)
মনোজ মণ্ডল: বাংলার রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ। তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি বা কংগ্রেসের মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোকে ছাপিয়ে গেছে একটি নাম। এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি প্রায় অপরিচিত রাজনৈতিক দল। এই দলটির নাম- 'ন্যাশনালিষ্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া' (NCPI)। তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' সাংসদদের এনসিপিআই-তে যোগদান নিয়ে তুমুল শোরগোল। এই আবহে দলের ভবিষ্যৎ, আদর্শ এবং তৃণমূলের বিক্ষুব্ধদের যোগদান নিয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন এনসিপিআই-র প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু দে।
কে এই শান্তনু দে?
২০২২ সালে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শান্তনু দে প্রথমে দলটির নাম 'ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি' (National Citizen Party) রাখার প্রস্তাব করলেও, পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি (যখন ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল) দলটিকে 'ন্যাশনালিষ্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া' (NCPI) নামে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রি করা হয়।
দলটি প্রতিষ্ঠার পর শান্তনু দে নিজেই 'ন্যাশনাল অর্গানাইজিং সেক্রেটারি' পদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনকে তিনি ত্রিপুরার ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে ছড়িয়ে দেন এবং এই ৭টি আসনেই মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে তাঁর দাবি অনুযায়ী, রাজনৈতিক চাপের কারণে ৪টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় এবং তাঁর ওপর আক্রমণও হয়েছিল। সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁরা ৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম হন। তিনি জানান, এর বিস্তারিত ফলাফল নির্বাচন কমিশনের রেজাল্টেই পাওয়া যাবে।
বিস্ফোরক শান্তনু দে:
বর্তমানে তৃণমূলের বেশ কিছু বিদ্রোহী সাংসদদের এই দলে যোগদানে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন দলের প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু সেন। তৃণমূলের প্রায় ২০ জন বিক্ষুব্ধ সদস্যকে দলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছে বলে দাবি শান্তনু সেনের। তিনি বলেন, 'আমাদের না জানিয়ে উনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তৃণমূলের ২০ জন সদস্যকে নিয়ে উনি দল পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন। আমার সন্দেহ, অর্থের বিনিময়ে বা অন্য কিছুর স্বার্থে উনি দলটাকে বিক্রি করার চেষ্টা করছেন।' তিনি সাফ জানান, দলে যাই করা হোক না কেন, প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর লাগবেই। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের না জানিয়ে এই একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।
এমনকী তৃণমূলের বিদ্রোহীদের যোগদান ভালো চোখে নিচ্ছেন না সাধারণ কর্মীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এতে দলের ভাবমূর্তি ও আদর্শ নষ্ট হবে। শান্তনু সেন জানান, কর্মীরা এই যোগদান সমর্থন করছেন না। প্রয়োজনে তাঁরা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য নেবেন। তবে শান্তনু বাবু যোগদানের ক্ষেত্রে একটি কড়া শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দেশ সুরক্ষিত থাকুক এবং মানুষ যেন তার অধিকার পায়- এই শর্তেই একমাত্র তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের দলে গ্রহণ করা হতে পারে। তার আগে ওই সাংসদদের সরাসরি দলের সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে মিটিং করতে হবে এবং কর্মীদের দেওয়া সকল শর্তে রাজি হতে হবে, তবেই মিলবে ছাড়পত্র।
বিগত ১৫ বছরের শাসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের জন্য কিছু করতে পারেননি বলে তোপ দাগেন শান্তনু দে। তবে বর্তমান সরকারের প্রতি NCPI এখনই কোনো নেতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে না। দল আপাতত বর্তমান সরকারের প্রতি আশাবাদী। কিন্তু সেই আশার বাণী শুনিয়েই শান্তনু বাবু কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন- যদি বর্তমান সরকার মানুষের স্বার্থে কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তবে এই দল কিন্তু সরাসরি সরজমিনে রাজপথে বিরোধিতায় নামবে। প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু দে-র আত্মবিশ্বাসী বার্তা, 'মানুষ চাইলেই এনসিপিআই (NCPI) দলটিকে আগামী দিনে সর্বভারতীয় স্তরে দেখা যাবে।'
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)