)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর আসানসোল লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। ২০০৮ সালে তৈরি হয় পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রটি। তারপর থেকে মাত্র তিনটি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১১ সালে পালাবদলের ভোটের সময়ও পাণ্ডবেশ্বরে সিপিআই(এম)-এর দুর্গ অটুট ছিল। ২০১৬ সালে পাণ্ডবেশ্বরে খাতা খোলে তৃণমূল। তৃণমূলের জিতেন্দ্র কুমার তিওয়ারি সিপিআই(এম)-এর গৌরাঙ্গ চ্যাট্টার্জিকে পরাজিত করে জয়ী হন। কিন্তু পরে এই জিতেন্দ্র তিওয়ারিই আবার বিজেপিতে যোগ দেন।
২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন:
ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP): জিতেন্দ্র কুমার তিওয়ারি।
তৃণমূল কংগ্রেস (AITC): নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (বিদায়ী বিধায়ক, তাকেই এবার টিকিট দিয়েছে তৃণমূল)
জাতীয় কংগ্রেস (INC): উত্তম কুমার রায়।
সিপিআই(এম) CPI(M): প্রবীর কুমার মণ্ডল।
ভোটগ্রহণ : ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
ভোটগণনা: ৪ মে ফলাফল গণনা
ফলাফলের স্ট্যাটাস: ১৩ রাউন্ড গণনার শেষে পাণ্ডবেশ্বরে জয়ী বিজেপির জিতেন্দ্র কুমার তিওয়ারি। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৮০,৫০১। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পেয়েছেন ৭৯,১০৩ ভোট। ১,৩৯৮ ভোটে জয়ী পাণ্ডবেশ্বরে জয়ী বিজেপির জিতেন্দ্র কুমার তিওয়ারি।
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল
বিজেপিতে যোগদানের পর ২০২১ সালে বিজেপির হয়ে ভোটে লড়েন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। কিন্তু হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হন। মাত্র ৩,৮০৩ ভোটে পাণ্ডবেশ্বরে জেতেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তৃণমূলের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৭৩,৯২২। আর বিজেপির জিতেন্দ্র তিওয়ারির প্রাপ্ত ভোট ছিল ৭০,১১৯।
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল
মূলত কয়লাভিত্তিক অর্থনীতির উপরই নির্ভরশীল পাণ্ডবেশ্বর। ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের পাণ্ডবেশ্বর এরিয়ার অন্তর্গত ডালুরবান্দ, খোটাডিহ, মাধাইপুর, মান্দারবনি, দক্ষিণ সামলা সহ বেশ কয়েকটি খনি রয়েছে এখানে। ২০১৯ সালে পাণ্ডবেশ্বরে বিজেপি ভালো ফল করলেও, ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন থেকেই পাণ্ডবেশ্বরে হাওয়া ঘুরতে শুরু করে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস পাণ্ডবেশ্বর এলাকায় ৪০,০২৫ ভোটের বিশাল লিড পায়। যেখানে ২০১৯ সালে বিজেপি ৬,০২১ ভোটে এগিয়ে ছিল। যদিও ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে পাণ্ডবেশ্বরে তৃণমূলের বিপুল লিডের পিছনে ছিলেন তৃণমূলের তারকা প্রার্থী শত্রুঘ্ন সিনহার জনপ্রিয়তা।
আরও পড়ুন, Kharagpur Sadar Assembly election result 2026: সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেই মেগা কামব্যাক- খড়গপুর সদরে জিতলেন 'দাবাং' দিলীপ
বাংলার লড়াই ২০২৬: যে ভোট শুধু ভোট নয়
এবারের বিধানসভা ভোট কোনো সাধারণ নির্বাচন ছিল না। দুই দফায়, দুটো আলাদা তারিখে, ২৯৪টি আসনে যে লড়াই হয়েছে তা আসলে দুটো রাজনৈতিক দর্শনের সংঘাত। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা অস্মিতার আওয়াজ, অন্যদিকে মোদী-শাহের হিন্দুত্বের ঢেউ। বাংলার মাটিতে কোনটা জিতল, সেই হিসেব মিলছে আজ।
দুই দফায় মিটল ভোটের পর্ব
প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে ভোট পড়েছে। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল বাকি ১৪২টি আসনে। রাজ্যজুড়ে মোট ৮০,৭১৯টি বুথে ভোট গ্রহণ হয়েছে। মোট নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন ৬ কোটি ৮২ লাখের কিছু বেশি। দুই দফা মিলিয়ে ভোট পড়েছে ৯২.৯৩ শতাংশ, যা রাজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এসআইআর বিতর্ক
ভোটের আগে থেকেই উত্তাপ ছড়িয়েছিল বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) ইস্যু। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় রাজ্য থেকে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। এদের মধ্যে ৬০ লাখের বেশিকে অনুপস্থিত বা মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের হিসেবে, অনিশ্চিত তালিকার প্রায় ৬৫ শতাংশ মুসলিম ভোটার, পাশাপাশি মতুয়া সম্প্রদায়ের দলিত হিন্দু ভোটাররাও রয়েছে। তৃণমূল দাবি করেছে, এসআইআর-এ অনেক আসল ভোটারের নাম ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। আর বিজেপির দাবি, শুধুমাত্র বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের নাম ছাঁটাই করা হয়েছে।
মোদী-শাহের বাংলা অভিযান
এবার ভোটেও প্রতিবারের মতো দফায় দফায় প্রচারে ছুটে এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর অমিত শাহ রীতিমতো বাংলাতেই ঘাঁটি গেড়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার এবারের বাংলা ভোটে পুরোদস্তুর ময়দানে নেমেছিল। বিপুল সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি এই প্রথম কোনও রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ (NIA)-ও মোতায়েন করা হয়েছে। দুই দফায় রাজ্যে সাড়ে তিন লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী কাজ করেছেন। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা, আরজি কর কাণ্ডকে এবার ভোটে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ্য হাতিয়ার করেছে বিজেপি।
মমতার বাংলা অস্মিতা
অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই এই লড়াইকে বাংলার আত্মসম্মানের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ব্যবহার ও এসআইআর বিতর্ককে বিজেপির বিরুদ্ধে হাতিয়ার করেছেন। প্রচারে মোদী-শাহের বার বার বাংলায় আসাকে রাজ্যের স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পালটা লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবসাথী-সহ একাধিক প্রকল্পকে ঢাল করে ভোটে গিয়েছে তৃণমূল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)