১৯০৭-র...
শাহজাহানের আমলের
দাঁতন বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত, আগে তা ছিল ওড়িশার অধীন। এই অঞ্চলে একটা সময়ে গড়ে উঠেছিল একাধিক মন্দির। এর মধ্যেই বেশ নজরে পড়ার মতো হল সেখানকার জগন্নাথ মন্দির। মন্দিরটিকে বেশ কয়েকশো বছরের পুরনো বলেই মনে করেন ইতিহাস গবেষকেরা। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল সম্রাট শাহজাহানের আমলেই। সম্রাট শাহজাহানের সময়ের এই মন্দির বহন করে চলেছে বেশ কয়েকশো বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে। এই মন্দিরের গঠনশৈলী, মন্দিরের সামনের টেরাকোটা নির্মাণ কয়েকশো বছরের ইতিহাসকে প্রকাশ করেছে।
শরশঙ্কা এবং আঙ্গুয়া
সামনেই রথযাত্রার উৎসব। বাংলা ওড়িশা-- দুই রাজ্যই এই সময়ে মেতে উঠবে আনন্দ-উৎসবে। পশ্চিম মেদিনীপুরের বাংলা-ওড়িশা সীমানা এলাকা দাঁতন থানার শরশঙ্কা গ্রামেই রয়েছে এই প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির। সম্রাট শাহজাহানের আমলে দাস মহাপাত্র পরিবারের সদস্যরা সুবর্ণরেখা নদীতে কর আদায়ের জন্য নিযুক্ত হয়েছিল। তাঁরা পলাশিয়া গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন বসতভিটা। তবে সুবর্ণরেখা নদীতে বারংবার বন্যার কারণে দাস মহাপাত্র পরিবারের শরিকেরা বসতি স্থাপন করে দাঁতন থানার শরশঙ্কা এবং আঙ্গুয়া এলাকায়। এই শরশঙ্কা গ্রামেই তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেন জগন্নাথ মন্দির।
উৎকল বঙ্গীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন
ইতিহাস গবেষকদের মতে, ওড়িশা সংস্কৃতির আদলে এই মন্দিরটি নির্মিত হলেও, উচ্চতায় অনেকটা অনেক কম। সামনে দেওয়ালে রয়েছে টেরাকোটার আদলে একাধিক ছোট ছোট মূর্তি। মন্দিরের দ্বারমুখে রয়েছে দারোয়ান। এছাড়াও রয়েছে নাটমন্দির। স্বাভাবিকভাবে উৎকল বঙ্গীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন এই প্রাচীন মন্দিরে। বর্তমানে দাস মহাপাত্র পরিবারের সদস্যরা এই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ করেন। এই প্রাচীন ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রেখেছে সম্ভ্রান্ত এই পরিবারের সদস্যরাই।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)