)
অরূপ লাহা: ভুয়ো ইডি অফিসার (Fake ED Officer) পরিচয়ে তোলাবাজিতে ধৃত রায়না থানার খেমতার বাসিন্দা সেখ জিন্নার আলির স্ত্রী ও কোম্পানির নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে উদ্ধার ৪৫ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা। অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করেছে ইডি (ED)। এছাড়াও ধৃতের বাড়ি থেকে দু’টি গাড়ি ও বেশকিছু আপত্তিকর জিনিসপত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি। আদালতে পেশ করে ধৃতকে হেফাজতে নিয়েছে ইডি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতারণার বিষয়ে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে ইডি।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এক ব্যবসায়ী 'ইডি অফিসার' (Fake ED Officer) পরিচয়ে তোলাবাজি নিয়ে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় জিন্নারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতেই বিধাননগর থানা কেস রুজু করে। বিষয়টি ইডির নজরে আসে। এরপরই মানি লন্ডারিং অ্যাক্টে তদন্তে নামে ইডি। কলকাতা ও বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় কখনও ইডি অফিসার, আবার কখনও কেন্দ্রীয় সংস্থার অফিসার পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি চালিয়ে আসছিলেন জিন্নার।
কীভাবে তোলাবাজি চালাতেন জিন্নার?
ইডি জানিয়েছে, প্রথমে সে ব্যবসায়ীদের টার্গেট করতেন। তারপর ইডি অফিসার (Fake ED Officer) পরিচয় দিয়ে সেই ব্যবসায়ীকে ফোন করতেন জিন্নার। ব্যবসায়ীকে বিধাননগর পুলিস কমিশনারেট অফিসের সামনে ডেকে পাঠাতেন তিনি। তারপর তাঁর ব্যবসায় নানা গণ্ডগোল আছে বলে জানাতেন। মিটিয়ে দেওয়ার জন্য মোটা টাকা দাবি করতেন। এভাবে এক ব্যবসায়ীর কাছে জিন্নার দেড় কোটি টাকা আদায় করেন। তার মধ্যে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা নগদে এবং ২০ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা নেন। এছাড়াও যে সব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে তাঁদেরও টার্গেট করতে জিন্নার। মিটমাটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি টাকা আদায় করতেন। এভাবেই আরও একজনের কাছ থেকেও দেড় কোটি টাকা আদায় করেন জিন্নার।
ইডির তল্লাশি
বুধবার খেমতায় জিন্নারের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডির একটি দল (ED)। সেখান থেকে ব্যাঙ্কের বেশকিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত হয়। এছাড়াও আরও কিছু আপত্তিকর নথিপত্রও তাঁর বাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট এবং বিভিন্ন সরকারি অফিসের আধিকারিকদের জাল সিল ব্যবহার করে তিনি লোক ঠকিয়েছেন বলে ইডি জানিয়েছে। তাঁর বাড়ি থেকে ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্যাডও মিলেছে। তাতে অশোক স্তম্ভ দেওয়া রয়েছে। এছাড়াও অ্যান্টি ট্রাফিকিং কমিটির চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়েও বিভিন্ন জায়গায় প্রতারণা করেছে বলে ইডির দাবি। তার সংস্থাটি নীতি আয়োগের অধীনে নভিভুক্ত বলে দাবি করতেন জিন্নার। এছাড়াও সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে ওয়েবসাইট খুলে প্রতারণা চালাতেন।
জিন্নারের পূর্ব অপরাধ
তবে এই প্রথম নয়। ২০১১ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের সুতাহাটা থানার পুলিস প্রতারণার একটি মামলায় জিন্নারকে গ্রেপ্তার করে। সুতাহাটা থানা এলাকায় প্রশিক্ষণের নাম করে তিনি একটি অফিস খোলেন। সেখানে প্রশিক্ষণের কথা বলে ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকে মোটা টাকা তোলেন। এছাড়াও চাকরি দেওয়ার নাম করে বেকার ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা নেন বলে অভিযোগ। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয় জিন্নার। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে বর্ধমান সিজেএম আদালতে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন তৎকালীন স্ত্রী-ও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পরামর্শদাতা পরিচয় দিয়ে প্রতারণায় জিন্নার জড়িত বলে তার স্ত্রী অভিযোগ করেন। এমনকি বিদেশ থেকেও তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে বলে আদালতে দায়ের করা অভিযোগে জানানো হয়। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে র্শতাধীন জামিন পায় জিন্নার।
শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে ছবি
এদিকে এহেন ভুয়ো ইডি অফিসার তথা ঠগ, প্রতারক জিন্নারের সঙ্গে শাসকদলের নেতা থেকে মন্ত্রী, বিধায়কের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক উসকে উঠেছে। যদিও এই বিষয়ে বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাসের দাবি, "বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমরা যাঁরা জনপ্রতিনিধি তাঁরা যাই। বিভিন্ন মানুষ আমাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। সেখানে তো আমরা তাঁকে অনেক সময়ে চিনি না বা জানি না।"
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)