)
রণজয় সিংহ: টানা ১৩ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। আজও সৎকার হয়নি অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রের দেহ। বাড়িতেই ফ্রীজারে রাখা আছে। মালদার মানিকচক থানার ঘটনা। দেহ সৎকারের কোন উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। আর যা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। চলতি মাসের ২ তারিখ রাতে মানিকচকের রোজমেরী মিশনারী স্কুলের আবাসন থেকে দেহ উদ্ধার হয় শ্রীকান্ত মন্ডল নামে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রের। রহস্যজনক ভাবে মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি আত্মহত্যা করেছে ওই ছাত্র। তবে পরিবার ওই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অত্যাচারের শিকার হয়েছে ছাত্রীটি। মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ করে ছাত্রের পরিবার। পুলিস দেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্ত করা হয়। আর সেই ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও আত্মহত্যা কথা বলা হয়। কিন্তু ছাত্রের পরিবার এই রিপোর্ট মানতে অস্বীকার করে।
ছাত্রের পরিবারের অভিযোগ পুলিস অভিযুক্ত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাজির হোসেনকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। অভিযুক্তের সঙ্গে যোগসাজশ করে ছাত্রের মৃত্যুর পিছনে আত্মহত্যার তথ্য খাড়া করছে। আর তাই নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য হাইকোর্টে দারস্থ হয়েছেন ছাত্রের পরিবার। আর পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য ছাত্রের দেহটি ১৩ দিন ধরে সৎকার না করে ফ্রীজার করে রেখেছেন। গ্রামবাসী ও ছাত্রের মা-বাবার দাবি অবিলম্বে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হোক। অভিযুক্তদের ধরা হোক। তাদের ফাঁসির দাবি গ্রামবাসীদের।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়নি। ছাত্রটি আবাসনের যে ঘরে আত্মহত্যা করেছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন সেই ঘরে ৪০ জন ছাত্র একসঙ্গে থাকে। রাতে সকল ছাত্র ঘুমিয়ে পড়েছিল। এমন যুক্তিও মানতে নারাজ পরিবার। ফলে এই অষ্ঠম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যুর পিছনে রহস্য রয়েছে। আর পুলিস ওই রহস্য সমাধান না করে অভিযুক্তকে আড়াল করছে। গ্রেপ্তার করা হয়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ময়দানে বিজেপি। মালদা দক্ষিণ বিজেপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক গৌড় চন্দ্র মন্ডলের দাবি, চটি চাটা পুলিস তৃণমূল কংগ্রেসের অঙ্গুলিহেলনে চলে। তারই প্রমাণ মানিকচকের ঘটনা। এখনও পর্যন্ত পুলিস তদন্ত করেনি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগের পরও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেনি। আর তাই ছাত্রের পরিবার ১৩ দিন ধরে নার্য্য বিচারের আশায় মৃতদেহ ফ্রীজার করে রেখেছেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ইমরান হাসানের অভিযোগ বিজেপি ছাত্রের মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করছে। এর পিছনে বড়সড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তির মদতে এমন ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিসকর্তারা এখনও নিশ্চুপ।এই ঘটনায় এখনও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। ফলে প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)