)
মৌমিতা চক্রবর্তী: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক জয় বিজেপির। ৯ মে রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে গতকালই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে বিকেলে আয়োজ-on করা হয়েছিল রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান। একদিকে যেমন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ নিয়ে গোটা রাজ্য উত্সব মুখর। অন্যদিকে তেমনই রাজ্যের নজর ছিল মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেও।
মমতা কী বলছেন, তাঁর আগাম পদক্ষেপ কী হবে-- এই নিয়ে অনেকের মনেই নানান প্রশ্ন, কৌতূহল। ৯ মে কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে নাম না করে বিজেপিকে রুখতে সমস্ত বিরোধী শক্তিকে একজোট হওয়ার ডাক দেন তিনি। মমতার স্পষ্ট বার্তা, 'এখন কে কার শত্রু সেটা ভাবার সময় নয়। বিজেপি আমাদের সকলের সাধারণ রাজনৈতিক শত্রু।'
মমতার এহেন বার্তার পরই গোটা রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল পড়ে যায়। এরপরই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই জোট প্রস্তাব খারিজ করে সপাটে জবাব দেন। তিনি লেখেন, 'না, একদম না! অপরাধী, তোলাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও সাম্প্রদায়িক পরিচয় আছে, এমন কাউকে কোনো মূল্যেই ঢুকতে দেওয়া হবে না। তবে সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগণকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।'
২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের বুকে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। গতকাল তিনি সেই বামেদের প্রতিই হাত বাড়ানোর কথা তুললেন। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক লড়াই ভুলে মমতা জানান, বিজেপিকে হারাতে বামপন্থীদের সঙ্গে জোট বাঁধতে তাঁর কোনও ‘ইগো’ বা অহংবোধ নেই। এমনকি আল্ট্রা-বাম বা অতিবাম দলগুলিকেও এই মঞ্চে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে শক্তি বিভাজন রুখতেই এই কৌশলগত অবস্থান নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
এমনকী এদিন ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বাংলার মানুষ আজ আক্রান্ত। বিজেপি কর্মীরা মদ্যপ অবস্থায় তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি ও পার্টি অফিসে তাণ্ডব চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, চারদিকে সন্ত্রাস চলছে, কিন্তু ভয় পাবেন না। ভয়কে জয় করতে হবে। বাংলাকে বাঁচাতে তিনি ছাত্র, যুবক এবং সামাজিক সংগঠনগুলিকে একযোগে পথে নামার ডাক দিয়েছেন।
মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই লড়াই শুধু বাংলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের স্বার্থে এবং বিজেপিকে পরাস্ত করতে তিনি জাতীয় স্তরেও সমমনস্ক দলগুলিকে নিয়ে ময়দানে নামবেন। রবীন্দ্রজয়ন্তীর পবিত্র দিনে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেন, "আজ থেকেই আমাদের নতুন লড়াই শুরু হল।" বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষা এবং বিজেপিকে রুখতে দলমতনির্বিশেষে সকলকে এক ছাতার তলায় আসার এই আহ্বান আগামী দিনে ভারতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)