)
নকিব উদ্দিন গাজী: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা থানার দেবীপুর এলাকায় ২৫ বছরের এক গৃহবধূর রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম সুপ্রিয়া মণ্ডল। গত সোমবার একটি জলাশয়ের ধারে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিস। প্রথমে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি খুন— তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই সামনে এসেছে চমকে দেওয়া তথ্য। রাস্তার পাশ থেকে গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধারের পর পুলিসের তদন্তে সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মৃতার অন্তর্বাস থেকে মেলে ভুয়ো সুইসাইড নোট! আর তারপরই গ্রেফতার ওই গৃহবধূর প্রেমিক।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবীপুরের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ মণ্ডল ওরফে চিরনের সঙ্গে সুপ্রিয়ার বিয়ে হয়েছিল। দাম্পত্য জীবনে অশান্তির জেরেই সম্পর্কে ভাঙন ধরে। এরই মধ্যে প্রসেনজিতের আত্মীয় স্বরূপ ভাণ্ডারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে সুপ্রিয়ার। কয়েক বছর আগে তিনি স্বরূপের সঙ্গে পালিয়ে যান এবং বেহালা এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে বসবাসও শুরু করেন। তবে সেখানেও নিত্যদিনের কলহ ও মানসিক অশান্তি তাঁদের সম্পর্ককে জটিল করে তোলে। তদন্তে উঠে এসেছে, সেই অশান্তির জেরেই বেহালার ভাড়াবাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন সুপ্রিয়া। কিন্তু মৃত্যুর পর ঘটনাকে অন্য খাতে ঘোরানোর চেষ্টা হয়।
অভিযোগ, স্বরূপ ভাণ্ডারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে সুপ্রিয়ার স্বামী প্রসেনজিৎকে ফাঁসানোর ছক কষে। তাই একটি ভুয়ো ‘সুইসাইড নোট’ লিখে মৃতার অন্তর্বাসে রাখা হয়। যেখানে সুপ্রিয়ার মৃত্যুর জন্য প্রসেনজিৎ ও তাঁর পরিবারের দায়ী থাকার কথা উল্লেখ ছিল। এরপর মৃতদেহ বাইকে করে বসিয়ে ফলতার রামনগর পোলের পাশে ফেলে দিয়ে যায় স্বরূপ। পুলিসের দাবি, ওই সুইসাইড নোটটি সুপ্রিয়া লেখেননি। বরং স্বরূপ নিজেই তা লিখেছিলেন। এরপর বেহালা থেকে মোটরবাইকে করে সুপ্রিয়ার দেহ ফলতার দেবীপুরে নিয়ে এসে একটি জলাশয়ের পাশে ফেলে দিয়ে যায় স্বরূপ। সোমবার দেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় ডায়মন্ড হারবার পুলিস মর্গে।
ঘটনার তদন্তে নেমে ডায়মন্ড হারবার পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার সন্দীপ গড়াই জানান, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও পারিবারিক অশান্তির জেরেই আত্মঘাতী হন সুপ্রিয়া। কিন্তু তার পরবর্তীতে প্রমাণ লোপাট ও নির্দোষ ব্যক্তিকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নেয় মৃতার প্রেমিক। সেই অভিযোগে ইতিমধ্যেই প্রেমিক স্বরূপ ভাণ্ডারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতকে ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ধৃতের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিস।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)