Mamata Banerjee: এসআইআরের প্রসঙ্গে টেনে মমতা বলেন, এসআইআর হল বড় একটা স্ক্যাম। এটা এসআইআর নয়, বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার একক প্রচেষ্টা

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিজেপির দিল্লির নেতাদের পরিযায়ী রাজনীতি, রাজ্যে এসআইআর ও রাজ্য ভাগের পরিকল্পনা নিয়ে কেশিয়াড়ির মানুষদের সতর্ক করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, এসআইআর-কে একটি স্ক্যাম বলতেও পিছপা হলেন না তৃণমূল নেত্রী।
শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেশিয়াড়ির মাটি আদিবাসীদের শক্ত ঘাঁটি। আর এই কেশিয়াড়িতেই আরএসএসের একটি শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। সেখানে বন্দুক চালানো শেখানো হয়। খোঁজ খবর আমি রাখি। যারা ভালো কাজ করবে তাদের সম্মান করুন। আর যারা ভোট কাটবে তাদের বর্জন করে দিন। আমরা ক্ষমতায় আসার আগে এখানে রক্ত ঝরতো। মানুষ খেতে পেত না, রাস্তায় বের হতে ভয় পেত। কলেজ ছিল না, হাসপাতাল ছিল না। আজ আমূল বদল হয়েছে। কেন্দ্রের দয়ায় নয়। এখানে আমোদি প্রমোদি বাবু আসছেন, মোটাভাই আসছেন। বন্যা হলে আসে না, ঝড় হলে আসে না। শুধু ভোট হলে শালিক পাখির মতো উড়ে আসেন, আর ফুড়ুত করে উড়ে চলে যান। কোনও আদিবাসীদের উত্সবে এসেছেন? আদিবাসী দিবসে আমি এখানে আসি। মনে রাখবেন জঙ্গলের অধিকার আমরা আদিবাসীদের ফিরিয়ে দিয়েছি। আমরা আইন করে বলেছি, আদিবাসীদের জমি আদিবাসীদেরই থাকবে।
এসআইআরের প্রসঙ্গে টেনে মমতা বলেন, এসআইআর হল বড় একটা স্ক্যাম। এটা এসআইআর নয়, বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার একক প্রচেষ্টা। সবার নাম কেটে দেওয়া, মানুষকে লাইন দাঁড় কাটিয়ে অপমান করার চেষ্টা। এআইআর-এ ৯০ লাখ ভোট কেটেছে। তার মধ্যে ৬০ লাখ হিন্দু। আর ৩০ লাখ মুসলমান। আজও লোককে অ্যাডজুডিগেশনের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। জুন বলছিল, সব জায়গায় আদিবাসীদের উপরে অত্যাচার হচ্ছে। তপসিলিদের উপরে অত্যাচার হচ্ছে, বাংলায় কথা বললে অত্যাচার হচ্ছে। আমরা আমাদের ভাষায় কথা বললে আপনারা কেন রাজস্থানে, মধ্যপ্রদেশে অত্যাচার করেন? একবার জবাব দেবেন কি তার?
বিহারের এসআইআর এর প্রসঙ্গে টেনে মমতা বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্য মাছ খাওয়া বন্ধ, মাংস খাওয়া বন্ধ। মনে রাখবেন, সতর্ক করছি আপনাদের, ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট চাইলে কাউকে দেবেন না। টাকা পাঠানোর নাম করে সব টাকা তুলে নেবে। আর আপনার টাকায় কিছু কালো টাকা মিশিয়ে দিয়ে ইডি-সিবিআইয়ের রেইড করবে। মনে রাখবেন ওই টাকা কালোবাজারিদের টাকা। ওই টাকা ছোঁবেন না। এরা রেল থেকে শুরু করে, সেল থেকে শুরু করে, এলআইসি-সব বেচে দিয়েছে। এরপর গ্য়াসও পাবেন না। ভোটের পর গ্যাস বেলুনের মতো উড়ে যাবে। বিহারে যাদের ভোটে কেটেছে তাদের নাকি বলা হচ্ছে তাদের রেশন বন্ধ,ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ। আমি বলি, আমি বেঁচে থাকতে আমি এসব করতে দেব না। এটা মাথায় রাখবেন। ভোট চলাকালীন এরা সংসদে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে আসছে। কতবড় অন্যায় দেখুন! অপেক্ষা করতে পারল না! কারণ টুকরো টুকরে করবে বাংলাকে। কারও কথায় কান দেবেন না। সম্মান নিয়ে বাঁচতে গেলে চাই তৃণমূল সরকার। জোড়াফুলের সরকার।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)