)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের মতো দ্বিতীয় বৈঠকেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। তার মধ্যে একটি হল, তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনস্থ ধর্মীয় শ্রেণিবিন্য়াসের ভিত্তিতে প্রদত্ত সহায়তমূলক প্রকল্পসমুহ বন্ধ করা হল। এমনটাই জানিয়েছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এবার ক্য়ামাক স্ট্রিটের এক সভায় বিষয়টি স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ক্যামাক স্ট্রিটের সভায় আজ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের উপসনালয়ের চৌহদ্দির মধ্যেই লাউড স্পিকারের আওয়াজ সীমাবদ্ধ রাখুন না ভাই! ভোর চারটে থেকে কেন এসব করেন? সরকারের কাজ কি ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের ভাতা দেওয়া? নাকি শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো করা? ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়া নাকি চাকরি দেওয়া? আজ রাজ্য মন্ত্রিসভা সব ধরনের ধর্মীয় ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে।
রাজ্য বহু প্রতিভাবান ছাত্রীছাত্রী রয়েছে। সব ধর্ম, সব পার্টি রয়েছে, কারও সঙ্গে কোনও ভেদাভেদ হবে না। যে মেরিটোরিয়াস পড়ুয়া অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হবে তারা আজ থেকেই বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ পাবেন। যারা এতদিন ভাতা পাচ্ছিলেন তারা এবার স্কলারশিপ পাবেন। তারা হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিষ্টান হতে পারেন। কোনও সমস্যা হবে না। মেধাবান হলেও তাদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী বানানোর জন্য ভারতীয় জনতা পার্টি তৈরি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তোষণের রাজনীতি আর হবে না।
উল্লেখ্য, সোমবারই পার্ক সার্কাসে পুলিসের উপরে হামলার জেরে হাঙ্গামাকারীদের কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সাফ কথা, যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে আর এসব হাঙ্গামা হবে না। এটাই শেষ। এরপর যদি কখনও এরকম দেখি তাহলে তাঁর থেকে খারাপ পুলিস মন্ত্রী আর কেউ হবে না।
পুলিসের দক্ষতার প্রশংসা করে সোমবার মুখ্য়মন্ত্রী বলেন,পুলিস ইতিমধ্যে ৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে। সিপি নিজে এক্ষেত্রে দেখভাল করছেন। একটা কথাই বলে গেলাম, জিরো টলারেন্স নিন। পার্ক সার্কাস-সহ যেখানেই যারা এরকম ঘটনা ঘটিয়েছেন তারা শুনে রাখুন, এটা আপনাদের শেষ ঘটনা। এরপর এই ধরনের অ্যাকশন আর আমরা করতে দেব না। যদি করেন তাহলে আমার থেকে খারাপ পুলিসমন্ত্রী আর কেউ হবে না।
কাশ্মীরের পাথর ছোড়ার প্রসঙ্গ ওঠায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কাশ্মীরে পাথর ছোড়া অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাংলার এরকম অভ্যাস বেড়ে গিয়েছিল। পুলিসের মধ্যেও আতঙ্কের পরিবেশ ছিল। কিন্তু আর সেই আতঙ্কে নেই। পুলিস যা করবে তা আইন অনুযায়ী করবে। পুলিস আক্রান্ত হবে আর পুলিসমন্ত্রী এসি রুমে বসে দেখবে, এসব দিন চলে গিয়েছে। গুন্ডাগিরির দিন বাংলায় শেষ। যারা হাঙ্গামাকারী তাদের কাছেও একটা মেসেজ যাওয়া উচিত, এই সরকার দেখতে হবে, করতে হবে এমন ব্যাপারে আর নেই।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)