Dhupguri co operative election: জয়ের পর সরব হয়েছে বাম নেতৃত্ব। স্থানীয় সিপিআইএম নেতা মুক্তার আলি জানান, তৃণমূলের তরফে ছাপ্পা ভোট ও হামলার চেষ্টা হয়েছিল।

প্রদ্যুত দাস: দক্ষিণবঙ্গের নদিয়া জেলার কালীগঞ্জের উপ নির্বাচনে যখন তৃণমূলের জয় জয়কার, ঠিক উল্টো ছবি উত্তরের সমবায় ভোটে ধূপগুড়িতে তৃণমূলকে বড় গোল দিয়ে 'লাল-গড়' অটুট রাখল বামেরা।
একদিকে যখন আর কয়েক ঘন্টা পর প্রকাশ হবে কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের ফলাফল। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে গণনা। বাংলার কালীগঞ্জ ছাড়াও দেশের আরও চার জায়গা সোমবার প্রকাশ হচ্ছে উপনির্বাচনের ফলাফল। প্রয়াত বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদ তথা লাল সাহেবের কন্যা ও তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে কখনও বিজেপি আবার কখনও বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী উঠে আসছেন।
কালীগঞ্জে বামেরা প্রার্থী দেয়নি। কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থীকেই তারা সমর্থন জানিয়েছে। তবে সেই সমর্থনে তাদের ভোটের শিকে ছিঁড়বে কিনা সে উত্তর সময় দেবে। অন্তত কালীগঞ্জ না হোক, ধুপগুড়ি তো রয়েছে।
জলপাইগুড়ির ধুপগুড়িতে বাম শিবিরের জন্য আজ উৎসবের দিন। কারণ, তৃণমূলকে একের পর এক গোল দিয়ে জয় হয়েছে তাদের। রবিবার সেখানে মাগুরবাড়ি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আলতাগ্রাম সমবায় সমিতির নির্বাচনে ৯টি আসনের মধ্যে ৮টি আসনে জয়লাভ করেছে সিপিএম।

কার্যত ধরাশায়ী ঘাসফুল শিবির। এই সমবায় নির্বাচনে রীতিমতো চমক দেখাল বাম শিবির। মাগুরবাড়ি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আলতাগ্রাম সমবায় সমিতির নির্বাচনে ৯টি আসনের মধ্যে ৮টি দখল করে নিয়েছে সিপিএম। সকাল থেকেই শুরু হয়েছিল ভোটপর্ব। দিনের দিন ফলাফল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সমবায় নির্বাচনে অশান্তি এড়াতে মোতায়েন হয়েছিল বিরাট পুলিস বাহিনী। তবে কোনও রকম উত্তেজনা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। শান্তিপূর্ণ ভাবেই মিটেছে ভোটপর্ব। সবশেষে সমবায়ের ৯টি মধ্য়ে ৮টি আসনে জয়লাভ করেছে বাম প্রার্থীরা। ১টি আসন গিয়েছে তৃণমূলের কাছে।
এদিন জয়ের পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তুলেছে ধূপগুড়ির বাম শিবির। স্থানীয় সিপিআইএম নেতা মুক্তার আলি বলেন, 'আমাদের উপর আক্রমণ করেছে, ছাপ্পা ভোট করেছে। তারপরেও আমরা জিতেছি। মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।'
রবিবার সকাল থেকেই শুরু হয় ভোটগ্রহণ। আর দিনের শেষে ফলাফল সামনে আসতেই দেখা দেয়, তৃণমূল কার্যত ধরাশায়ী, একমাত্র একটি আসনে তাদের জয় মিলেছে। বামেদের এই জয়কে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই ধূপগুড়িতে খুশির হাওয়া। এলাকা জুড়ে উল্লাসে মেতে উঠেছেন কর্মী-সমর্থকেরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের দিন যাতে কোনও রকম গন্ডগোল না হয়, তার জন্য মোতায়েন ছিল বড়সড় পুলিশ বাহিনী।

তবে দিনের পুরোটা জুড়ে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। জয়ের পর সরব হয়েছে বাম নেতৃত্ব। স্থানীয় সিপিআইএম নেতা মুক্তার আলি জানান, তৃণমূলের তরফে ছাপ্পা ভোট ও হামলার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বামেদের উপর ভরসা রেখেছে। ভোটে সিপিএম পরিষ্কারভাবে জয়ী হয়েছে। তবে এই হারে দমে যেতে নারাজ ঘাসফুল শিবির। স্থানীয় তৃণমূল নেতা মুকুল রায় বলেন, ধূপগুড়ি এলাকায় বরাবরই সিপিএমের সংগঠন শক্তিশালী। তৃণমূল প্রার্থী দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। লড়াই করেছে। মানুষ দেখেছে তৃণমূল ময়দানে ছিল। আগামী দিনে এর ফল আসবে বলে তিনি মনে করেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)