)
বাসুদেব চট্টোপাধ্যায়: ভোটে জয়ের আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার গঠনের পর তা কার্যত পূরণ করলেন বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। আসানসোলের বস্তিন বাজারের বিতর্কিত দুর্গা মন্দিরে পুজো দিয়ে নিজের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের সূচনা করলেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, ওই মন্দিরে শুধুমাত্র দুর্গাপুজো,কালীপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর সময়েই দরজা খোলার অনুমতি দেওয়া হত। বছরের বাকি সময় সাধারণ ভক্তদের প্রবেশ বা নিত্যপুজোর অনুমতি মিলত না। বিজেপির অভিযোগ, জেলা প্রশাসন রাজ্য সরকারের নির্দেশেই এই নিয়ম চালু রেখেছিল।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রীও আসানসোলের জনসভা থেকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন,বিজেপি সরকার গঠিত হলে মন্দির খুলে যাবে এবং নিত্যপুজো শুরু হবে। সেই মন্দির যে আসানসোল উত্তর বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত, সেখানকার বর্তমান বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় নির্বাচনের আগেই মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেছিলেন।
অবশেষে সরকার গঠনের পর কার্যত খুলে দেওয়া হল মন্দিরের দরজা। রবিবার সকাল থেকে ভক্তদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য এলাকায় মোতায়েন রয়েছে পুলিস বাহিনী এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
মন্দির খোলা নিয়ে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, আসানসোলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার অবসান হল। বিদায়ী সরকার এই দুর্গা মন্দিরকে বন্ধ করে রেখেছিল দিনের পর দিন এই মন্দিরে নিত্যপুজো হয়নি। নিত্যপুজো না হওয়ার অর্থ এক অশুভ সংকেত। আসানসোল শহরের এই অশুভ সংকেতটাকে আমরা সরিয়ে দিয়েছি। আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, এই মন্দির আমরা খুলব। আজ থেকেই এখানে নিত্যপুজো চালু হবে। আজ থেকে মন্দির খুলে গেল। মন্দির নিয়ে রাজনীতি হয়েছিল। ভোট ব্যাংকের রাজনীতি করতে গিয়ে, কিছু সম্প্রদায়ের মানুষকে তুষ্ট করতে গিয়ে এই মন্দিরকে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। আমি বলেছি, এই মন্দির খেলা যেন সনাতনীদের দায়িত্ব, তেমনি মন্দিরের আসপাশে যেসব অন্য ধর্মের মানুষ ব্যবসা করে তাদেরও যেন ক্ষতি না হয় তা দেখতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় রাখার দায়িত্ব আমাদের।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)