)
অনুপ কুমার দাস: পূর্ণিমা স্বর্ণকার। কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা। বছর ৭-৮ ধরে পেনশন পান। স্বামী ট্রেনচালক ছিলেন। বর্তমানে তাঁর পেনশন গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৮০০ টাকা। কিছু টাকা লোন নিয়েছিলেন। তার জন্য ১০ হাজার টাকা করে কেটে নেয় ব্যাংক। এখন গত ২ মাস তিনি পেনশন পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়েই তিনি ব্যাংকের সামনে ধর্নায় বসেছেন।
কেন এমন জটিলতা? প্রথমত, ব্যাংক থেকে পূর্ণিমা স্বর্ণকার একবার ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তার জন্য টাকা কাটে ব্যাংক। পাশাপাশি একবার এরিয়ারের টাকা হিসেবে ভুল করে পূর্ণিমা স্বর্ণকারের পেনশন অ্যাকাউন্টে ৯৬ হাজার টাকা চলে আসে। সেই টাকা পূর্ণিমা স্বর্ণকার তুলে খরচ করে ফেলেন। ব্যাংক জানালে বলে আমি কী করে দেব! ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেয় পূর্ণিমা স্বর্ণকারের অ্যাকাউন্টে এরিয়ারের যে টাকা ঢুকেছিল তা পেনশনের টাকা থেকে কেটে শোধ হবে। বাকী টাকা পেনশন হিসেবে হাতে পাবেন।
পূর্ণিমা স্বর্ণকার বলেন, দুমাস পেনশন পাইনি। আমরা একটা লোন নেওয়া আছে। সেটার জন্য মাসে ১০ হাজার টাকা কাটে। আর আমার অ্যাকাউন্টে ৯০ হাজার টাকা বেশি চলে এসেছিল। সেটার জন্য মাসে আরও ৪ হাজার টাকা কেটে নিতে বলেছি। কিন্তু গত ২ মাস ধরে ব্যাঙ্কে পুরোটাই কেটে নিচ্ছে। বলছে, ৪ মাসে ৯০ হাজার টাকা কেটে নেবে। তারপর আমাকে পেনশন দেবে। মাসে ২৪ হাজার ৮০০ টাকা পেনশন পাই। এখন ১০ হাজার টাকা হাতে পাচ্ছি। ওদের বক্তব্য, ওই ৯০ হাজার টাকা শোধ হওয়ার পর পেনশন পাব। এখন চার মাসে যদি ওই বিপুল টাকা কেটে নেয় তাহলে আমরা ওষুধ, ঘর চলবে কী করে?
অন্যদিকে, কৃষ্ণনগর সেন্ট্রাল ব্যাংকের ম্যানেজার পরিতোষ পাল বলেন, ওনার পেনশন এরিয়ার হিসেবে যে টাকা পাওয়ার কথা ছিল তার থেকে ৯৬ হাজার টাকা বেশি ওঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। ব্যাংকে না জানিয়ে ওই টাকা উনি তুলে নেন। ২ বছর পর যখন ব্যাংক সেই টাকা যখন রিকভার করতে যাচ্ছে তখন উনি বলছেন ওই টাকা উনি দিতে পারবেন না। সেই জন্য ওঁর পেনশন হোল্ড রয়েছে। ব্যাংক ঠিক করেছে ৮ হাজার করে ওই টাকা রিকভার করা হবে। ওর লোনের জন্য কিছু টাকা কাটা হবে। বাকী যে টাকা পড়ে থাকবে তা উনি পেনশন হিসেবে পাবেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)