West Bengal: গোয়ালপোখরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন, 'এটা মোটিভেটেড করে করা হয়েছে। বিহারে বিজেপির শাসন চলে। ফলে একইভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। তাদের বাংলাতেই আমি চিকিৎসার ব্যবস্থা করব।'

ভবানন্দ সিংহ: হরিয়ানার পর এবার বাড়ির পাশে বিহার। চিকিৎসা না পেয়ে ফিরতে হল গোয়ালপোখরের পা ভেঙে বাড়ি ফেরা পরিযায়ী শ্রমিককে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার আশ্বাস দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানী। ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে হরিয়ানার পুলিসের কাছে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন মহম্মদ জুনেইদ বলে অভিযোগ। পুলিসের অমানবিক আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে বাড়ি ফেরার পর চিকিৎসা পেতে কিশানগঞ্জের একটি বেসরকারী নার্সিংহোমে ভর্তি হতে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানেও তাঁকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য রাজি হননি কর্তৃপক্ষ।
তাঁদের যুক্তি ছিল, "ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, পরে হরিয়ানার পুলিস তদন্ত শুরু করতে পারে। তখন আমাদেরও ঝামেলায় পড়তে হতে পারে।" ফলে, বাধ্য হয়েই বিহার থেকে আহত জুনেইদ এবং তার পরিবার বাড়ি ফিরে আসেন। এই ঘটনার কেন্দ্রে আছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর ব্লকের সোলপাড়ার বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিক মহম্মদ জুনেইদ। দীর্ঘ সাত-আট বছর ধরে হরিয়ানার পানিপথ এলাকার একটি কার্পেট ফ্যাক্টরিতে কাজ করছিলেন।
২৪ জুলাই রাতে তিনি ফ্যাক্টরিতে নাইট শিফটে কর্মরত ছিলেন, ঠিক তখনই পুলিসের একটি দল এসে তার পরিচয় জানতে চায়। তাদের সন্দেহ ছিল, তিনি বাংলাদেশি নাগরিক। পুলিসের কাছে আধার কার্ড দেখানোর পরও তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকে নির্যাতন করা হয়। পুলিসের অভিযোগ ছিল, তার আধার কার্ড জাল। পুলিস বারবার তাকে স্বীকার করতে চাপ দেয় যে, সে বাংলাদেশি। না মানলে শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। তার পায়ে লাঠির আঘাতে হাড় ভেঙে যায় এবং তার নাক ফেটে রক্ত বের হতে থাকে।
প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলা মারধরের পর জুনেইদ অচৈতন্য হয়ে পড়েন। পরদিন ভোরে ফ্যাক্টরির মালিক থানায় গিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন। আহত অবস্থায় বাড়ি ফেরার পর চিকিৎসা শুরু হলে তার বাম পায়ে হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় জুনেইদের বাবা মহম্মদ জামালুদ্দিন ছেলে মহম্মদ জুনেইদকে বৃহস্পতিবার পার্শ্ববর্তী বিহারের কিশানগঞ্জের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য বলে দাবী তার।
কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, "এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক আলোচনা হয়েছে। হরিয়ানার পুলিস তদন্ত করতে পারে, আর সে কারণে আমাদেরও ঝামেলায় পড়তে হতে পারে।" তাই, তারা তাকে ভর্তি করতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ।এই ঘটনার পর জুনেইদ এবং তার পরিবার একটি নতুন সংকটে পড়েছেন। তারা কেবল চিকিৎসার জন্যই চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের হতাশা আরও বাড়ে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)